সামিয়া-মারজানের নিবন্ধ ‘মানহীন’, কীভাবে ছাপা হলো?
jugantor
সামিয়া-মারজানের নিবন্ধ ‘মানহীন’, কীভাবে ছাপা হলো?

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ অক্টোবর ২০২১, ২০:৫৫:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের নিবন্ধ ‘মানহীন’ বলে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।প্রতিবেদনে এ ধরনের নিবন্ধ কীভাবে জার্নালে প্রকাশিত হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর দায় এডিটোরিয়াল বোর্ড ও রিভিউয়াররা এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

শিক্ষক সামিয়া রহমান ও মারজানের গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগের ঘটনায় শাস্তি নির্ধারণের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিয়া রহমান ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ নামক প্রবন্ধটিতে ৬০টি অনুচ্ছেদের মধ্যে প্রায় ৪৮টি অনুচ্ছেদ কপি করা হয়েছে। তন্মধ্যে এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ বইয়ের বিভিন্ন অংশ (পৃষ্ঠা: ৮৭-৯১) থেকে প্রবন্ধটিতে ২৭ শতাংশ কপি করা হয়েছে। এছাড়াও ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ প্রবন্ধ থেকেও আনুমানিক পাঁচ পৃষ্ঠা (৩০ শতাংশ) কপি করা হয়েছে। এমনকি, ফুকোকে নিয়ে রায়ান জ্যাকবসের লেখা থেকেও কোনো রেফারেন্স ছাড়াই নিজেদের লেখায় (৫ শতাংশ) কপি করা হয়েছে। টারনিটিন পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা যায়, এই প্রবন্ধটিতে বিভিন্ন সোর্স থেকে আনিত প্রায় ৭০ শতাংশ টেক্সটের মিল আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেখকদ্বয় এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর লেখাকে সরাসরি নিজেদের বলে দারি করেননি সত্য। তবে সাইটেশনের নিয়মানুযায়ী, সরাসরি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে শব্দসীমা থাকে, যা তারা অনুসরণ করেননি। যদিও লেখকদ্বয় তাদের লিখিত বক্তব্যে বলছেন, প্রবন্ধটি এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর তাত্ত্বিক কাজের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ। প্রবন্ধটির কোথাও এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর বক্তব্যকে নিজেদের বক্তব্য বলে দাবি করেননি। প্রবন্ধটির শেষের দিকে এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর রেফারেন্সও দেওয়া হয়েছে। আর্টিকেলটিতে সাইটেশনের ভুল আছে, তবে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং সাইটেশন ত্রুটি বলে বিবেচনা করা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত আর্টিকেলটি ২০১৬ সালে সাবমিট করা হয়। সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টারনিটিন সফটওয়্যারের সুবিধা ছিল না। যদি থাকত তাহলে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ধরা পড়ত। এমন একটি দুর্বল ও মানহীন প্রবন্ধ কীভাবে ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে ছাপা হলো- তা ট্রাইব্যুনালের নিকট বোধগম্য নয়। রিভিউয়ার ও এডিটোরিয়াল বোর্ড অবশ্যই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এজন্য তারা দায় এড়াতে পারেন না। এ ধরনের ভুলের জন্য এডিটর ও এডিটোরিয়াল বোর্ডকে অভিযুক্ত করা উচিত ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করে।

প্রতিবেদনে ট্রাইব্যুনাল আরও বলেছে, প্রবন্ধটি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে রিভিউ, চূড়ান্তভাবে গ্রহণ ও ছাপানোর প্রক্রিয়াতে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতা রয়েছে বলে প্রত্যক্ষভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এডিটোরিয়াল বোর্ড তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।

ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগটি উত্থাপিত হয় ২০১৭ সালে। তদন্ত শেষ হয় ২০১৯ সালে এবং ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় অক্টোবর ২০২০ সালে। এত দীর্ঘ মেয়াদী তদন্তের ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে, যা কখনো ন্যায়বিচারের জন্য কাম্য নয়। এত দীর্ঘসূত্রিতা মূলত ন্যায়বিচারকে পরাভূত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান ও অপরাধবিজ্ঞান (ক্রিমিনোলজি) বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’র ডিসেম্বর সংখ্যায় ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

তবে প্রকাশিত ওই প্রবন্ধের বিরুদ্ধে ‘চৌর্যবৃত্তি’র অভিযোগ আনে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

শিকাগো প্রেসের অভিযোগ, প্রবন্ধের সিংহভাগ নেয়া হয়েছে প্রখ্যাত দার্শনিক মিশেল ফুকোর প্রবন্ধ ‘দি সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ থেকে। ১৯৮২ সালে তা শিকাগো জার্নালে প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশক ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের প্রকাশিত প্রবন্ধটি আট পৃষ্ঠার। আর এই আট পৃষ্ঠার প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠাই মিশেল ফুকোর ‘দি সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ প্রবন্ধ থেকে হুবহু নেওয়া। শিকাগো জার্নালে প্রকাশিত মিশেল ফুকোর ওই প্রবন্ধ ছিল ১০ পৃষ্ঠার।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে দুটি কমিটি গঠন করে হয়। কমিটির তদন্তে সামিয়া ও মারজানের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির ‘প্রমাণ পাওয়ায়’ সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক পদাবনতি করা হয়। একই সঙ্গে তার গবেষণা সহযোগী অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকেও দুই বছর একই পদে থাকতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা। পরে সেসব সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট শিক্ষক সামিয়া রহমান ও মারজানের গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগের ঘটনায় শাস্তি নির্ধারণের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।

সামিয়া-মারজানের নিবন্ধ ‘মানহীন’, কীভাবে ছাপা হলো?

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমান এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের নিবন্ধ ‘মানহীন’ বলে উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।প্রতিবেদনে এ ধরনের নিবন্ধ কীভাবে জার্নালে প্রকাশিত হলো- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর দায় এডিটোরিয়াল বোর্ড ও রিভিউয়াররা এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

শিক্ষক সামিয়া রহমান ও মারজানের গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগের ঘটনায় শাস্তি নির্ধারণের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবা বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামিয়া রহমান ও সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ নামক প্রবন্ধটিতে ৬০টি অনুচ্ছেদের মধ্যে প্রায় ৪৮টি অনুচ্ছেদ কপি করা হয়েছে। তন্মধ্যে এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ বইয়ের বিভিন্ন অংশ (পৃষ্ঠা: ৮৭-৯১) থেকে প্রবন্ধটিতে ২৭ শতাংশ কপি করা হয়েছে। এছাড়াও ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ প্রবন্ধ থেকেও আনুমানিক পাঁচ পৃষ্ঠা (৩০ শতাংশ) কপি করা হয়েছে। এমনকি, ফুকোকে নিয়ে রায়ান জ্যাকবসের লেখা থেকেও কোনো রেফারেন্স ছাড়াই নিজেদের লেখায় (৫ শতাংশ) কপি করা হয়েছে। টারনিটিন পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা যায়, এই প্রবন্ধটিতে বিভিন্ন সোর্স থেকে আনিত প্রায় ৭০ শতাংশ টেক্সটের মিল আছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেখকদ্বয় এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর লেখাকে সরাসরি নিজেদের বলে দারি করেননি সত্য। তবে সাইটেশনের নিয়মানুযায়ী, সরাসরি উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে শব্দসীমা থাকে, যা তারা অনুসরণ করেননি। যদিও লেখকদ্বয় তাদের লিখিত বক্তব্যে বলছেন, প্রবন্ধটি এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর তাত্ত্বিক কাজের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ। প্রবন্ধটির কোথাও এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর বক্তব্যকে নিজেদের বক্তব্য বলে দাবি করেননি। প্রবন্ধটির শেষের দিকে এডওয়ার্ড সাঈদ বা মিশেল ফুকোর রেফারেন্সও দেওয়া হয়েছে। আর্টিকেলটিতে সাইটেশনের ভুল আছে, তবে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং সাইটেশন ত্রুটি বলে বিবেচনা করা যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত আর্টিকেলটি ২০১৬ সালে সাবমিট করা হয়। সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টারনিটিন সফটওয়্যারের সুবিধা ছিল না। যদি থাকত তাহলে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ধরা পড়ত। এমন একটি দুর্বল ও মানহীন প্রবন্ধ কীভাবে ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে ছাপা হলো- তা ট্রাইব্যুনালের নিকট বোধগম্য নয়। রিভিউয়ার ও এডিটোরিয়াল বোর্ড অবশ্যই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এজন্য তারা দায় এড়াতে পারেন না। এ ধরনের ভুলের জন্য এডিটর ও এডিটোরিয়াল বোর্ডকে অভিযুক্ত করা উচিত ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করে। 

প্রতিবেদনে ট্রাইব্যুনাল আরও বলেছে, প্রবন্ধটি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে রিভিউ, চূড়ান্তভাবে গ্রহণ ও ছাপানোর প্রক্রিয়াতে অস্বচ্ছতা ও অদক্ষতা রয়েছে বলে প্রত্যক্ষভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এডিটোরিয়াল বোর্ড তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি। 

ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে, ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগটি উত্থাপিত হয় ২০১৭ সালে। তদন্ত শেষ হয় ২০১৯ সালে এবং ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় অক্টোবর ২০২০ সালে। এত দীর্ঘ মেয়াদী তদন্তের ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে। একইভাবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে, যা কখনো ন্যায়বিচারের জন্য কাম্য নয়। এত দীর্ঘসূত্রিতা মূলত ন্যায়বিচারকে পরাভূত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান ও অপরাধবিজ্ঞান (ক্রিমিনোলজি) বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’র ডিসেম্বর সংখ্যায় ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।

তবে প্রকাশিত ওই প্রবন্ধের বিরুদ্ধে ‘চৌর্যবৃত্তি’র অভিযোগ আনে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

শিকাগো প্রেসের অভিযোগ, প্রবন্ধের সিংহভাগ নেয়া হয়েছে প্রখ্যাত দার্শনিক মিশেল ফুকোর প্রবন্ধ ‘দি সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ থেকে। ১৯৮২ সালে তা শিকাগো জার্নালে প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশক ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের প্রকাশিত প্রবন্ধটি আট পৃষ্ঠার। আর এই আট পৃষ্ঠার প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠাই মিশেল ফুকোর ‘দি সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ প্রবন্ধ থেকে হুবহু নেওয়া। শিকাগো জার্নালে প্রকাশিত মিশেল ফুকোর ওই প্রবন্ধ ছিল ১০ পৃষ্ঠার।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তৎকালীন  উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে দুটি কমিটি গঠন করে হয়। কমিটির তদন্তে সামিয়া ও মারজানের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির ‘প্রমাণ পাওয়ায়’ সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক পদাবনতি করা হয়। একই সঙ্গে তার গবেষণা সহযোগী অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকেও দুই বছর একই পদে থাকতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভা। পরে সেসব সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট শিক্ষক সামিয়া রহমান ও মারজানের গবেষণায় জালিয়াতির অভিযোগের ঘটনায় শাস্তি নির্ধারণের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন