ডিএসসিসির দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী চাকরিচ্যুত, একজন বরখাস্ত
jugantor
নটর ডেম ছাত্রের মৃত্যু
ডিএসসিসির দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী চাকরিচ্যুত, একজন বরখাস্ত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ২২:১৬:২৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ডিএসসিসির দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী চাকরিচ্যুত, একজন বরখাস্ত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়িচাপায় রাজধানীর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় দুই জনকে চাকরিচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সংস্থাটির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক অফিস আদেশ গণমাধ্যমে পাঠান।

ডিএসসিসি থেকে অবৈধভাবে গাড়ি বরাদ্দ করে চালানোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. হারুন মিয়া ও গাড়ি চালানোর কাজে সহযোগিতা করায় আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আবদুর রাজ্জাককে কর্মচ্যুত করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী হারুন মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক দৈনিক মজুরিতে কাজ করছিলেন। তারা করপোরেশনের স্থায়ী কর্মী নন।

এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মী হলেন গাড়িচালক (ভারী) মো. ইরান মিয়া। তিনি করপোরেশনের নিয়োগপ্রাপ্ত গাড়িচালক। নাঈম হাসানকে যে গাড়িটি চাপা দিয়েছে, সেটি ইরানের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে ডিএসসিসির গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম নিহত হন। এ ঘটনার পরপরই ওইদিন মতিঝিল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে তার সহপাঠীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বেলা ১১টায় তারা কলেজের সামনে জড়ো হয়। এরপর সাড়ে ১১টা নাগাদ তারা শাপলা চত্বরের সড়কে অবস্থান নেয়। তারা সেখানে প্রকৃত আসামির গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার দাবি করে। সেখানে কিছু সময় অবস্থান নিয়ে পরে তারা যায় গুলিস্তানের সেই জায়গায়, যেখানে নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও অবস্থান নেয় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সেখানকার আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনার বিচার, সড়ক আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১০টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি চলে। বিকালে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস। তিনি তাদের দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে দাবিদাওয়া বাস্তবায়ন না হলে ফের রোববার থেকে আন্দোলনে যাবেন- এমন হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে নাঈম হাসানকে গাড়িচাপা দেওয়ার মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খানের ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জেল হোসেন এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২৪ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক। এ সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। পরে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও এলাকার টহল পুলিশ ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। রাতে এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন।

নটর ডেম ছাত্রের মৃত্যু

ডিএসসিসির দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী চাকরিচ্যুত, একজন বরখাস্ত

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১০:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ডিএসসিসির দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী চাকরিচ্যুত, একজন বরখাস্ত
ডিএসসিসিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়িচাপায় রাজধানীর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় দুই জনকে চাকরিচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে সংস্থাটির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক অফিস আদেশ গণমাধ্যমে পাঠান।

ডিএসসিসি থেকে অবৈধভাবে গাড়ি বরাদ্দ করে চালানোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. হারুন মিয়া ও গাড়ি চালানোর কাজে সহযোগিতা করায় আরেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. আবদুর রাজ্জাককে কর্মচ্যুত করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী হারুন মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক দৈনিক মজুরিতে কাজ করছিলেন। তারা করপোরেশনের স্থায়ী কর্মী নন। 

এ ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মী হলেন গাড়িচালক (ভারী) মো. ইরান মিয়া। তিনি করপোরেশনের নিয়োগপ্রাপ্ত গাড়িচালক। নাঈম হাসানকে যে গাড়িটি চাপা দিয়েছে, সেটি ইরানের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে ডিএসসিসির গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম নিহত হন। এ ঘটনার পরপরই ওইদিন মতিঝিল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে তার সহপাঠীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বেলা ১১টায় তারা কলেজের সামনে জড়ো হয়। এরপর সাড়ে ১১টা নাগাদ তারা শাপলা চত্বরের সড়কে অবস্থান নেয়। তারা সেখানে প্রকৃত আসামির গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচার দাবি করে। সেখানে কিছু সময় অবস্থান নিয়ে পরে তারা যায় গুলিস্তানের সেই জায়গায়, যেখানে নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও অবস্থান নেয় কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে সেখানকার আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনার বিচার, সড়ক আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১০টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি চলে। বিকালে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস। তিনি তাদের দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে দাবিদাওয়া বাস্তবায়ন না হলে ফের রোববার থেকে আন্দোলনে যাবেন- এমন হুঁশিয়ারি দেন তারা। 

এদিকে নাঈম হাসানকে গাড়িচাপা দেওয়ার মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খানের ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জেল হোসেন এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২৪ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক। এ সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। পরে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও এলাকার টহল পুলিশ ট্রাকসহ রাসেলকে আটক করে। রাতে এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন