শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ তদন্ত হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা
jugantor
শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ তদন্ত হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:৫০:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ তদন্ত হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হয়রানি’ বা ‘হামলা’র সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. হায়দার আলী খান। তিনি জানান, এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে বুধবার চতুর্থ দিনের অধিবেশন সম্পর্কে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অর্থ দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, এটি অবশ্যই তদন্তের বিষয়। তদন্ত যারা করছেন, তদন্তে যদি অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সাংবাদিকরা শাবির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের অবস্থান জানতে চান। জবাবে পুলিশ সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, এখানে বিব্রতকর পরিস্থিতি কিনা- তা নিয়ে পুলিশের বলার কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র কিছু নিয়মকানুন আছে। তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে। পুলিশ শুধুমাত্র ল অ্যান্ড অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখে। তাও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের আমন্ত্রণেই পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হয়।

শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও হয়রানি করেছে। সেটি পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে কিনা বা কারো দায় দেখছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, অবশ্যই পুলিশ সদর দপ্তর দেখছে। বিভাগীয় তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। এরপর ১৫ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী হামলা চালান। তারা আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রীদের মারধর করেন। পরে ১৬ জানুয়ারি বিকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকেন উপাচার্য।

পরে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করতে রাজি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র কোষাধ্যক্ষকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। কোষাধ্যক্ষ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়ার সময়ই পুলিশ লাঠিচার্জ, গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে। পরে উপাচার্যকে উদ্ধার করে বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে পুরো ক্যাম্পাস পুলিশের দখলে ছিল। তাই প্রধান ফটকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন।

১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি জানিয়ে খোলা চিঠি পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। তার পরের দিন ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শাবির ২৪ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ধীরে ধীরে পুরো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে।

অবশেষে ১৬৩ ঘণ্টা পর আজ (২৬ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘আমরণ অনশন’ ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ তদন্ত হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হামলার’ তদন্ত হচ্ছে, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা
১৬ জানুয়ারি পুলিশ লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ফাইল ছবি

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‘পুলিশি হয়রানি’ বা ‘হামলা’র সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. হায়দার আলী খান। তিনি জানান, এ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২২ উপলক্ষে বুধবার চতুর্থ দিনের অধিবেশন সম্পর্কে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। সন্ধ্যায় রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অর্থ দিয়ে সহায়তার অভিযোগে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, এটি অবশ্যই তদন্তের বিষয়। তদন্ত যারা করছেন, তদন্তে যদি অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সাংবাদিকরা শাবির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের অবস্থান জানতে চান। জবাবে পুলিশ সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, এখানে বিব্রতকর পরিস্থিতি কিনা- তা নিয়ে পুলিশের বলার কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র কিছু নিয়মকানুন আছে। তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে। পুলিশ শুধুমাত্র ল অ্যান্ড অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখে। তাও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের আমন্ত্রণেই পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হয়।

শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর হামলা ও হয়রানি করেছে। সেটি পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে কিনা বা কারো দায় দেখছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, অবশ্যই পুলিশ সদর দপ্তর দেখছে। বিভাগীয় তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ ছাত্রী। এরপর ১৫ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী হামলা চালান। তারা আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রীদের মারধর করেন। পরে ১৬ জানুয়ারি বিকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ডাকেন উপাচার্য। 

পরে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করতে রাজি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে চান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র কোষাধ্যক্ষকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন।  কোষাধ্যক্ষ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে যাওয়ার সময়ই পুলিশ লাঠিচার্জ, গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে। পরে উপাচার্যকে উদ্ধার করে বাসভবনে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়। 

পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্রিন্টারের আঘাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে পুরো ক্যাম্পাস পুলিশের দখলে ছিল। তাই প্রধান ফটকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাতেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে অবস্থান নেন। 

১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি জানিয়ে খোলা চিঠি পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। তার পরের দিন ১৯ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন শাবির ২৪ শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ধীরে ধীরে পুরো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে।

অবশেষে ১৬৩ ঘণ্টা পর আজ (২৬ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ‘আমরণ অনশন’ ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন