বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিচার শুরু
jugantor
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিচার শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৫৪:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিচার শুরু

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। ফলে এবি ব্যাংকের সোয়া ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় এই চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে আগামী ২ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামিদের মধ্যে আসলামের স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলা জামিনে ছিলেন। আর আসলামের দুই ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও আমজাদ হোসেন চৌধুরী পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসলাম চৌধুরীর পারিবারিক মালিকানাধীন রাইজিং স্টিল লিমিটেড পুরাতন জাহাজ ক্রয়ের জন্য ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনটি ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে এবি ব্যাংক চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৫ টাকা ঋণ নিয়ে- তা পরিশোধ করেননি।

রাইজিং স্টার লিমিটেড ওই শাখায় প্রথম এলসি খোলে ২০০৮ সালে। দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দামে পুরনো জাহাজ আমদানি করে তা বিক্রি করলেও ব্যাংকের ঋণ পুরোটা পরিশোধ করেনি।

প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংক ২০ কোটি ৮২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পাওনা থাকার পরেও ২০১১ সালে আরও একটি এলসির মাধ্যমে একটি জাহাজ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। এই এলসির বিপরীতেও প্রতিষ্ঠানটি ২৬ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে ১৬৫ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা ও ২০১৩ সালে ১৩৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার দুটি এলসির বিপরীতে আরও দুটি জাহাজ আমদানি করে তা বাজারে বিক্রি করলেও কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।

বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির দুটি দলিল ও তিনটি চেক জামানত হিসেবে দেয়। এসবের জামিনদার ছিলেন আসলাম চৌধুরী নিজে।

এবি ব্যাংকে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিকলাল দাশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে এই মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে দুদক।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা আসলাম চৌধুরী। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওই বছরের ২৬ মে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রব্বানী।

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিচার শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিচার শুরু
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। ফলে এবি ব্যাংকের সোয়া ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় এই চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে আগামী ২ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

অভিযোগ গঠনের সময় আসামিদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামিদের মধ্যে আসলামের স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলা জামিনে ছিলেন। আর আসলামের দুই ভাই জসিম উদ্দিন চৌধুরী ও আমজাদ হোসেন চৌধুরী পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসলাম চৌধুরীর পারিবারিক মালিকানাধীন রাইজিং স্টিল লিমিটেড পুরাতন জাহাজ ক্রয়ের জন্য ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনটি ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে এবি ব্যাংক চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৫ টাকা ঋণ নিয়ে- তা পরিশোধ করেননি।

রাইজিং স্টার লিমিটেড ওই শাখায় প্রথম এলসি খোলে ২০০৮ সালে। দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি ৯৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দামে পুরনো জাহাজ আমদানি করে তা বিক্রি করলেও ব্যাংকের ঋণ পুরোটা পরিশোধ করেনি।

প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাংক ২০ কোটি ৮২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পাওনা থাকার পরেও ২০১১ সালে আরও একটি এলসির মাধ্যমে একটি জাহাজ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। এই এলসির বিপরীতেও প্রতিষ্ঠানটি ২৬ কোটি ৪৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে ১৬৫ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা ও ২০১৩ সালে ১৩৪ কোটি ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টাকার দুটি এলসির বিপরীতে আরও দুটি জাহাজ আমদানি করে তা বাজারে বিক্রি করলেও কোনো টাকা পরিশোধ করেনি।

বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের সম্পত্তির দুটি দলিল ও তিনটি চেক জামানত হিসেবে দেয়। এসবের জামিনদার ছিলেন আসলাম চৌধুরী নিজে।

এবি ব্যাংকে ৩২৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক মানিকলাল দাশ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।  ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট তদন্ত শেষে আদালতে এই মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে দুদক।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রামের আলোচিত নেতা আসলাম চৌধুরী। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওই বছরের ২৬ মে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রব্বানী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর