বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু
jugantor
বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:৪১:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

মহামারিকালে বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু

মহামারি করোনাকালে জাতীয় সংসদের চলতি বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় চলমান একাদশ সংসদের ১১তম অধিবেশন শুরু হয়।

নিয়ম অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন। এবার অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন- নজরুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন সরকার, আব্দুস সালাম মুর্দেশী, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মমতাজ বেগম।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

পরে অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়নের পর স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাবেক সংসদ সদস্য আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, খালেদুর রহমান টিটো, শাহ-ই-জাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ আবু হেনা, এমএ হাসেম, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন খান, সামসুদ্দীন আহমেদ, নুরজাহান ইয়াসমিন, খালেদা পান্নার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী কোরবান আলীর মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী শেখ রাজিয়া নাসের, জা রওশন আরা ওয়াহেদ, এমপি হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানম, কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা মিয়া, কবি মনজুরে মাওলা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান, অভিনেতা আলী যাকের, সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ শাহাদাৎ হোসেন খান, বীর উত্তম ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ, অভিনেতা আবদুল কাদের, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের স্ত্রী বুলা আহাম্মেদ, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতেও সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়।

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যেসব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন-পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

এ সময় স্পিকার বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে জাতীয় সংসদ গভীর শোক প্রকাশ, সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবগুলো ব্যতীত যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তার বা তাদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে দিলে তা পরবর্তীতে শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিবেচনা করা হবে।

সাধারণত বছরের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা অধিবেশন জুড়ে ওই ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। তবে করোনার কারণে এবারের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছেন সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।এবার ১২ থেকে ১৪ কার্যদিবস অধিবেশন চালানো হতে পারে।

মহামারিকালের অন্য চারটি অধিবেশনের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতার কারণে সীমিত সংখ্যক সংসদ সদস্য অধিবেশনে অংশ নেবেন। প্রথম দিন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এরপর প্রতি কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৯০ জনকে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মরতদেরও অধিবেশন চলার সময় সংসদ ভবনে প্রবেশ সীমিত থাকবে। একমাত্র দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংসদে ঢুকতে পারবেন। তবে তাদের করোনাভাইরাস নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে।

সংসদ অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা শুধুমাত্র প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ ভবনে যাওয়ার অনুমতি পান। সেজন্য প্রত্যেক সংবাদমাধ্যম থেকে একজন প্রতিবেদককে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানো হয়েছে।

এর আগে বিশেষ অধিবেশনসহ গত ৪টি অধিবেশন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হয়। প্রতি কার্যদিবসে ৭০-৮০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। করোনার ঝুঁকি এড়াতে মাঝখানে গ্যাপ দিয়ে দিয়ে আসন বিন্যাস করা হয়। সংসদ অধিবেশন চলাকালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর সংসদের ১০ অধিবেশন শেষ হয়। ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনটি ছিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষেওই অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর বিশেষ আলোচনা ও সাধারণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০৫:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মহামারিকালে বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু
ফাইল ছবি

মহামারি করোনাকালে জাতীয় সংসদের চলতি বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় চলমান একাদশ সংসদের ১১তম অধিবেশন শুরু হয়।

নিয়ম অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন।  এবার অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন- নজরুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন সরকার, আব্দুস সালাম মুর্দেশী, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মমতাজ বেগম।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

পরে অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়নের পর স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাবেক সংসদ সদস্য আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, খালেদুর রহমান টিটো, শাহ-ই-জাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ আবু হেনা, এমএ হাসেম, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন খান, সামসুদ্দীন আহমেদ, নুরজাহান ইয়াসমিন, খালেদা পান্নার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী কোরবান আলীর মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী শেখ রাজিয়া নাসের, জা রওশন আরা ওয়াহেদ, এমপি হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানম, কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা মিয়া, কবি মনজুরে মাওলা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান, অভিনেতা আলী যাকের, সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ শাহাদাৎ হোসেন খান, বীর উত্তম ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ, অভিনেতা আবদুল কাদের, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের স্ত্রী বুলা আহাম্মেদ, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতেও সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়।

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যেসব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন-পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

এ সময় স্পিকার বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে জাতীয় সংসদ গভীর শোক প্রকাশ, সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। উত্থাপিত শোকপ্রস্তাবগুলো ব্যতীত যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে তার বা তাদের নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে দিলে তা পরবর্তীতে শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিবেচনা করা হবে।

সাধারণত বছরের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা অধিবেশন জুড়ে ওই ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।  তবে করোনার কারণে এবারের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছেন সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।এবার ১২ থেকে ১৪ কার্যদিবস অধিবেশন চালানো হতে পারে।

মহামারিকালের অন্য চারটি অধিবেশনের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতার কারণে সীমিত সংখ্যক সংসদ সদস্য অধিবেশনে অংশ নেবেন। প্রথম দিন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এরপর প্রতি কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৯০ জনকে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মরতদেরও অধিবেশন চলার সময় সংসদ ভবনে প্রবেশ সীমিত থাকবে। একমাত্র দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংসদে ঢুকতে পারবেন। তবে তাদের করোনাভাইরাস নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। 

সংসদ অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা শুধুমাত্র প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ ভবনে যাওয়ার অনুমতি পান। সেজন্য প্রত্যেক সংবাদমাধ্যম থেকে একজন প্রতিবেদককে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানো হয়েছে।

এর আগে বিশেষ অধিবেশনসহ গত ৪টি অধিবেশন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হয়। প্রতি কার্যদিবসে ৭০-৮০ জন সংসদ সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। করোনার ঝুঁকি এড়াতে মাঝখানে গ্যাপ দিয়ে দিয়ে আসন বিন্যাস করা হয়। সংসদ অধিবেশন চলাকালে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর সংসদের ১০ অধিবেশন শেষ হয়। ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনটি ছিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন। ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে ওই অধিবেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর বিশেষ আলোচনা ও সাধারণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।