পৌরসভার ভোটে নিহতের ঘটনায় ইসি দুঃখিত
jugantor
পৌরসভার ভোটে নিহতের ঘটনায় ইসি দুঃখিত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:১৬:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পৌরসভার ভোটে নিহতের ঘটনায় ইসি দুঃখিত

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। চারঘাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও কয়েকটি পৌরসভায় ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি পৌরসভার কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বাকি পৌরসভাগুলোতে তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচনী সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়, এজন্য আমরা সবাই দুঃখিত।

তিনি বলেন, ২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি, দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

সৈয়দপুরে একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচিব বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এজন্য আমরা সবাই দুঃখিত। সৈয়দপুরে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পাশে কেন্দ্র থেকে দূরে দু’টি গাড়ির মাঝে ছোটন অধিকারী নামের একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় ছিল। তাকে পুলিশ উদ্ধার করে হসপিটালে নেওয়ার পর মারা যায়। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সুরতহালে এরকমই পাওয়া গেছে। কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলতে পারব। ভোটকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে দুই প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কেমন হয়েছে- সেটি আপনারাই বলতে পারবেন। আমি তো মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে। যদি ওই ঘটনাটি, যে মৃত্যুটি সেটি কোনো পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এখন এই মৃত্যুটি কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্ত হলেই আমরা বুঝতে পারব। আমাদের মূল্যায়ণে এখন পর্যন্ত আমরা মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে।

নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, যদি কেউ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে, এটি নিতান্তই তার ইচ্ছে। তিনি করতেই পারেন। তিনি যদি আমাদের অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। আমাদের ফিল্ড লেভেলে রিটার্নিং অফিসার আছে, আমাদের ল’ অ্যান্ড এনফোর্সিং এজেন্সি আছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে; কাজেই সবাই কিন্তু আইনশৃঙ্খলা দেখেন। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার জন্য মূল ব্যক্তি হলো রিটার্নিং অফিসার। তাদের কাছে অভিযোগ করে থাকে, যদি কমিশনেও যদি তারা কোনো ধরনের অভিযোগ করে থাকেন, তদন্ত করে দেখব। আজকে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আপনারা জানেন চারঘাটে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, কোনো দুষ্কৃতকারী চার্জ করেছে। সেখানে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছে। রিটার্নিং অফিসার আমাদের জানিয়েছেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।

ইভিএমে জালভোট দিতে গেলে একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিামানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠে অ্যাকশন ছিল। যার কারণেই আমরা বলতে পারি, যে এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থগিত চারটি কেন্দ্রের ভোটও সুষ্ঠু হয়েছে। তাই বলতে পারি, যে কেউ ইচ্ছা করলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন। এটি নিতান্তই তার ব্যাপার।

পৌরসভার ভোটে নিহতের ঘটনায় ইসি দুঃখিত

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পৌরসভার ভোটে নিহতের ঘটনায় ইসি দুঃখিত
ফাইল ছবি

পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনেও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় সৈয়দপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। চারঘাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও কয়েকটি পৌরসভায় ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি পৌরসভার কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বাকি পৌরসভাগুলোতে তেমন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। 

নির্বাচনী সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়, এজন্য আমরা সবাই দুঃখিত। 

তিনি বলেন, ২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি, দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। 

সৈয়দপুরে একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সচিব বলেন, কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এজন্য আমরা সবাই দুঃখিত। সৈয়দপুরে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পাশে কেন্দ্র থেকে দূরে দু’টি গাড়ির মাঝে ছোটন অধিকারী নামের একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় ছিল। তাকে পুলিশ উদ্ধার করে হসপিটালে নেওয়ার পর মারা যায়। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সুরতহালে এরকমই পাওয়া গেছে। কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তার মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলতে পারব। ভোটকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে দুই প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কেমন হয়েছে- সেটি আপনারাই বলতে পারবেন। আমি তো মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে। যদি ওই ঘটনাটি, যে মৃত্যুটি সেটি কোনো পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এখন এই মৃত্যুটি কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্ত হলেই আমরা বুঝতে পারব। আমাদের মূল্যায়ণে এখন পর্যন্ত আমরা মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে।

নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, যদি কেউ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে, এটি নিতান্তই তার ইচ্ছে। তিনি করতেই পারেন। তিনি যদি আমাদের অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। আমাদের ফিল্ড লেভেলে রিটার্নিং অফিসার আছে, আমাদের ল’ অ্যান্ড এনফোর্সিং এজেন্সি আছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে; কাজেই সবাই কিন্তু আইনশৃঙ্খলা দেখেন। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার জন্য মূল ব্যক্তি হলো রিটার্নিং অফিসার। তাদের কাছে অভিযোগ করে থাকে, যদি কমিশনেও যদি তারা কোনো ধরনের অভিযোগ করে থাকেন, তদন্ত করে দেখব। আজকে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আপনারা জানেন চারঘাটে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, কোনো দুষ্কৃতকারী চার্জ করেছে। সেখানে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছে। রিটার্নিং অফিসার আমাদের জানিয়েছেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠু  হয়েছে। 

ইভিএমে জালভোট দিতে গেলে একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিামানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠে অ্যাকশন ছিল। যার কারণেই আমরা বলতে পারি, যে এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থগিত চারটি কেন্দ্রের ভোটও সুষ্ঠু হয়েছে। তাই বলতে পারি, যে কেউ ইচ্ছা করলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন। এটি নিতান্তই তার ব্যাপার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন