সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল শফিউদ্দিন
jugantor
সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল শফিউদ্দিন

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২১, ১৮:০০:৫৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

দায়িত্বগ্রহণের পর নবনিযুক্ত সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর পর সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান করে এবং সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনীপ্রধানকে 'জেনারেল' র‌্যাংকব্যাজ পরিয়ে দেন।

জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনা শহরের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন অধ্যাপক, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এক নাগাড়ে দীর্ঘ দুই যুগ একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে খুলনাবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর খুলনাবাসী শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ তার নামে ‘প্রফেসর রোকন উদ্দিন সড়ক’-এর নামকরণ করে।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৯ম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। কমিশনপরবর্তী তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানপূর্বক তার সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টারস ইন ডিফেন্স স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) থেকে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এ প্রথম বিভাগে অসামান্য ফলসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিইউপির অধীনে পিএইচডি সম্পন্নের উদ্দেশ্যে অধ্যয়নরত আছেন। জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১০ সালে সফলতার সঙ্গে চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি (এনডিইউ) থেকে ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ কোর্স এবং মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে আর্মি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে North East South Asia (NESA) Centre কর্তৃক পরিচালিত এক্সিকিউটিভ সেমিনার কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং NESA-এর গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সম্মানিত হন।

তার বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, ১৯ পদাতিক ডিভিশন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিস্টিক সফর মেশন কমান্ড করেন। এ ছাড়া তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কমান্ড নিযুক্তিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (বিআইআইএস) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪-১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড ন্যাশনস্ মাল্টি ডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্য সেন্ট্রাল আফ্রিকাতে (মিনুস্কা) বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য মিশন প্রধান স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্যা সেক্রেটারি জেনারেল (এসআরএসজি) কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৩-৯৪ সালে মোজাম্বিকে শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ফরমেশন সদর দপ্তরে সিনিয়র অপারেশনাল এবং প্রশাসনিক স্টাফ অফিসারসহ সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাডেট কলেজ ও প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) চিফ অব ডকট্রিন ডিভিশন এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি সেনাসদরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ও বেগম নুরজাহান আহমেদ দম্পতি দুই কন্যাসন্তানের গর্বিত পিতামাতা।

সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিলেন জেনারেল শফিউদ্দিন

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২১, ০৬:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তিনি জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

দায়িত্বগ্রহণের পর নবনিযুক্ত সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর পর সেনাকুঞ্জে সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে 'গার্ড অব অনার' প্রদান করে এবং সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান নবনিযুক্ত সেনাবাহিনীপ্রধানকে  'জেনারেল' র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর খুলনা শহরের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম শেখ মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন অধ্যাপক, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এক নাগাড়ে দীর্ঘ দুই যুগ একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে খুলনাবাসীর কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর খুলনাবাসী শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ তার নামে ‘প্রফেসর রোকন উদ্দিন সড়ক’-এর নামকরণ করে।

জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৯ম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করেন। কমিশনপরবর্তী তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন এলাকায় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানপূর্বক তার সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টারস ইন ডিফেন্স স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) থেকে ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এ প্রথম বিভাগে অসামান্য ফলসহ এমফিল সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বিইউপির অধীনে পিএইচডি সম্পন্নের উদ্দেশ্যে অধ্যয়নরত আছেন। জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ এমআইএসটি গোল্ড মেডেল অর্জনসহ প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০১০ সালে সফলতার সঙ্গে চীনের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি (এনডিইউ) থেকে ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ কোর্স এবং মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে আর্মি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি তিনি ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে North East South Asia (NESA) Centre কর্তৃক পরিচালিত এক্সিকিউটিভ সেমিনার কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং NESA-এর গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সম্মানিত হন।

তার বর্ণাঢ্য চাকরি জীবনে তিনি জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, ১৯ পদাতিক ডিভিশন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একমাত্র লজিস্টিক সফর মেশন কমান্ড করেন। এ ছাড়া তিনি একটি পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কাউন্টার ইন্সারজেন্সি অপারেশন এলাকায় একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে কমান্ড নিযুক্তিতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (বিআইআইএস) মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে একজন পাইওনিয়ার ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে ২০১৪-১৬ পর্যন্ত ইউনাইটেড ন্যাশনস্ মাল্টি ডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন দ্য সেন্ট্রাল আফ্রিকাতে (মিনুস্কা) বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং অসামান্য কর্মদক্ষতা প্রদর্শনের জন্য মিশন প্রধান স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্যা সেক্রেটারি জেনারেল (এসআরএসজি) কর্তৃক সাইটেশন প্রাপ্ত হন। এ ছাড়া তিনি ১৯৯৩-৯৪ সালে মোজাম্বিকে শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন ফরমেশন সদর দপ্তরে সিনিয়র অপারেশনাল এবং প্রশাসনিক স্টাফ অফিসারসহ সিনিয়র ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, প্রশিক্ষক হিসেবে ক্যাডেট কলেজ ও প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) চিফ অব ডকট্রিন ডিভিশন এবং সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি সেনাসদরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ও বেগম নুরজাহান আহমেদ দম্পতি দুই কন্যাসন্তানের গর্বিত পিতামাতা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন