আবদুল্লাহ আল শাহীন    |    
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শারজার বাংলাবাজারে বাঙালির হাসি কান্না

সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে অন্যান্য দেশ থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। আমিরাতের প্রতিটি স্টেটের বিশেষ স্থানগুলো সাজানো হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রের মতো। এছাড়া এমনিতেই দেশের সব জায়গায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ত্রুটি নেই। আমিরাত শাসকের আলাদা বার্ষিক বাজেট থাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য। আমিরাতে প্রায় ১৪০ দেশের অভিবাসী রয়েছে যাদের বেশিরভাগই উন্নত দেশের। একটা বিষয় খেয়াল করলেই বোঝা যাবে আমিরাত সরকার পরিষ্কারের বিষয়ে কতটা সোচ্চার। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে অনেক সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য কর্মী আনার চুক্তি হয়। এছাড়া নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা থেকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কর্মী আনা হয় আমিরাতে। যারা বলদিয়ার (Municipality) অধীনে কাজ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সাপ্লাই কোম্পানিও একই কাজের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসে। সাপ্লাইয়ের কর্মীরা বিভিন্ন কোম্পানিতে বার্ষিক বা মাসিক চুক্তিতে কাজ করেন।

বাংলাদেশী প্রবাসীরা আমিরাতে নানা পেশায় রয়েছেন; তবে অধিকাংশই সাধারণ কর্মী। আমরা বাংলাদেশী প্রবাসীরাও পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করি। কিন্তু কিছু প্রবাসীদের কারণে আমাদের দেশের দুর্নাম হচ্ছে। এমনকি বিদেশীদের মুখে সরাসরি শুনতে হয় দুর্নামের কথা। অনেক সময় কিছু প্রবাসী ভাইদের অসচেতনতার জন্য সবাইকে লজ্জিত হতে হয়। দুবাই, শারজাহ শহরে রয়েছে বাংলাবাজার। মূলত বাংলাদেশীদের লোক সংখ্যা বেশি বলে লোক মুখে স্থানের নাম হয়েছে বাংলাবাজার। দুবাই, শারজাহ ছাড়া আরও দু-একটা স্থান এমনটা রয়েছে। এসব বাংলাবাজারে গেলে বোঝাই যায় না বাংলাদেশ নাকি আমিরাত? পানের পিক, পানের কাগজের ঠোঙা, বিশেষ ব্রান্ডের আর মিষ্টি জর্দ্দার ক্যানে ভরপুর পুরো বাজার। বাজারের যে প্রান্তেই যাবেন দেয়ালে পানের পিকের দাগ পাবেন। আমিরতের পথে পথে আবর্জনা ফেলানোর জন্য চোখে পড়ার মতো বড় বড় রঙিন ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশী অনেক প্রবাসী সেটা ব্যবহার না করে দেখা যায় রাস্তার মধ্যেই আবর্জনা ফেলেন। এসবের কারণে যেমনটা পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি দেশের মান বাংলাদেশী প্রবাসীদের ছোট করা হচ্ছে।

সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ক্লিন থাকাটা জরুরি অন্তত নিজের জন্য। কর্মস্থলে নিজের কাপড় যেন পরিষ্কার থাকে সেই দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কাপড় পুরনো কিংবা নতুন বিষয় সেটা নয় পরিষ্কার থাকা হচ্ছে আসল। শরীরে কোনো রকম দুর্গন্ধ থাকা ঠিক নয়। তবে এটা ঠিক কিছু কাজ রয়েছে পরিষ্কার থাকা যায় না তবুও নিজের মতো করে সোচ্চার থাকতে হবে। সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ালে নিজেকে যেন কখনও দুর্বল মনে না হয়। ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকার কারণে অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। যেমন সহকর্মীদের ভালো ব্যবহার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভালো ব্যবহার পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আমার পরিচত এক প্রবাসী গত ৫ বছর ধরে একটি কোম্পানিতে কাজ করে আসছেন। তার কাজ হচ্ছে অফিস পিয়নের। বিভিন্ন ফাইলপত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে আনা-নেয়া করেন। দীর্ঘ ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় সহজেই নিজের কাজ করতে পারেন কোনো রকম সমস্যা হয় না। কিন্তু একদিন এক অফিসার তাকে অফিসে যেতে নিষেধ করেছেন। উনি কষ্ট পাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু কষ্ট না পেয়ে বরং লজ্জিত হলেন। এর পেছনে একমাত্র কারণ উনি কখনও কখনও পান খেয়ে অফিসে যেতেন। আমার সঙ্গে ভালো পরিচয় ছিল, তিনি যখন পান খেতেন বাহারি রকমের জর্দ্দা পানের সঙ্গে খেতেন। খাওয়ার সময় অনেক দিন শার্টের মধ্যে পানের দাগ লেগে যেত। এসব জর্দ্দার মধ্যে কড়া একটা গন্ধ রয়েছে নতুন কেউ পাশে থাকলে খারাপ লাগতেই পারে। সেদিনও হয়তো এমন কোনো জর্দ্দা পানের সঙ্গে খেয়েছেন আর অফিসারের খারাপ লেগেছে। তিনি আমাকে বলেছেন, আগেও নাকি অনেকবার তাকে পান খেয়ে অফিসে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল; কিন্তু তিনি সেটা আমলে নেননি। যার ফলে এরকম সমস্যায় পড়েছিলেন। বেশকিছু দিন এভাবে চলার পর একদিন সেই অফিসার ডেকে নিয়ে থাকে বলেছেন, সেদিন তার মাথাব্যথা হয়েছিল পানের গন্ধে। তাই তিনি বাধ্য হয়ে তাকে অফিস যেতে নিষেধ করেছেন। এরপর থেকে তিনি আর পান খেয়ে অফিসে যান না এমনকি আগের মতো পান খাওয়ার অভ্যাসও নেই।

প্রবাস জীবনে একাকিত্বের প্রধান নমুনা হচ্ছে নিজের কাজ নিজে করতে হয়। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কাজ নিজেই করতে হয়। প্রবাস জীবনকে যেভাবেই চিন্তা করবেন কষ্টের কারণগুলো মানতেই হবে। প্রবাস জীবন কষ্টের হলেও নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে আর সেজন্য সোচ্চার হতে হবে নিজেকেই।

দুবাই শারজা থেকে


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত