হাইকোর্টের আদেশ না মেনে সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘পালালেন’ বাবা
jugantor
হাইকোর্টের আদেশ না মেনে সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘পালালেন’ বাবা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ নভেম্বর ২০২১, ২২:১৮:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও হাজির না হয়ে তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন বাংলাদেশি বাবা শাহিনুর টি আই এম নবী।

রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চকে এ তথ্য জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান।

আদালতে শিশুর মায়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম ও ব্যারিস্টার ফাইজা মেহরিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এর আগে শিশুসহ তার বাবাকে এদিন বিকাল ৩টার মধ্যে হাজির করতে ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। শুনানিকালে গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান আদালতকে জানান, ১৬ নভেম্বর ওই শিশুকে নিয়ে তার বাবা অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন।

এ সময় আদালত রাষ্ট্রপক্ষে থাকা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারের কাছে জানতে চান, শিশুসহ বাবার দেশত্যাগের ঘটনা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে কিনা? জবাবে তিনি বলেন, এটি অবশ্যই আদালত অবমাননার শামিল। পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দিন নির্ধারণ করেন।

১৬ নভেম্বর শিশু সন্তানকে নিয়ে তার বাবা বাংলাদেশি নাগরিক শাহিনুর টি আই এম নবীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। শিশুর মা ভারতীয় নাগরিক সাদিকা সাঈদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট দুই মাসের জন্য ওই শিশুকে ভারতীয় নাগরিক মা সাদিকা সাঈদের হেফাজতে রাখতে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) ব্যবস্থাপনায় থাকবে ওই মা ও শিশু। তবে বাংলাদেশি বাবা সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শিশুর সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। এই দুই মাস সাদিকা সাঈদের পাসপোর্ট গুলশান থানায় জমা রাখতে বলা হয়।

তবে হাইকোর্টের আদেশের পর শিশুর বাবা তার সন্তানকে উন্নত পরিবেশে গুলশান রাখার ইচ্ছার কথা জানান। শিশুর মঙ্গলের কথা চিন্তা করে মা রাজি হন। এরপর থেকে গুলশান ক্লাবেই শিশুর মাসহ তারা অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে বেড়ানোর কথা বলে গুলশান ক্লাব থেকে শিশুকে নিয়ে যান তার বাবা। এরপর আর শিশুকে গুলশান ক্লাবে মায়ের কাছে দিয়ে যাননি তিনি। এর মধ্যে শিশুর মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পরে ১৫ নভেম্বর শিশুটিকে হাজির করতে শাহিনুর টি আই এম নবীর আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু শিশুর বাবা আইনজীবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি, এ কারণে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

২০১৭ সালে হায়দারাবাদে সাদিকা সাঈদ শেখ ও শাহিনুর টি আই এম নবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস শুরু করেন তারা। কয়েক মাস পর ঢাকায় চলে আসেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালে এই দম্পতির পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। পরে সাদিকার বোন মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (ফ্লাড) কাছে আইনি সহায়তা চান। এরপর গত ৮ আগস্ট সাদিকা শেখ ও তার শিশু সন্তানসহ আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন ফ্লাডের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক লুলান চৌধুরী।

হাইকোর্টের আদেশ না মেনে সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ‘পালালেন’ বাবা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ নভেম্বর ২০২১, ১০:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও হাজির না হয়ে তিন বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন বাংলাদেশি বাবা শাহিনুর টি আই এম নবী।

রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চকে এ তথ্য জানিয়েছেন গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান।

আদালতে শিশুর মায়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম ও ব্যারিস্টার ফাইজা মেহরিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এর আগে শিশুসহ তার বাবাকে এদিন বিকাল ৩টার মধ্যে হাজির করতে ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। শুনানিকালে গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান আদালতকে জানান, ১৬ নভেম্বর ওই শিশুকে নিয়ে তার বাবা অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন।

এ সময় আদালত রাষ্ট্রপক্ষে থাকা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমারের কাছে জানতে চান, শিশুসহ বাবার দেশত্যাগের ঘটনা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে কিনা? জবাবে তিনি বলেন, এটি অবশ্যই আদালত অবমাননার শামিল। পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দিন নির্ধারণ করেন।

১৬ নভেম্বর শিশু সন্তানকে নিয়ে তার বাবা বাংলাদেশি নাগরিক শাহিনুর টি আই এম নবীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। শিশুর মা ভারতীয় নাগরিক সাদিকা সাঈদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট দুই মাসের জন্য ওই শিশুকে ভারতীয় নাগরিক মা সাদিকা সাঈদের হেফাজতে রাখতে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) ব্যবস্থাপনায় থাকবে ওই মা ও শিশু। তবে বাংলাদেশি বাবা সপ্তাহে তিন দিন সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত শিশুর সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। এই দুই মাস সাদিকা সাঈদের পাসপোর্ট গুলশান থানায় জমা রাখতে বলা হয়।

তবে হাইকোর্টের আদেশের পর শিশুর বাবা তার সন্তানকে উন্নত পরিবেশে গুলশান রাখার ইচ্ছার কথা জানান। শিশুর মঙ্গলের কথা চিন্তা করে মা রাজি হন। এরপর থেকে গুলশান ক্লাবেই শিশুর মাসহ তারা অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে বেড়ানোর কথা বলে গুলশান ক্লাব থেকে শিশুকে নিয়ে যান তার বাবা। এরপর আর শিশুকে গুলশান ক্লাবে মায়ের কাছে দিয়ে যাননি তিনি। এর মধ্যে শিশুর মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। 

পরে ১৫ নভেম্বর শিশুটিকে হাজির করতে শাহিনুর টি আই এম নবীর আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু শিশুর বাবা আইনজীবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি, এ কারণে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

২০১৭ সালে হায়দারাবাদে সাদিকা সাঈদ শেখ ও শাহিনুর টি আই এম নবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বসবাস শুরু করেন তারা। কয়েক মাস পর ঢাকায় চলে আসেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালে এই দম্পতির পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। পরে সাদিকার বোন মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (ফ্লাড) কাছে আইনি সহায়তা চান। এরপর গত ৮ আগস্ট সাদিকা শেখ ও তার শিশু সন্তানসহ আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন ফ্লাডের পরিচালক ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষক লুলান চৌধুরী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন