মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জবান আলীর আপিল ‘অ্যাবেটেড’
jugantor
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জবান আলীর আপিল ‘অ্যাবেটেড’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ জুলাই ২০২১, ১৮:৪৯:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জবান আলীর কারাগারে মৃত্যু হওয়ায় তার আপিল শুনানি আর হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলাটির আপিল ‘অ্যাবেটেড’ (চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা) করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার জবান আলীর আপিল শুনানি হয়। পরদিনও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এরইমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ জানতে পারে জবান আলী গত বছরের ২৯ আগস্ট কারাগারে মারা গেছেন। বুধবার সকালে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে সেদিন আপিল শুনানি না করে কারা কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত করেছে কি না, জানতে চান। পরে জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন আদালত এবং বৃহস্পতিবার আদেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মামলাটির আপিল অ্যাবেটেড (চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা) করেছেন আদালত। মামলাটি এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা যায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামে ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল রাত দেড়টায় মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪০) এবং দুই মেয়ে জবা (১২) ও শোভা (৮) খুন হয়। এ ছাড়া সাড়ে চার বছরের আরেক মেয়ে সুমী মারাত্মক আহত হয়। চিকিৎসার পর সুমী সুস্থ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জবান আলীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩১ মে একটি হত্যা মামলা করে। এ মামলায় নীলফামারীর আদালত জবান আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জবান আলী। যার ওপর আপিল বিভাগে গত মঙ্গলবার শুনানি হয়। আসামির নিজস্ব কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্ট্রেট ডিফেন্স) আইনজীবী হাসিনা আক্তার আসামিপক্ষে মামলার বিভিন্ন দুর্বল দিক তুলে ধরে শুনানি করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী কারা মহাপরিদর্শক বরাবরে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এতে বলা হয়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি মো. মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলী (৬২) গত বছরের ২৮ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে ২৯ আগস্ট তিনি মারা যান।

জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি আদালত এবং রাষ্ট্রপক্ষ কাউকেই অবহিত করা হয়নি। তাই মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের তালিকায় ওঠে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জবান আলীর আপিল ‘অ্যাবেটেড’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ জুলাই ২০২১, ০৬:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জবান আলীর কারাগারে মৃত্যু হওয়ায় তার আপিল শুনানি আর হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মামলাটির আপিল ‘অ্যাবেটেড’ (চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা) করেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার জবান আলীর আপিল শুনানি হয়। পরদিনও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। এরইমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ জানতে পারে জবান আলী গত বছরের ২৯ আগস্ট কারাগারে মারা গেছেন। বুধবার সকালে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে সেদিন আপিল শুনানি না করে কারা কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টকে জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত করেছে কি না, জানতে চান। পরে জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন আদালত এবং বৃহস্পতিবার আদেশ দেন। 

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মামলাটির আপিল অ্যাবেটেড (চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘোষণা) করেছেন আদালত। মামলাটি এখানেই সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। 

জানা যায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামে ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল রাত দেড়টায় মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪০) এবং দুই মেয়ে জবা (১২) ও শোভা (৮) খুন হয়। এ ছাড়া সাড়ে চার বছরের আরেক মেয়ে সুমী মারাত্মক আহত হয়। চিকিৎসার পর সুমী সুস্থ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জবান আলীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩১ মে একটি হত্যা মামলা করে। এ মামলায় নীলফামারীর আদালত জবান আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন জবান আলী। যার ওপর আপিল বিভাগে গত মঙ্গলবার শুনানি হয়। আসামির নিজস্ব কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্ট্রেট ডিফেন্স) আইনজীবী হাসিনা আক্তার আসামিপক্ষে মামলার বিভিন্ন দুর্বল দিক তুলে ধরে শুনানি করেন। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী কারা মহাপরিদর্শক বরাবরে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এতে বলা হয়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দি মো. মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলী (৬২) গত বছরের ২৮ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে সেখানে ২৯ আগস্ট তিনি মারা যান। 

জবান আলীর মৃত্যুর বিষয়টি আদালত এবং রাষ্ট্রপক্ষ কাউকেই অবহিত করা হয়নি। তাই মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের তালিকায় ওঠে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন