ভাঙ্গা পড়ছে কমলাপুর রেলস্টেশন!
jugantor
ভাঙ্গা পড়ছে কমলাপুর রেলস্টেশন!

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ নভেম্বর ২০২০, ১৯:২৫:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাঙ্গা পড়ছে কমলাপুর রেলস্টেশন!

মেট্রোরেলের স্থাপনার জন্য দেশের ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর রেলস্টেশন অন্যত্র সরানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান স্টেশন ভবনটি ভাঙা পড়বে।

বর্তমান স্থানে কমলাপুর স্টেশনটি থাকলে নির্মাণাধীন মেগা প্রকল্প ঢাকা মেট্রোরেলের স্থাপনার আড়ালে পড়ে যাবে। আবার এই স্টেশনকে ঘিরে নেয়া মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর রেলস্টেশনটি কিছুটা উত্তরে সরিয়ে নিতে বলেছে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রেল ভবনে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বৈঠকে এ বিষয়ে কারিগরি দিক তুলে ধরে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজিমা কর্পোরেশনের নেতৃত্বে একটি সাবওয়ার্কিং গ্রুপ। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

দেশের মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল এবং এর সব স্টেশনই উড়ালপথে মাটি থেকে কমবেশি ১৩ মিটার ওপরে নির্মিত হবে। নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। উত্তরা থেকে শুরু হওয়া মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত এর শেষ স্টেশন পড়েছে। কমলাপুর স্টেশনের ঠিক সামনে পড়ছে মেট্রোরেলের শেষ স্টেশন।

এদিকে, মেট্রোরেলের পথ বদল করা হবে নাকি কমলাপুর স্টেশন অন্যত্র সরানো হবে- এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মেট্রোরেল কমলাপুর স্টেশনের সৌন্দর্যহানি করবে। তাই মেট্রোরেলের পথ পরিবর্তন করা হোক।

কিন্তু মেট্রোরেলের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পথ পরিবর্তন করতে নারাজ। সংস্থাটির ভাষ্য, মেট্রোরেলের পথ পরিবর্তন করলে ২-৩ কিলোমিটার পথ বেড়ে যাবে। এতে খরচও বাড়বে।

শেষমেশ জাপানের কাজিমা কর্পোরেশনের নকশা ধরে কমলাপুর স্টেশনটিই ১৩০ মিটার উত্তরে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে আগের ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের (ডিজি) মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মেট্রোরেলের কারণে কমলাপুর স্টেশন আড়ালে পড়ে গেলে এর সৌন্দর্য আর থাকবে না। তাই সরিয়ে নেয়াই উত্তম।

২০১৮ সালে সরকারি–বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব করার প্রকল্পের নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয় সরকার। প্রকল্পটির অধীনে কমলাপুর স্টেশনের চারপাশে হোটেল, শপিংমল, পাতাল ও উড়ালপথ, বহুতল আবাসন ভবনসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে রেলের ডিজি জানান, শাহজাহানপুরসহ আশপাশের রেলের জায়গাজুড়ে বিস্তৃত কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমান কমলাপুর রেলস্টেশনের আদলেই নতুন স্টেশন নির্মিত হবে। ৫ বছরের মধ্যেই কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়ন শেষ হতে সময় লাগতে পারে ১০ বছর।

ভাঙ্গা পড়ছে কমলাপুর রেলস্টেশন!

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভাঙ্গা পড়ছে কমলাপুর রেলস্টেশন!
ফাইল ছবি

মেট্রোরেলের স্থাপনার জন্য দেশের ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর রেলস্টেশন অন্যত্র সরানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।  ফলে বিদ্যমান স্টেশন ভবনটি ভাঙা পড়বে।

বর্তমান স্থানে কমলাপুর স্টেশনটি থাকলে নির্মাণাধীন মেগা প্রকল্প ঢাকা মেট্রোরেলের স্থাপনার আড়ালে পড়ে যাবে। আবার এই স্টেশনকে ঘিরে নেয়া মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ প্রকল্পও বাধাগ্রস্ত হবে। এজন্য ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর রেলস্টেশনটি কিছুটা উত্তরে সরিয়ে নিতে বলেছে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান। 

জানা গেছে, মঙ্গলবার রেল ভবনে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বৈঠকে এ বিষয়ে কারিগরি দিক তুলে ধরে জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজিমা কর্পোরেশনের নেতৃত্বে একটি সাবওয়ার্কিং গ্রুপ। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। 

দেশের মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল এবং এর সব স্টেশনই উড়ালপথে মাটি থেকে কমবেশি ১৩ মিটার ওপরে নির্মিত হবে।  নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। উত্তরা থেকে শুরু হওয়া মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত এর শেষ স্টেশন পড়েছে।  কমলাপুর স্টেশনের ঠিক সামনে পড়ছে মেট্রোরেলের শেষ স্টেশন।  

এদিকে, মেট্রোরেলের পথ বদল করা হবে নাকি কমলাপুর স্টেশন অন্যত্র সরানো হবে- এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। তবে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মেট্রোরেল কমলাপুর স্টেশনের সৌন্দর্যহানি করবে। তাই মেট্রোরেলের পথ পরিবর্তন করা হোক। 

কিন্তু মেট্রোরেলের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) পথ পরিবর্তন করতে নারাজ। সংস্থাটির ভাষ্য, মেট্রোরেলের পথ পরিবর্তন করলে ২-৩ কিলোমিটার পথ বেড়ে যাবে। এতে খরচও বাড়বে। 

শেষমেশ জাপানের কাজিমা কর্পোরেশনের নকশা ধরে কমলাপুর স্টেশনটিই ১৩০ মিটার উত্তরে সরিয়ে নেয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে আগের ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের (ডিজি) মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মেট্রোরেলের কারণে কমলাপুর স্টেশন আড়ালে পড়ে গেলে এর সৌন্দর্য আর থাকবে না। তাই সরিয়ে নেয়াই উত্তম।

২০১৮ সালে সরকারি–বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব করার প্রকল্পের নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয় সরকার।  প্রকল্পটির অধীনে কমলাপুর স্টেশনের চারপাশে হোটেল, শপিংমল, পাতাল ও উড়ালপথ, বহুতল আবাসন ভবনসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে রেলের ডিজি জানান, শাহজাহানপুরসহ আশপাশের রেলের জায়গাজুড়ে বিস্তৃত কমলাপুর স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলা হবে।  এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমান কমলাপুর রেলস্টেশনের আদলেই নতুন স্টেশন নির্মিত হবে।  ৫ বছরের মধ্যেই কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়ন শেষ হতে সময় লাগতে পারে ১০ বছর।