গাছ না কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
jugantor
গাছ না কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জুন ২০২১, ২২:৩১:০৭  |  অনলাইন সংস্করণ

গাছ না কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব: মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, গাছ না কেটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব।

রাজধানীর গণপূর্ত মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চলমান কার্যক্রম অবহিতকরণ ও উদ্যানকে সবুজায়ন-শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় অংশ নেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু গাছ কাটা পড়ায় পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে সরব হয়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রাখতে বলেন হাইকোর্ট। গাছ কাটা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মশালায় বসল।

মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক জহুরুল ইসলাম রোহেল, স্থাপত্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি আসিফ আহমেদ ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমুজাদ্দাদি আলফাসানি, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী শাখাওয়াত হোসাইন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক এবং এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনজুরুল আহসান বুলবুল, দীপ্ত টেলিভিশনের সিইও ফুয়াদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতোমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্যানে আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহ সৃষ্টি, দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিকমানে স্থাপনা নির্মাণে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের যে কোনো দেশে স্থাপনা করার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তা হয় না। এটা দুঃখজনক। এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নির্মাণ কাজের নকশা দেখে মনে হচ্ছে, এটি পার্কের মতোই। এটা বিনোদন কেন্দ্র হওয়া উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে পরিবেশ ঠিক রেখে নকশা সংশোধন করা প্রয়োজন। আমরা স্বাধীনতা স্তম্ভ চাই, তবে সেটা পরিবেশ এবং প্রতিবেশ ধ্বংস করে নয়।

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বলেন, নকশাটি দেখে ‘ব্যথিত’ হয়েছি। কারণ এতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনাগুলো ফুটে উঠেনি। খাবার দোকান, টয়লেট মাটির নিচে করার পক্ষে মত দেন তিনি।

নাসির উদ্দিন বলেন, উদ্যানে গাছপালা আরও বাড়াতে হবে। বিদেশি প্রজাতির গাছ না লাগিয়ে বিলুপ্তপ্রায় দেশি প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে।

মোজাম্মেল বাবু খাবার দোকান, টয়লেট মাটির নিচে করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ৫০ ফুট ওয়াকওয়ে কেন করা হচ্ছে? এটার কোনো প্রয়োজন আছে কি? এখানে তো কোনো গাড়ি চলবে না।

সবার কথা শুনে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬০ থেকে ৭০টি গাছ কাটতে হয়েছে, আর সর্বোচ্চ ১০টি গাছ কাটতে হতে পারে। কিন্তু সেখানে বহু গাছ লাগাব। একশ টন অক্সিজেনের যদি ক্ষতি হয়, আমরা পাঁচশ টনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বাণিজ্যিক অর্থে সেখানে কোনো ফুড কিয়স্ক তৈরি হচ্ছে না। এখানে যারা আসবে তারা যেন ৬-৭ ঘণ্টা থাকার পর কিনে কিছু খেতে পারে, তার ব্যবস্থা থাকবে।

আর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামীম আখতার বলেন, এ অবস্থায় প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন আনা সম্ভবপর নয়। তৃতীয় পর্যায়ে অধিকাংশ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু কাজ আছে সেটি করা হচ্ছে। তাই সেখানে বেশিকিছু পরিবর্তন করা এখন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের বিষয়ে কনসার্ন।

গাছ না কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জুন ২০২১, ১০:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গাছ না কেটে প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব: মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী
ফাইল ছবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, গাছ না কেটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব। 

রাজধানীর গণপূর্ত মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চলমান কার্যক্রম অবহিতকরণ ও উদ্যানকে সবুজায়ন-শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় অংশ নেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ কিছু গাছ কাটা পড়ায় পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে সরব হয়। বিষয়টি আদালতে গড়ালে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ রাখতে বলেন হাইকোর্ট। গাছ কাটা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মশালায় বসল।

মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তার, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মহাপরিচালক জহুরুল ইসলাম রোহেল, স্থাপত্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান স্থপতি আসিফ আহমেদ ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমুজাদ্দাদি আলফাসানি, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী শাখাওয়াত হোসাইন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক এবং এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনজুরুল আহসান বুলবুল, দীপ্ত টেলিভিশনের সিইও ফুয়াদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন। 

মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতোমধ্যে শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা স্তম্ভ ও ভূগর্ভস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্যানে আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহ সৃষ্টি, দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিকমানে স্থাপনা নির্মাণে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

কর্মশালায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের যে কোনো দেশে স্থাপনা করার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তা হয় না। এটা দুঃখজনক। এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নির্মাণ কাজের নকশা দেখে মনে হচ্ছে, এটি পার্কের মতোই। এটা বিনোদন কেন্দ্র হওয়া উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে পরিবেশ ঠিক রেখে নকশা সংশোধন করা প্রয়োজন। আমরা স্বাধীনতা স্তম্ভ চাই, তবে সেটা পরিবেশ এবং প্রতিবেশ ধ্বংস করে নয়।

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বলেন, নকশাটি দেখে ‘ব্যথিত’ হয়েছি। কারণ এতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনাগুলো ফুটে উঠেনি। খাবার দোকান, টয়লেট মাটির নিচে করার পক্ষে মত দেন তিনি।

নাসির উদ্দিন বলেন, উদ্যানে গাছপালা আরও বাড়াতে হবে। বিদেশি প্রজাতির গাছ না লাগিয়ে বিলুপ্তপ্রায় দেশি প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে।

মোজাম্মেল বাবু খাবার দোকান, টয়লেট মাটির নিচে করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ৫০ ফুট ওয়াকওয়ে কেন করা হচ্ছে? এটার কোনো প্রয়োজন আছে কি? এখানে তো কোনো গাড়ি চলবে না।

সবার কথা শুনে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬০ থেকে ৭০টি গাছ কাটতে হয়েছে, আর সর্বোচ্চ ১০টি গাছ কাটতে হতে পারে। কিন্তু সেখানে বহু গাছ লাগাব। একশ টন অক্সিজেনের যদি ক্ষতি হয়, আমরা পাঁচশ টনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। বাণিজ্যিক অর্থে সেখানে কোনো ফুড কিয়স্ক তৈরি হচ্ছে না। এখানে যারা আসবে তারা যেন ৬-৭ ঘণ্টা থাকার পর কিনে কিছু খেতে পারে, তার ব্যবস্থা থাকবে।

আর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সামীম আখতার বলেন, এ অবস্থায় প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন আনা সম্ভবপর নয়। তৃতীয় পর্যায়ে অধিকাংশ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কিছু কাজ আছে সেটি করা হচ্ছে। তাই সেখানে বেশিকিছু পরিবর্তন করা এখন সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের বিষয়ে কনসার্ন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন