‘কত মৃত্যু হলে সরবে পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গুদাম?’
jugantor
‘কত মৃত্যু হলে সরবে পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গুদাম?’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৩ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৪৪:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোররাত সোয়া তিনটার দিকে ওই ভবনে আগুন লাগে।ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট ৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই ভবনের পাশের একটি ভবনের একজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওই ভবনের নিচে রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে। তার দাবি, আশপাশের প্রায় সব ভবনেই এ ধরনের গুদাম রয়েছে।আর কত মৃত্যু হলে আবাসিক ভবনগুলোতে রাসায়নিকের গুদাম সরানো হবে- এ প্রশ্ন পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের।

আরেক বাসিন্দা বলেন, প্রত্যেক বছরই কোনো না কোনো ভবনে এই রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।পুরান ঢাকায় বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এই রাসায়নিক গুদাম থেকে।ওইসব ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গুদাম বা দোকান স্থাপনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা আজও দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টায় পারফিউমের ফ্যাক্টরি ও গোডাউনে অগ্নিদুর্ঘটনায় ৭১ জন প্রাণ হারান। এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৩ জন প্রাণ হারান। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর সরকারের পক্ষ থেকে আবারও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

পুলিশও মনে করছে, রাসায়নিকের গুদাম থেকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ভবনটিতে আগুন লেগেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির ভাষ্য, ভবনের নিচতলার মার্কেটে ১৬ থেকে ২০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে রাসায়নিক পণ্য কেনাবেচা হতো। ভবনের নিচতলার পেছনের দিকের একটি রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভবনটির নিচতলায় দোকানগুলোতে রাসায়নিক পণ্য বিক্রি হতো। রাসায়নিক পণ্য বিক্রির কোনো দোকানের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ভবনের নিচতলায় পেছনের দিকে বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলায় দোকান ও গুদামের ভেতরে পুড়ে যাওয়া বড় বড় ড্রামগু ও রাসায়নিক পণ্য কেনাবেচায় ব্যবহৃত কনটেইনার পড়ে আছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো বোঝা যায়নি।আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে- তা তদন্ত করে দেখা হবে।আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

জানা গেছে, এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত দল।রাসায়নিক থেকে আগুনের সূত্রপাত কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে এই টিম।

শুক্রবার ভোররাতে আরমানিটোলার হাজি মুসা ম্যানশনের নিচতলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছয়তলা ভবনটিতে নিচতলায় দোকান ও রাসায়নিক গুদাম ছিল বলে এলাকাবাসী জানান। অন্য ফ্লোরে লোকজন ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বংশাল থানার ওসি মো. শাহীন ফকির জানান, ভবনের ওপরের তলায় নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে তারা ওয়ালিউল্লাহ ও কবির নামের দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকালে নিরাপত্তাকর্মী রাসেল ও সুমাইয়া নামে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমাইয়া ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।

এ ঘটনায় আহত ২১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তাদের মধ্যে ৪ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চারজনের শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

‘কত মৃত্যু হলে সরবে পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গুদাম?’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোররাত সোয়া তিনটার দিকে ওই ভবনে আগুন লাগে।ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট ৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই ভবনের পাশের একটি ভবনের একজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওই ভবনের নিচে রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে। তার দাবি, আশপাশের প্রায় সব ভবনেই এ ধরনের গুদাম রয়েছে।আর কত মৃত্যু হলে আবাসিক ভবনগুলোতে রাসায়নিকের গুদাম সরানো হবে- এ প্রশ্ন পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের।

আরেক বাসিন্দা বলেন, প্রত্যেক বছরই কোনো না কোনো ভবনে এই রাসায়নিক গুদাম থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।পুরান ঢাকায় বেশ কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এই রাসায়নিক গুদাম থেকে।ওইসব ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে আবাসিক ভবনে রাসায়নিক গুদাম বা দোকান স্থাপনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা আজও দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টায় পারফিউমের ফ্যাক্টরি ও গোডাউনে অগ্নিদুর্ঘটনায় ৭১ জন প্রাণ হারান। এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৩ জন প্রাণ হারান। নিমতলী ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর সরকারের পক্ষ থেকে আবারও একই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

পুলিশও মনে করছে, রাসায়নিকের গুদাম থেকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ভবনটিতে আগুন লেগেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির ভাষ্য, ভবনের নিচতলার মার্কেটে ১৬ থেকে ২০টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে রাসায়নিক পণ্য কেনাবেচা হতো। ভবনের নিচতলার পেছনের দিকের একটি রাসায়নিকের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভবনটির নিচতলায় দোকানগুলোতে রাসায়নিক পণ্য বিক্রি হতো। রাসায়নিক পণ্য বিক্রির কোনো দোকানের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ভবনের নিচতলায় পেছনের দিকে বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলায় দোকান ও গুদামের ভেতরে পুড়ে যাওয়া বড় বড় ড্রামগু ও রাসায়নিক পণ্য কেনাবেচায় ব্যবহৃত কনটেইনার পড়ে আছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো বোঝা যায়নি।আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে- তা তদন্ত করে দেখা হবে।আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

জানা গেছে, এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে যাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত দল।রাসায়নিক থেকে আগুনের সূত্রপাত কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে এই টিম।

শুক্রবার ভোররাতে আরমানিটোলার হাজি মুসা ম্যানশনের নিচতলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছয়তলা ভবনটিতে নিচতলায় দোকান ও রাসায়নিক গুদাম ছিল বলে এলাকাবাসী জানান। অন্য ফ্লোরে লোকজন ভাড়া নিয়ে বসবাস করত।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বংশাল থানার ওসি মো. শাহীন ফকির জানান, ভবনের ওপরের তলায় নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে তারা ওয়ালিউল্লাহ ও কবির নামের দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকালে নিরাপত্তাকর্মী রাসেল ও সুমাইয়া নামে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমাইয়া ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। 

এ ঘটনায় আহত ২১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।তাদের মধ্যে ৪ জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চারজনের শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন