দা‌বি আদায় না হ‌লে মহাসমা‌বে‌শের হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারী‌দের
jugantor
দা‌বি আদায় না হ‌লে মহাসমা‌বে‌শের হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারী‌দের

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ মে ২০২২, ১৮:৩৪:১৩  |  অনলাইন সংস্করণ

সরকারি কর্মচারী‌দের ন্যায্য দা‌বি আদায় না হ‌লে আগামী ৩‌ জুনকেন্দ্রীয় শহিদ মিনা‌রে মহাসমা‌বে‌শ করার হুঁশিয়ারি দি‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশ সরকারি কর্মচারী দাবি বাস্তবায়ন ঐক্য ফোরাম।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লা‌বের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হ‌লে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সংগঠ‌নের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. হেদায়াতুল ইসলাম।

প্রজাত‌ন্ত্রের ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারী‌দের চলমান পদবি বৈষম্য ও অসঙ্গতি দূরীকরণ, বেতন ভাতা‌দি বৃ‌দ্ধির ল‌ক্ষ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছ‌রের জাতীয় বা‌জে‌টে অ‌র্থের সংস্থানসহ ৭ দফা বাস্তবায়‌নের দাবিতে আ‌য়ো‌জিত

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য ফোরামের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী লিখিত বক্ত‌ব্যে ব‌লেন, সি‌নিয়র স‌চিব থে‌কে শুরু ক‌রে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সবাই প্রজাত‌ন্ত্রের কর্মচারী। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সা‌লে জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান প্রজাত‌ন্ত্রের কর্মচারী‌দের বৈষম্য নিরস‌নে শত শত স্কেল‌কে বিলুপ্ত ক‌রে ১০‌টি গ্রেডের এক‌টি সুষম বেতন কাঠা‌মো উপহার দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৭৫ সা‌লে জা‌তির পিতা‌কে সপ‌রিবা‌রে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারি সরকার ১৯৭৭ সালের বেতন স্কেলে প্রচলিত ১০টি গ্রেডের পরিবর্তে ২০টি গ্রেডে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করে কর্মচারীদের মাঝে বৈষম্যের সূত্রপাত করে। ১৯৭৭ সালে ২০টি গ্রেডে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করে যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়- তা পরবর্তীতে প্রতিটি বেতন স্কেলেই অব্যাহতভাবে এ বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালে সচিবালয়ের সঙ্গে সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারীদের মধ্যে পদবি বৈষম্য সৃষ্টি করে এ বৈষম্যকে আরেক দফা বৃদ্ধি করা হয়। এরপর থেকেই বৈষম্য আর অবহেলাকে ঘিরে কর্মচারীদের ন্যায্য আন্দোলন চলতে থাকলেও তার অবসান না হয়ে বরং বিভিন্ন কৌশলে এ বৈষম্যকে আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

‘২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দিন বদলের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২০-২১ বাস্তবায়নে ব্যাপক জনমত নিয়ে দেশ গড়ার যাত্রা শুরু করলে আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম তার হাত দিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সব বৈষম্যের অবসান হবে। কিন্তু আমাদের দেখা সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার প্রাক্কালে আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বেতন দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়ে একদিকে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা হয়েছিল, অন্যদিকে এ ঘোষণার আড়ালে দীর্ঘ দিনের প্রচলিত টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো কর্মচারীদেরকে। শুধু তাই নয়, অতীতের নিয়মিত ৩টি টাইম স্কেল পেয়ে একজন কর্মচারী ১৬তম বছরে আমাদের বেতন বৃদ্ধির তুলনায় বর্তমান নিয়মে ১৬তম বছরে উল্টো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ঘোষিত বেতন স্কেলে শুভংকরের ফাঁকির মধ্যে ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদেরকে বিভিন্নভাবে ঠকানো হয়েছে, বৈষম্যে নিপতিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মাঝে সৃষ্ট বৈষম্য, আর্থিক দৈন্যতাসহ সার্বিক বিষয় নিরসনের জন্য বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন থেকে সরকারের কাছে বিভিন্ন সময়ে দাবি পেশ করা হলেও তা উপেক্ষীত হয়েছে। জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত আমাদের দেশের প্রচলিত প্রথা। এরই মধ্যে গত দু’বছরে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপণ্যের মূল্য। ফলে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা দিশেহারা। এমনি পরিস্থিতিতে আর্থিক দৈন্যতায় নিপতিত প্রজাতন্ত্রের ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমমনা সংগঠনগুলো একাধিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে একটি মঞ্চে এসে এক এবং অভিন্ন দাবি সরকারের কাছে পেশ করার লক্ষ্যে বৃহৎ মোর্চা গঠনে একমত পোষণ করেছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অবজ্ঞা আর বঞ্চনা অবসানের লক্ষ্যে সমমনা ১৪টি সংগঠন যৌথভা‌বে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করছে এবং এ ফোরাম সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৭ দফা দা‌বি পেশ করছে।’

দাবিগু‌লো হ‌লো- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭৩ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ ১০ ধাপ বিশিষ্ট বেতন স্কেল নির্ধারণ পূর্বক ৬ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের ব্যয় বিবেচনায় সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা করতে হবে এবং এ উপলক্ষে নবম জাতীয় পে-কমিশন গঠন করতে হবে। নবম পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদেরকে ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে, শতভাগ পেনশন প্রদান, স্বেচ্ছায় অবসরে চাকরির বয়সসীমা ২০ বছর নির্ধারণ এবং আনুতোষিক প্রতি এক টাকায় তিনশ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং পে-কমিশনে কর্মচারীর প্রতিনিধি রাখতে হবে।সচিবালয়ের মতো সচিবালয়ের বাইরে সব দপ্তর ও অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের পদবি এবং গ্রেড পরিবর্তনসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে প্রথম শ্রেণি ও সহকারী শিক্ষকদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণি কর্মকর্তার পদমর্যাদা ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।

ব্লক পদ প্রথা প্রত্যাহার, পদোন্নতিযোগ্য পদ শূন্য না থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পর উচ্চতর পদের বেতন স্কেল প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মে নিয়োজিত কর্মচারীদেরকে যৌক্তিকভাবে ঝুঁকিভাতা প্রদান করতে হবে এবং আউট সোর্সিং নিয়োগ প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে। ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের স্থ‌লে ২০ শতাংশ উন্নীত করতে হবে। টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড, টেকনিক্যাল কর্মচারীদের জন্য দুটি বিশেষ ইনক্রিমেন্ট পুনর্বহাল। এলাকা ভেদে ৭০- ১০০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা, সামঞ্জস্যপূর্ণ চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা, যাতায়াত ভাতা প্রদান করতে হবে। বিনাসুদে ২৫-৩০ লাখ টাকা গৃহঋণ সুবিধা ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল বাবদ প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের চাকরি শুরু থেকে গণনা, অযাচিত ২০ শতাংশ হারে পেনশন কর্তনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য সব নিয়োগে ৩০ শতাংশ পোষ্য কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। অফিসার্স ক্লাব, বিএমএ, কেআইবি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মতো চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য রাজধানীতে একটি কর্মচারী কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং অধস্তন আদালতে কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রজাতন্ত্রের বৃহৎ ১৪টি সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম, বাংলাদেশ ১৬-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতি (সাবেক ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতি), বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (তোতা-গাজী), বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাসেম-শাহীন), বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ (আনিস-রবিউল), বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ (শাহীনুর-আল আমিন), বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন, ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের নেতারাসহ বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

পরে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হ‌লে আগামী ৩ জুন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে কর্মচারী মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

দা‌বি আদায় না হ‌লে মহাসমা‌বে‌শের হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারী‌দের

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ মে ২০২২, ০৬:৩৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সরকারি কর্মচারী‌দের ন্যায্য দা‌বি আদায় না হ‌লে আগামী ৩‌ জুন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনা‌রে মহাসমা‌বে‌শ করার হুঁশিয়ারি দি‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশ সরকারি কর্মচারী দাবি বাস্তবায়ন ঐক্য ফোরাম। 

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লা‌বের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হ‌লে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন সংগঠ‌নের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. হেদায়াতুল ইসলাম।

প্রজাত‌ন্ত্রের ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারী‌দের চলমান পদবি বৈষম্য ও অসঙ্গতি দূরীকরণ, বেতন ভাতা‌দি বৃ‌দ্ধির ল‌ক্ষ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছ‌রের জাতীয় বা‌জে‌টে অ‌র্থের সংস্থানসহ ৭ দফা বাস্তবায়‌নের দাবিতে আ‌য়ো‌জিত

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য ফোরামের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী লিখিত বক্ত‌ব্যে ব‌লেন, সি‌নিয়র স‌চিব থে‌কে শুরু ক‌রে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সবাই প্রজাত‌ন্ত্রের কর্মচারী। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সা‌লে জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান প্রজাত‌ন্ত্রের কর্মচারী‌দের বৈষম্য নিরস‌নে শত শত স্কেল‌কে বিলুপ্ত ক‌রে ১০‌টি গ্রেডের এক‌টি সুষম বেতন কাঠা‌মো উপহার দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৭৫ সা‌লে জা‌তির পিতা‌কে সপ‌রিবা‌রে নির্মমভাবে হত্যা করার পর ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারি সরকার ১৯৭৭ সালের বেতন স্কেলে প্রচলিত ১০টি গ্রেডের পরিবর্তে ২০টি গ্রেডে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করে কর্মচারীদের মাঝে বৈষম্যের সূত্রপাত করে। ১৯৭৭ সালে ২০টি গ্রেডে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করে যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়- তা পরবর্তীতে প্রতিটি বেতন স্কেলেই অব্যাহতভাবে এ বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালে সচিবালয়ের সঙ্গে সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারীদের মধ্যে পদবি বৈষম্য সৃষ্টি করে এ বৈষম্যকে আরেক দফা বৃদ্ধি করা হয়। এরপর থেকেই বৈষম্য আর অবহেলাকে ঘিরে কর্মচারীদের ন্যায্য আন্দোলন চলতে থাকলেও তার অবসান না হয়ে বরং বিভিন্ন কৌশলে এ বৈষম্যকে আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

‘২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দিন বদলের কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে রূপকল্প ২০২০-২১ বাস্তবায়নে ব্যাপক জনমত নিয়ে দেশ গড়ার যাত্রা শুরু করলে আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম তার হাত দিয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সব বৈষম্যের অবসান হবে। কিন্তু আমাদের দেখা সে স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার প্রাক্কালে আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বেতন দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়ে একদিকে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করা হয়েছিল, অন্যদিকে এ ঘোষণার আড়ালে দীর্ঘ দিনের প্রচলিত টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো কর্মচারীদেরকে। শুধু তাই নয়, অতীতের নিয়মিত ৩টি টাইম স্কেল পেয়ে একজন কর্মচারী ১৬তম বছরে আমাদের বেতন বৃদ্ধির তুলনায় বর্তমান নিয়মে ১৬তম বছরে উল্টো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ঘোষিত বেতন স্কেলে শুভংকরের ফাঁকির মধ্যে ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদেরকে বিভিন্নভাবে ঠকানো হয়েছে, বৈষম্যে নিপতিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মাঝে সৃষ্ট বৈষম্য, আর্থিক দৈন্যতাসহ সার্বিক বিষয় নিরসনের জন্য বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন থেকে সরকারের কাছে বিভিন্ন সময়ে দাবি পেশ করা হলেও তা উপেক্ষীত হয়েছে। জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধির দৃষ্টান্ত আমাদের দেশের প্রচলিত প্রথা। এরই মধ্যে গত দু’বছরে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে নিত্যপণ্যের মূল্য। ফলে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা দিশেহারা। এমনি পরিস্থিতিতে আর্থিক দৈন্যতায় নিপতিত প্রজাতন্ত্রের ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমমনা সংগঠনগুলো একাধিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে একটি মঞ্চে এসে এক এবং অভিন্ন দাবি সরকারের কাছে পেশ করার লক্ষ্যে বৃহৎ মোর্চা গঠনে একমত পোষণ করেছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অবজ্ঞা আর বঞ্চনা অবসানের লক্ষ্যে সমমনা ১৪টি সংগঠন যৌথভা‌বে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করছে এবং এ ফোরাম সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৭ দফা দা‌বি পেশ করছে।’

দাবিগু‌লো হ‌লো- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭৩ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের অনুরূপ ১০ ধাপ বিশিষ্ট বেতন স্কেল নির্ধারণ পূর্বক ৬ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের ব্যয় বিবেচনায় সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা করতে হবে এবং এ উপলক্ষে নবম জাতীয় পে-কমিশন গঠন করতে হবে। নবম পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদেরকে ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করতে হবে, শতভাগ পেনশন প্রদান, স্বেচ্ছায় অবসরে চাকরির বয়সসীমা ২০ বছর নির্ধারণ এবং আনুতোষিক প্রতি এক টাকায় তিনশ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং পে-কমিশনে কর্মচারীর প্রতিনিধি রাখতে হবে।সচিবালয়ের মতো সচিবালয়ের বাইরে সব দপ্তর ও অধিদপ্তরে কর্মরত কর্মচারীদের পদবি এবং গ্রেড পরিবর্তনসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে প্রথম শ্রেণি ও সহকারী শিক্ষকদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণি কর্মকর্তার পদমর্যাদা ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।

ব্লক পদ প্রথা প্রত্যাহার, পদোন্নতিযোগ্য পদ শূন্য না থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পর উচ্চতর পদের বেতন স্কেল প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মে নিয়োজিত কর্মচারীদেরকে যৌক্তিকভাবে ঝুঁকিভাতা প্রদান করতে হবে এবং আউট সোর্সিং নিয়োগ প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে। ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের স্থ‌লে ২০ শতাংশ উন্নীত করতে হবে। টাইম স্কেল-সিলেকশন গ্রেড, টেকনিক্যাল কর্মচারীদের জন্য দুটি বিশেষ ইনক্রিমেন্ট পুনর্বহাল। এলাকা ভেদে ৭০- ১০০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা, সামঞ্জস্যপূর্ণ চিকিৎসা ভাতা, টিফিন ভাতা, যাতায়াত ভাতা প্রদান করতে হবে। বিনাসুদে ২৫-৩০ লাখ টাকা গৃহঋণ সুবিধা ও গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল বাবদ প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। উন্নয়ন খাত থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত কর্মচারীদের চাকরি শুরু থেকে গণনা, অযাচিত ২০ শতাংশ হারে পেনশন কর্তনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ১১-২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য সব নিয়োগে ৩০ শতাংশ পোষ্য কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। অফিসার্স ক্লাব, বিএমএ, কেআইবি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মতো চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য রাজধানীতে একটি কর্মচারী কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং অধস্তন আদালতে কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রজাতন্ত্রের বৃহৎ ১৪টি সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের সম্মিলিত অধিকার আদায় ফোরাম, বাংলাদেশ ১৬-২০ গ্রেড সরকারি কর্মচারী সমিতি (সাবেক ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতি), বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (তোতা-গাজী), বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাসেম-শাহীন), বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ (আনিস-রবিউল), বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ (শাহীনুর-আল আমিন), বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন, ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী উন্নয়ন পরিষদের নেতারাসহ বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

পরে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হ‌লে আগামী ৩ জুন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে কর্মচারী মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন