দেশের ৮৪% লোক ভ্যাকসিন নিতে চায়, বেশি আগ্রহী নারীরা
jugantor
দেশের ৮৪% লোক ভ্যাকসিন নিতে চায়, বেশি আগ্রহী নারীরা

  ঢাবি প্রতিনিধি  

২৭ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২৪:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের ৮৪% লোক ভ্যাকসিন নিতে চায়, বেশি আগ্রহী নারীরা

সম্প্রতি দুই দফায় ভারত থেকে করোনার ভ্যাকসিন আমদানি করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর ভ্যাকসিন আসার পর সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন তৈরি হয়েছে আশা, তেমনি অনেকের মনে ভ্যাকসিন না পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কাও।

এদিকে সম্প্রতি ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন দেশের একদল গবেষক। এতে সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতের জন্য ‘ভ্যাকসিন মডেলিং’ করে টিকা আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ‘কোভিড-১৯ টিকার প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিরোনামে করা গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে মঙ্গলবার। দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি জেলা ও ১৬টি উপজেলা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জনসমাগম বেশি হয় এমন জায়গায় সিস্টেমেটিক দৈবচয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে জরিপে ৩৫৬০ জন অংশগ্রহণকারী বাছাই করা হয়।

গবেষণা থেকে পাওয়া যায় যে, প্রায় ৮৪% লোক টিকা নিতে আগ্রহী। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই টিকাদান কর্মসূচি চালুর শুরুতেই টিকা নিতে প্রস্তুত নয়। ৩২% লোক টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে চায়, আর বাকি প্রায় ৫২% জনগণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস অপেক্ষা করে টিকা নিতে চায়। বরং কিছুদিন অপেক্ষা করে এই কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তারপর নিতে চায়। আর ১৬% কখনই টিকা নিতে চায় না। পাশাপাশি নারীদের মাঝে টিকা গ্রহণে আগ্রহীর সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি। বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হলে উচ্চ আয়ের মানুষের চেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের টিকা গ্রহণ করার আগ্রহ বেশি দেখা যায়। তবে যদি বিনামূল্যে না দেওয়া হয়, তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষরা তুলনামূলকভাবে অনেক কম নিতে চান।

কেন এত বিশাল একটা অংশ এই মুহূর্তে টিকা নিতে আগ্রহী নয়, সে বিষয়ে এই গবেষণার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে সরকার গবেষণায়প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে ‘ভ্যাকসিন মডেলিং’-এর মাধ্যমে কখন, কী পরিমাণ টিকা আমদানি করলে বাংলাদেশের বিদ্যমান স্টোরেজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় সে অনুযায়ী টিকা আমদানি করার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয় এই গবেষণায়।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ যুগান্তরকে বলেন, টিকা নিয়ে মানুষের মাঝে নানা সংশয় আছে। আমরা দেখেছি ৩২% মানুষ এখনই টিকা নিতে চায় আর ৮৪% বলেছে তারা নেবে একটা পর্যায়ে। আর ৩২% টিকা নেবে কি না, এটা নির্ভর করবে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর অর্থাৎ সরকার কত সহজে টিকা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছে। এটার জন্য সরকার অ্যাপস তৈরি করেছে, এটিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু এর মধ্যে যারা মধ্যসত্ত্বভোগী থাকবেন তারা যেন স্বেচ্ছাসেবী হয়। নয়তো বা মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কারণে টিকার আগ্রহ কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসে আমাদের টিকা আসতেছে তিন কোটি ডোজ। আর এই তিন কোটি ডোজ দিয়ে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। কারণ যারা টিকা নেবেন আট সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবার দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। আর এখন যদি চার কোটি মানুষ টিকা নিতে চায় তাহলে সরকার কী করবে সেটা চিন্তার বিষয়। আমরা স্বেচ্ছায় আমাদের গবেষণা করেছি। এখন সরকার যদি আমাদের ডাকে, তাহলে আমরা মডেলিং করে দেব আমাদের সে ধরনের ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি (অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা) আছে।

দেশের ৮৪% লোক ভ্যাকসিন নিতে চায়, বেশি আগ্রহী নারীরা

 ঢাবি প্রতিনিধি 
২৭ জানুয়ারি ২০২১, ০৯:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দেশের ৮৪% লোক ভ্যাকসিন নিতে চায়, বেশি আগ্রহী নারীরা
বাংলাদেশে বুধবার প্রথম টিকা নেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। ছবি: যুগান্তর

সম্প্রতি দুই দফায় ভারত থেকে করোনার ভ্যাকসিন আমদানি করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর ভ্যাকসিন আসার পর সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন তৈরি হয়েছে আশা, তেমনি অনেকের মনে ভ্যাকসিন না পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কাও। 

এদিকে সম্প্রতি ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের চিন্তাভাবনা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন দেশের একদল গবেষক। এতে সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতের জন্য ‘ভ্যাকসিন মডেলিং’ করে টিকা আমদানির সুপারিশ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ‘কোভিড-১৯ টিকার প্রতি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক শিরোনামে করা গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে মঙ্গলবার। দেশের ৮টি বিভাগের ৮টি জেলা ও ১৬টি উপজেলা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জনসমাগম বেশি হয় এমন জায়গায় সিস্টেমেটিক দৈবচয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে জরিপে ৩৫৬০ জন অংশগ্রহণকারী বাছাই করা হয়। 

গবেষণা থেকে পাওয়া যায় যে, প্রায় ৮৪% লোক টিকা নিতে আগ্রহী। কিন্তু বেশিরভাগ লোকই টিকাদান কর্মসূচি চালুর শুরুতেই টিকা নিতে প্রস্তুত নয়। ৩২% লোক টিকা প্রদান কার্যক্রম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে চায়, আর বাকি প্রায় ৫২% জনগণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস অপেক্ষা করে টিকা নিতে চায়। বরং কিছুদিন অপেক্ষা করে এই কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে তারপর নিতে চায়। আর ১৬% কখনই টিকা নিতে চায় না। পাশাপাশি নারীদের মাঝে টিকা গ্রহণে আগ্রহীর সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি। বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হলে উচ্চ আয়ের মানুষের চেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের টিকা গ্রহণ করার আগ্রহ বেশি দেখা যায়। তবে যদি বিনামূল্যে না দেওয়া হয়, তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষরা তুলনামূলকভাবে অনেক কম নিতে চান।

কেন এত বিশাল একটা অংশ এই মুহূর্তে টিকা নিতে আগ্রহী নয়, সে বিষয়ে এই গবেষণার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে সরকার গবেষণায়প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে  ‘ভ্যাকসিন মডেলিং’-এর মাধ্যমে কখন, কী পরিমাণ টিকা আমদানি করলে বাংলাদেশের বিদ্যমান স্টোরেজের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয় সে অনুযায়ী টিকা আমদানি করার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয় এই গবেষণায়।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ যুগান্তরকে বলেন, টিকা নিয়ে মানুষের মাঝে নানা সংশয় আছে। আমরা দেখেছি ৩২% মানুষ এখনই টিকা নিতে চায় আর ৮৪% বলেছে তারা নেবে একটা পর্যায়ে। আর ৩২% টিকা নেবে কি না, এটা নির্ভর করবে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর অর্থাৎ সরকার কত সহজে টিকা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারছে। এটার জন্য সরকার অ্যাপস তৈরি করেছে, এটিকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু এর মধ্যে যারা মধ্যসত্ত্বভোগী  থাকবেন তারা যেন স্বেচ্ছাসেবী হয়। নয়তো বা মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কারণে টিকার আগ্রহ কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসে আমাদের টিকা আসতেছে তিন কোটি ডোজ। আর এই তিন কোটি ডোজ দিয়ে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে। কারণ যারা টিকা নেবেন আট সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবার দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। আর এখন যদি চার কোটি মানুষ টিকা নিতে চায় তাহলে সরকার কী করবে সেটা চিন্তার বিষয়। আমরা স্বেচ্ছায় আমাদের গবেষণা করেছি। এখন সরকার যদি আমাদের ডাকে, তাহলে আমরা মডেলিং করে দেব আমাদের সে ধরনের ইন্টেলেকচুয়াল ক্যাপাসিটি (অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা) আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস