কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি
jugantor
কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি

  বাসস  

৩১ জুলাই ২০২০, ১৭:২১:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি
ফাইল ছবি

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন কোরবানির পশু বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এজন্য অতিরিক্ত জনবল, যানবাহনসহ অন্যান্য লজিস্টিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে কাজ করবে সংস্থা দুটি।

নির্ধারিত স্থানেই পশু কোরবানি দিতে নগরবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

গত বছরের ঈদুল আজহায় কোরবানি থেকে প্রায় ৪০ হাজার টন বর্জ্য হয়। এবার করোনা পরিস্থিতিতে পশু কোরবানি কম বলে ধারণা করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। তবুও এ পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই কাজ করা হচ্ছে বলে জানান সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসি এলাকায় ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান বলেন, ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় ঈদের দিন প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে, যা দৈনন্দিন বর্জ্য থেকে প্রায় ৩ গুণ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য যাতে যথাসময়ে দ্রুত অপসারণ করা যায় এবং জনগণ যাতে স্বস্থির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য অপসারণ সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা জানান, ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে ৫৪টি ওয়ার্ডে পশু কোরবানির জন্য ২৫৬টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। হালাল ও শুদ্ধভাবে পশু কোরবানি করার জন্য ২৫০ জন ইমাম ও ২৫০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গরুর হাটের বর্জ্য ও ওয়ার্ড ভিত্তিক অতিরিক্ত উৎপাদিত বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থায়নের জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোরবানি বর্জ্য অপসারণের জন্য মাঠ পর্যায়ে ডিএনসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং পিডব্লিউসিএসপি কর্মীসহ ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ডিএনসিসির অফিসিয়াল সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রস্তুত থাকবে। এ জন্য সর্বস্তরের কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ভারী ও হালকা ৪৩০টি যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে ১১টি পানি গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানিকৃত স্থান দূষণমুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ রক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রায় ৫১ টন ব্লিচিং পাউডার ও ৯৬০ ক্যান তরল জীবাণুনাশক বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সম্মতভাবে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৬ লাখ বর্জ্যবাহী ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জনসাধারণের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা ও অভিযোগ রেকর্ড করে সমাধানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। ব্লিচিং ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাইকিং, লিফলেট, এলইডি ও টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে যত্রতত্র পশু জবাই করা থেকে বিরত ও পরিবেশ সম্মতভাবে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং বর্জ্যবাহী ব্যাগে বর্জ্য সংরক্ষণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঈদের দিন ও ঈদের পরের ২দিন বর্জ্যবাহী গাড়ি চলাচলে যানজট মুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মেট্রোপলিটন ও ট্রাফিক বিভাগকে পত্র দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া করোনাকালীন ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রেখে কোরবানি করার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডিএনসিসি’র কন্ট্রোল রুমের নম্বর- ০২-৫৮৮১৪২২০; ০৯৬০-২২২২৩৩৩; এবং ০৯৬০-২২২২৩৩৪

এদিকে ডিএসসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন জানান, এবার পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য ২৪ ঘণ্টায় অপসারণে কাজ করবে সংস্থার ৬ হাজার পরিছন্নতাকর্মী।

তিনি জানান, কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠু তদারকির লক্ষ্যে নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে একটি মনিটরিং কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিএসসিসি’র বিভাগীয় প্রধানগণ ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন পরিক্রমায় দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে সচিত্র মনিটরিংয়ের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী সহকারে আরেকটি টিম গঠন করা হয়েছে, যারা ৭৫টি ওয়ার্ডে সরেজমিনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করবেন।

এছাড়াও, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার যে কোনো নাগরিক ফোন করে বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত তথ্য জানতে কন্ট্রোল রুমের ০১৭০৯৯০০৭০৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। ডিএসসিসি অধিভুক্ত এলাকার যে কোনো নাগরিক বা গণমাধ্যম কর্মী এই নম্বরে ফোন করে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ জানালে তা অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ডিএসসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানান, কোরবানি ঈদের দিন প্রায় ৫.৫ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে। বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ডিএসসিসি থেকে প্রায় ১ লাখ বিশেষ ধরনের ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। ডিএসসিসি’র ৭৫টি ওয়ার্ডে ৭৫টি নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করা হবে। এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ডিএসসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীসহ মোট ৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং ডিএসসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রস্তুত থাকবে। প্রতিদিনকার সৃষ্ট বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বর্জ্য অপসারণের জন্য ভারী ও হালকা মোট ৩০০টি যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে ১২টি পানির গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানির স্থান দূষণমুক্ত করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রায় ৪২ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১৮০০ লিটার তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হবে।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি

 বাসস 
৩১ জুলাই ২০২০, ০৫:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি
ফাইল ছবি

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন কোরবানির পশু বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এজন্য অতিরিক্ত জনবল, যানবাহনসহ অন্যান্য লজিস্টিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে কাজ করবে সংস্থা দুটি।

নির্ধারিত স্থানেই পশু কোরবানি দিতে নগরবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

গত বছরের ঈদুল আজহায় কোরবানি থেকে প্রায় ৪০ হাজার টন বর্জ্য হয়। এবার করোনা পরিস্থিতিতে পশু কোরবানি কম বলে ধারণা করছে দুই সিটি কর্পোরেশন। তবুও এ পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই কাজ করা হচ্ছে বলে জানান সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসিসি এলাকায় ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর বর্জ্য এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান বলেন, ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় ঈদের দিন প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে, যা দৈনন্দিন বর্জ্য থেকে প্রায় ৩ গুণ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য যাতে যথাসময়ে দ্রুত অপসারণ করা যায় এবং জনগণ যাতে স্বস্থির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য অপসারণ সুষ্ঠুভাবে সমাধানের জন্য সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

কোরবানির পশু বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা জানান, ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে ৫৪টি ওয়ার্ডে পশু কোরবানির জন্য ২৫৬টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। হালাল ও শুদ্ধভাবে পশু কোরবানি করার জন্য ২৫০ জন ইমাম ও ২৫০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গরুর হাটের বর্জ্য ও ওয়ার্ড ভিত্তিক অতিরিক্ত উৎপাদিত বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থায়নের জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোরবানি বর্জ্য অপসারণের জন্য মাঠ পর্যায়ে ডিএনসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং পিডব্লিউসিএসপি কর্মীসহ ১১ হাজার ৫০৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ডিএনসিসির অফিসিয়াল সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রস্তুত থাকবে। এ জন্য সর্বস্তরের কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ভারী ও হালকা ৪৩০টি যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে ১১টি পানি গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানিকৃত স্থান দূষণমুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ রক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রায় ৫১ টন ব্লিচিং পাউডার ও ৯৬০ ক্যান তরল জীবাণুনাশক বিতরণ করা হবে। পরিবেশ সম্মতভাবে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৬ লাখ বর্জ্যবাহী ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জনসাধারণের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা ও অভিযোগ রেকর্ড করে সমাধানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। ব্লিচিং ও স্যাভলন মিশ্রিত পানি ছিটানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসাকে পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাইকিং, লিফলেট, এলইডি ও টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে যত্রতত্র পশু জবাই করা থেকে বিরত ও পরিবেশ সম্মতভাবে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং বর্জ্যবাহী ব্যাগে বর্জ্য সংরক্ষণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঈদের দিন ও ঈদের পরের ২দিন বর্জ্যবাহী গাড়ি চলাচলে যানজট মুক্ত রাখার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মেট্রোপলিটন ও ট্রাফিক বিভাগকে পত্র দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া করোনাকালীন ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রেখে কোরবানি করার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডিএনসিসি’র কন্ট্রোল রুমের নম্বর- ০২-৫৮৮১৪২২০; ০৯৬০-২২২২৩৩৩; এবং ০৯৬০-২২২২৩৩৪

এদিকে ডিএসসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন জানান, এবার পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য ২৪ ঘণ্টায় অপসারণে কাজ করবে সংস্থার ৬ হাজার পরিছন্নতাকর্মী।

তিনি জানান, কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠু তদারকির লক্ষ্যে নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে একটি মনিটরিং কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিএসসিসি’র বিভাগীয় প্রধানগণ ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন পরিক্রমায় দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে সচিত্র মনিটরিংয়ের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারী সহকারে আরেকটি টিম গঠন করা হয়েছে, যারা ৭৫টি ওয়ার্ডে সরেজমিনে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকি করবেন।

এছাড়াও, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার যে কোনো নাগরিক ফোন করে বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত তথ্য জানতে কন্ট্রোল রুমের ০১৭০৯৯০০৭০৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন। ডিএসসিসি অধিভুক্ত এলাকার যে কোনো নাগরিক বা গণমাধ্যম কর্মী এই নম্বরে ফোন করে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ জানালে তা অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ডিএসসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানান, কোরবানি ঈদের দিন প্রায় ৫.৫ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হবে। বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ডিএসসিসি থেকে প্রায় ১ লাখ বিশেষ ধরনের ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। ডিএসসিসি’র ৭৫টি ওয়ার্ডে ৭৫টি নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই করা হবে। এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ডিএসসিসির নিজস্ব, আউটসোর্সিং এবং প্রাইমারি ওয়েস্ট কালেকশন সার্ভিস প্রোভাইডার (পিডব্লিউসিএসপি) কর্মীসহ মোট ৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং ডিএসসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রস্তুত থাকবে। প্রতিদিনকার সৃষ্ট বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বর্জ্য অপসারণের জন্য ভারী ও হালকা মোট ৩০০টি যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে ১২টি পানির গাড়ির মাধ্যমে স্যাভলন ও ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে কোরবানির স্থান দূষণমুক্ত করা হবে। পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণমুক্ত রাখার লক্ষ্যে প্রায় ৪২ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১৮০০ লিটার তরল জীবাণুনাশক ছিটানো হবে।