জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়ে যা বললেন ডিজি
jugantor
জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়ে যা বললেন ডিজি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৪৭:০০  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়ে যা বললেন ডিজি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির রোধে তথ্য ভান্ডারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

ডিজি জানান, এসব কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তথ্য গোপন করে দুইবার ভোটার হওয়ায় এ পর্যন্ত ৯৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জালিয়াতির কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ পায়। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রকল্পের কয়েক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ওইসব ঘটনায় নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি ঢাকায় এনআইডি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আইডিইএ প্রকল্পের আউটসোর্সিং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দুইজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাাণিত হওয়ায় গত ৮ বছরে সর্বমোট ৩৯ জনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ায় ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেনের দুটি এনআইডি লক করা হয়েছে। একইসঙ্গে গুলশান থানা নির্বাচন অফিসারকে বাদী করে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি কীভাবে দুই বার ভোটার হয়েছেন এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা- তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশন ও বুয়েট প্রতিনিধিসহ আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় ৬টি এনআইডি জালিয়াতির ঘটনা প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে এই ঘটনা তদন্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয়জন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করা হয়। ওই ঘটনায় ইসির একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি বন্ধে সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চলবে জানিয়ে মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার প্রত্যেক থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০টি টিমের মাধ্যমে সাঁড়াশি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ঠেকাতে ইসির পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি রোধে করা একার দায়িত্ব না, সামগ্রিক দায়িত্ব। এটি নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ কমিটি কাজ করছে। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। ইসির কর্মকতাদেরও নজরদারি করা হচ্ছে। আর এনআইডি নিতে যেসব দলিল লাগে সেগুলো কীভাবে রোহিঙ্গারা পায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দ্বৈত ভোটার প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় এ পর্যন্ত ৯৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়ে ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দ্বৈত ভোটার হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়ে যা বললেন ডিজি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি নিয়ে যা বললেন ডিজি
ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। ফাইল ছবি

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির রোধে তথ্য ভান্ডারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। 

ডিজি জানান, এসব কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।  তথ্য গোপন করে দুইবার ভোটার হওয়ায় এ পর্যন্ত ৯৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য জালিয়াতির কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ পায়।  এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রকল্পের কয়েক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ওইসব ঘটনায় নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি। সম্প্রতি ঢাকায় এনআইডি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আইডিইএ প্রকল্পের আউটসোর্সিং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দুইজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাাণিত হওয়ায় গত ৮ বছরে সর্বমোট ৩৯ জনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয় এবং কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।

তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ায় ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেনের দুটি এনআইডি লক করা হয়েছে। একইসঙ্গে গুলশান থানা নির্বাচন অফিসারকে বাদী করে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি কীভাবে দুই বার ভোটার হয়েছেন এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা- তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তদন্তের জন্য নির্বাচন কমিশন ও বুয়েট প্রতিনিধিসহ আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

কুষ্টিয়ায় ৬টি এনআইডি জালিয়াতির ঘটনা প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে এই ঘটনা তদন্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ছয়জন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক করা হয়। ওই ঘটনায় ইসির একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি বন্ধে সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চলবে জানিয়ে মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।  ইতোমধ্যে ঢাকার প্রত্যেক থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০টি টিমের মাধ্যমে সাঁড়াশি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে। 

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকাভুক্তি ঠেকাতে ইসির পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি রোধে করা একার দায়িত্ব না, সামগ্রিক দায়িত্ব। এটি নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ কমিটি কাজ করছে। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। ইসির কর্মকতাদেরও নজরদারি করা হচ্ছে। আর এনআইডি নিতে যেসব দলিল লাগে সেগুলো কীভাবে রোহিঙ্গারা পায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দ্বৈত ভোটার প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় এ পর্যন্ত ৯৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়ে ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি।  যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দ্বৈত ভোটার হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। 

 
আরও খবর