• রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
এইচএম মিলন, কালকিনি (মাদারীপুর) থেকে    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
স্বজনদের কান্না থামেনি
কালকিনিতে পুঙ্গত্ব নিয়ে আহতরা কাটাচ্ছেন দুঃসহ জীবন
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা লিটনের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরের হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামে একমাত্র পুত্রের কবরের পাশে বৃদ্ধ পিতা-মাতা -যুগান্তর

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ-এ অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় মাদারীপুরের ৪ নিহতের পরিবারের সদস্যরা ভালো নেই। এসব পরিবারে শোকের ছায়া এখনও কাটেনি। একই ঘটনায় আহতরা পঙ্গুত্ব নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে নিহত ও আহত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত দুই থেকে দশ লাখ টাকা অনুদান পেলেও এলাকার কেউ আর তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামপোল গ্রামের বর্বরোচিত এ গ্রেনেড হামলায় নিহত শ্রমিক নেতা নাসির উদ্দিন ছিল আওয়ামী লীগের একজন অন্ধ ভক্ত। নাসিরের বড় ছেলে মাহাবুব হোসেন জানায়, বাবার উপার্জনেই চলত সংসার। বাবার মৃত্যুর পর টাকার অভাবে আমাদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কোনো কোনোদিন আর্ধপেট আবার কোনোদিন খাবারই জোটেনি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। এখন সেই টাকার লভ্যাংশ দিয়ে আমার মা, আমি আর আমার ভাই নাজমুলকে নিয়ে কোনোরকম বেঁচে আছি। আমি এখন ঢাকার বাংলা কলেজে বিএ পড়ছি, আমার ভাই গ্রামের কয়ারিয়া স্কুলে পড়ে। আমার যদি একটা চাকরি জুটে যেত তাহলে মা-ভাইকে নিয়ে একটু ভালো থাকতে পারতাম। গ্রেনেড হামলায় অন্যদের মধ্যে নিহত সুফিয়া বেগমের বাড়ি রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামে। ওই দিন মহিলা নেতাদের সঙ্গে প্রথম সারিতেই ছিলেন সুফিয়া বেগম। চঞ্চলা ও উদ্যমী এই সুফিয়া সপরিবারে ঢাকায় থাকতেন। নিহত হওয়ার পর তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঢাকার থাকার কারণে সুফিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার বিভাগদি গ্রামের মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের ছেলে হালান হাওলাদারের একটি পা গ্রেনেড হামলায় নষ্ট হয়ে গেছে। আজীবন পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে তাকে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছিলেন হালান। এখন সে ঢাকা ঘুরে ঘুরে মুরগির ব্যবসা করেন। হালানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, খোড়া পা নিয়ে কষ্ট হয় ঘুরে ঘুরে মুরগি বিক্রি করি। তাছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য স্পি­ন্টার। জ্বালা-যন্ত্রণায় অসহ্য লাগে মাঝে মধ্যে। হালান জানান, সরকার যদি কোনো একটা চাকরি দিতেন, যাতে এরকম শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে না, তাছাড়া আমার চিকিৎসারও প্রয়োজন। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব নয়। সরকার সাহায্য করলে ভালো হতো।

কালকিনি পৌর এলাকার চরঝাউতলা গ্রামের সাইদুল ২১ আগস্ট ঢাকা পল্টন ময়দানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেট হামলার শিকার হয়ে চোখের দৃষ্টি হারিয়ে অন্ধত্বের সঙ্গে জীবনযাপন করছে। এখনও তিনি বেকার। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছিলেন তিনি। জানা গেছে, চরঝাউতলা গ্রামের মো. অহেদ সরদারের ছেলে মো. সাইদুল সরদার। তার বয়স ৫ বছর থাকতে মা মুঞ্জু বেগমকে হারায়। সেখান থেকে তার বাবা তাকে লেখাপড়া করার জন্য স্কুলে পাঠান। ক্লাস ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে টাকার অভাবে আর পড়তে পারেনি। এ ব্যাপারে সাইদুল জানান, গ্রেনেট হামলার শিকার হয়ে আমি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত