৪ জেলার সব উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্য
jugantor
৪ জেলার সব উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্য

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ মে ২০২২, ১৯:৫৩:৪০  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের চার জেলার সবগুলো উপজেলায় (৩২টি) বিরাজ করছে অতিউচ্চ দারিদ্র্য। এগুলো হচ্ছে- কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর এবং জামালপুর জেলা। সর্বোচ্চ দারিদ্র্য রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার চররাজিবপুর উপজেলায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্রে উঠে এসেছে এসব তথ্য। রোববার প্রকাশ করা হয়েছে দারিদ্র্য এবং বাংলাদেশের অপুষ্টি মানচিত্র শীর্ষক দুটি পৃথক প্রতিবেদন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘পভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যাপস বেইজড অন স্মল এরিয়া এস্টিমেশন টেকনিক’ শীষক সেমিনার।

বিবিএস’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেনি পেয়ার্স।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিএস’র পভার্টি অ্যান্ড আন্ডার ম্যাপিংয়ের ফোকাল পয়েন্ট মো. আলমগীর হোসেন এবং ডব্লিউএফপির ভার্নালিবিটি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ম্যাপিং ইউনিটের অফিসার দিন আরা ওয়াহিদ। বক্তব্য দেন বিবিএস’র ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইংয়ের পরিচালক মো. মাসুদ আলম। প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ শাহদত হোসেন এবং আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ। মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন বিবিএস’র ডেপুটি ডিরেক্টর ড. দীপঙ্কর রায়।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের হাউজ হোল্ড ইনকাম অ্যান্ড ইক্সপেনডিচার সার্ভের তথ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র। এ ছাড়া ২০১৯ সালের মাল্টিপুল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের অপুষ্টি মানচিত্র। এ দুটি মানচিত্রে প্রথমবারের মতো উপজেলা পর্যায়ের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।

দারিদ্র্য ম্যাপে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশের ৪টি জেলার সবগুলো উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্য বিরাজ করছে। অন্যান্য জেলাগুলোতে বিভিন্ন উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্যের পাশাপাশি উচ্চ, মধ্যম, নিম্ন এবং অতিনিম্ন দারিদ্র্যও রয়েছে। কিন্তু অতিউচ্চ দারিদ্র্য থাকা কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ দারিদ্র্য হার চররাজিবপুর উপজেলায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া রৌমারীতে ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ, চিলমারিতে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে। সেই সঙ্গে নাগেশ্বরী উপজেলায় ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, উলিপুরে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ, রাজারহাটে ৭০ দশমিক ১ শতাংশ, ভুরুঙ্গামারীতে ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ফুলবাড়ী উপজেলায় ৬৯ শতাংশ দারিদ্র্যের হার রয়েছে।

গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার ফুলছড়ি উপজেলায় ৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জে ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ, গাইবান্ধা সদরে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সাঘাটায় ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ দারিদ্র্য হার আছে। সেই সঙ্গে সাদুল্লাপুরে ৪২ দশমিক ৫, গোবিন্দগঞ্জে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পলাশবাড়ীতে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ দারিদ্র্য হার রয়েছে।

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার হচ্ছে খানসামা উপজেলায় ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ। জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের হার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে অপুষ্টি ম্যাপে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে (পাঁচ বছরের কম বয়সী খর্বাকৃতি শিশুদের শতকরা হার) সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পঞ্চগড়, সিলেট এবং ভোলা জেলায়। এগুলোতে এই হার ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ওজন স্বল্পতার ক্ষেত্রে (৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের শতকরা হার) সবচেয়ে বেশি হবিগঞ্জ জেলায়। সেখানে এই হার ৩২ দশমিক ৯৩ শতাংশ অথবা এর বেশি।

কৃশকায়তার (রোগাটে) মানচিত্রে সবচেয়ে বেশি (৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের শতকরা হার) বান্দরবান, লক্ষীপুর এবং শেরপুর জেলায়। এগুলোতে কৃশকায়তার হার ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ বা তার বেশি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পুরনো তথ্য দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা করা যায় না। এজন্য বিবিএসকে হালনাগাদ তথ্য তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে এসডিজি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। এখনো অনেক তথ্য ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণে কাজ করতে হবে।

ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, জনশুমারি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫-২১ জুন সারা দেশে একযোগে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে অনেকগুলো হালনাগাদ তথ্য চলে আসবে।

৪ জেলার সব উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্য

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ মে ২০২২, ০৭:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দেশের চার জেলার সবগুলো উপজেলায় (৩২টি) বিরাজ করছে অতিউচ্চ দারিদ্র্য। এগুলো হচ্ছে- কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, দিনাজপুর এবং জামালপুর জেলা। সর্বোচ্চ দারিদ্র্য রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার চররাজিবপুর উপজেলায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্রে উঠে এসেছে এসব তথ্য। রোববার প্রকাশ করা হয়েছে দারিদ্র্য এবং বাংলাদেশের অপুষ্টি মানচিত্র শীর্ষক দুটি পৃথক প্রতিবেদন। 

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘পভার্টি অ্যান্ড আন্ডার নিউট্রিশন ম্যাপস বেইজড অন স্মল এরিয়া এস্টিমেশন টেকনিক’ শীষক সেমিনার। 

বিবিএস’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব শাহনাজ আরেফিন এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেনি পেয়ার্স। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিবিএস’র পভার্টি অ্যান্ড আন্ডার ম্যাপিংয়ের ফোকাল পয়েন্ট মো. আলমগীর হোসেন এবং ডব্লিউএফপির ভার্নালিবিটি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ম্যাপিং ইউনিটের অফিসার দিন আরা ওয়াহিদ। বক্তব্য দেন বিবিএস’র ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ উইংয়ের পরিচালক মো. মাসুদ আলম। প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ শাহদত হোসেন এবং আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ। মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন বিবিএস’র ডেপুটি ডিরেক্টর ড. দীপঙ্কর রায়।
  
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের হাউজ হোল্ড ইনকাম অ্যান্ড ইক্সপেনডিচার সার্ভের তথ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র। এ ছাড়া ২০১৯ সালের মাল্টিপুল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য থেকে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের অপুষ্টি মানচিত্র। এ দুটি মানচিত্রে প্রথমবারের মতো উপজেলা পর্যায়ের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে। 

দারিদ্র্য ম্যাপে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী দেশের ৪টি জেলার সবগুলো উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্য বিরাজ করছে। অন্যান্য জেলাগুলোতে বিভিন্ন উপজেলায় অতিউচ্চ দারিদ্র্যের পাশাপাশি উচ্চ, মধ্যম, নিম্ন এবং অতিনিম্ন দারিদ্র্যও রয়েছে। কিন্তু অতিউচ্চ দারিদ্র্য থাকা কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ দারিদ্র্য হার চররাজিবপুর উপজেলায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া রৌমারীতে ৭৬ দশমিক ৪ শতাংশ, চিলমারিতে ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ দারিদ্র্য রয়েছে। সেই সঙ্গে নাগেশ্বরী উপজেলায় ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ, উলিপুরে ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ, রাজারহাটে ৭০ দশমিক ১ শতাংশ, ভুরুঙ্গামারীতে ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ফুলবাড়ী উপজেলায় ৬৯ শতাংশ দারিদ্র্যের হার রয়েছে। 

গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার ফুলছড়ি উপজেলায় ৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জে ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ, গাইবান্ধা সদরে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সাঘাটায় ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ দারিদ্র্য হার আছে। সেই সঙ্গে সাদুল্লাপুরে ৪২ দশমিক ৫, গোবিন্দগঞ্জে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পলাশবাড়ীতে ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ দারিদ্র্য হার রয়েছে। 

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার হচ্ছে খানসামা উপজেলায় ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ। জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের হার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৬৩ দশমিক ২ শতাংশ। 

এদিকে অপুষ্টি ম্যাপে বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ে (পাঁচ বছরের কম বয়সী খর্বাকৃতি শিশুদের শতকরা হার) সবচেয়ে বেশি হচ্ছে পঞ্চগড়, সিলেট এবং ভোলা জেলায়। এগুলোতে এই হার ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ওজন স্বল্পতার ক্ষেত্রে (৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের শতকরা হার) সবচেয়ে বেশি হবিগঞ্জ জেলায়। সেখানে এই হার ৩২ দশমিক ৯৩ শতাংশ অথবা এর বেশি। 

কৃশকায়তার (রোগাটে) মানচিত্রে সবচেয়ে বেশি (৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের শতকরা হার) বান্দরবান, লক্ষীপুর এবং শেরপুর জেলায়। এগুলোতে কৃশকায়তার হার ১৪ দশমিক ৪১ শতাংশ বা তার বেশি। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পুরনো তথ্য দিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা করা যায় না। এজন্য বিবিএসকে হালনাগাদ তথ্য তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে এসডিজি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে। এখনো অনেক তথ্য ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণে কাজ করতে হবে। 

ড. শাহনাজ আরেফিন বলেন, জনশুমারি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৫-২১ জুন সারা দেশে একযোগে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে অনেকগুলো হালনাগাদ তথ্য চলে আসবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন