করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে: আইইডিসিআর
jugantor
করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে: আইইডিসিআর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৩০:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে: আইইডিসিআর

দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যারা সুস্থ হয়ে উঠছেন, তাদের এক বছর পরও নানা ধরনের করোনাপরবর্তী জটিলতা থেকে যাচ্ছে। আর যারা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো দুরারোগ্য অসংক্রামক রোগে ভুগছেন, তাদের করোনাপরবর্তী জটিলতায় ভোগার ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-সিডিসির সহযোগিতায় কোভিড-১৯ রোগীদের প্রাথমিক উপসর্গ এবং পরবর্তী জটিলতাগুলো নিয়ে এ গবেষণা করেছে আইইডিসিআরের ফিল্ড এপিডেমিওলজি ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এফইটিপি-বি)। কিন্তু কবে থেকে এবং কতজন রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে- তা আইইডিসিআর জানায়নি।

করোনা আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্বাদ-গন্ধের অনুভূতি লোপ পাওয়া, অবসাদ ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা থেকে যেতে পারে।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুস্থ হলেও মানুষের শারীরিক সিস্টেমে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে হাইপারটেনশন, রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া, ঘুম না হওয়া, বুকে ব্যথা করা, মানসিক সমস্যা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার মতো সমস্যা থেকে যেতে পারে।’

গবেষণার প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে একটি সার সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে। তাতে বলা হয়েছে, দেশে কোভিড থেকে সেরে ওঠার ৩ মাস পর ৭৮ শতাংশের শরীরে এ ধরনের কোভিডপরবর্তী জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া ছয় মাস ৬ মাস পর ৭০ শতাংশ, নয় মাস পর ৬৮ শতাংশ এবং এক বছর পরও ৪৫ শতাংশ উত্তরাদাতা এ ধরনের জটিলতায় ভোগার কথা বলেছেন।

আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, ‘অসংক্রামক ব্যাধি, যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের কোভিডপরবর্তী উপসর্গের আশঙ্কা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি। এতে প্রতীয়মাণ হয় যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের কোভিডপরবর্তী উপসর্গে আক্রান্ত হওয়া কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া জরুরি।’

আইইডিসিআর আরও বলছে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, তাদের কোভিডপরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় যারা ওষুধ সেবন করেন না তাদের তুলনায়। একইভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের কোভিডপরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়- যারা ওষুধ সেবন করেন না তাদের তুলনায়।

করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে: আইইডিসিআর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে: আইইডিসিআর
ফাইল ছবি

দেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যারা সুস্থ হয়ে উঠছেন, তাদের এক বছর পরও নানা ধরনের করোনাপরবর্তী জটিলতা থেকে যাচ্ছে। আর যারা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো দুরারোগ্য অসংক্রামক রোগে ভুগছেন, তাদের করোনাপরবর্তী জটিলতায় ভোগার ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি। 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-সিডিসির সহযোগিতায় কোভিড-১৯ রোগীদের প্রাথমিক উপসর্গ এবং পরবর্তী জটিলতাগুলো নিয়ে এ গবেষণা করেছে আইইডিসিআরের ফিল্ড এপিডেমিওলজি ট্রেনিং প্রোগ্রাম (এফইটিপি-বি)।  কিন্তু কবে থেকে এবং কতজন রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছে- তা আইইডিসিআর জানায়নি।

করোনা আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্বাদ-গন্ধের অনুভূতি লোপ পাওয়া, অবসাদ ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন ধরনের জটিলতা থেকে যেতে পারে।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুস্থ হলেও মানুষের শারীরিক সিস্টেমে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে হাইপারটেনশন, রক্তে চিনি বেড়ে যাওয়া, ঘুম না হওয়া, বুকে ব্যথা করা, মানসিক সমস্যা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়ার মতো সমস্যা থেকে যেতে পারে।’

গবেষণার প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে একটি সার সংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে। তাতে বলা হয়েছে, দেশে কোভিড থেকে সেরে ওঠার ৩ মাস পর ৭৮ শতাংশের শরীরে এ ধরনের কোভিডপরবর্তী জটিলতা দেখা যাচ্ছে।  এ ছাড়া ছয় মাস ৬ মাস পর ৭০ শতাংশ, নয় মাস পর ৬৮ শতাংশ এবং এক বছর পরও ৪৫ শতাংশ উত্তরাদাতা এ ধরনের জটিলতায় ভোগার কথা বলেছেন। 

আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, ‘অসংক্রামক ব্যাধি, যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের কোভিডপরবর্তী উপসর্গের আশঙ্কা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি। এতে প্রতীয়মাণ হয় যে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের কোভিডপরবর্তী উপসর্গে আক্রান্ত হওয়া কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া জরুরি।’

আইইডিসিআর আরও বলছে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, তাদের কোভিডপরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় যারা ওষুধ সেবন করেন না তাদের তুলনায়। একইভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের কোভিডপরবর্তী জটিলতার ঝুঁকি প্রায় ৭ শতাংশ কমে যায়- যারা ওষুধ সেবন করেন না তাদের তুলনায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস