আলামিন প্রধান, ফতুল্লা থেকে    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
‘রতন আমার অন্তরে’
মৃত্যুর আগে খুনিদের ফাঁসি দেখতে চান মা
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত রতনকে এখনও ভুলতে পারেননি তার মা মমতাজ বেগম। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তোলা ছবি -যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একবার দেখা করে একটি দাবির কথা জানাতে চায় রতনের সত্তোর ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা মা মমতাজ বেগম। মৃত্যুর আগে তিনি খুনিদের ফাঁসি দেখে যেতে চান। তিনি বলেন, যারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল তারা রতনকে হত্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দাবি সেসব হত্যাকারীর দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি। ফতুল্লার গাবতলীর বাড়িতে কথা হয় রতন শিকদারে মা মমতাজ বেগমের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে জানান, বছর ঘুরে আগস্ট মাস এলে অনেকেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা মনে করেন। কিন্তু আমি আমার রতনকে প্রতিটি সময় মনে করি। আমার কাছে মনে হয় রতন বাসায় ঘুমিয়ে আছে। ঘুম থেকে উঠেই কিছু একটা খেতে চাইবে আমার কাছে। আমি অনেক সময় এমনটা মনে করে খাবার তৈরির জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠি। রতনের ছোট দুই ভাই আমার এ ব্যস্ততা দেখে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। তখন আমি বুঝতে পারি রতন আমার অন্তরে বাস্তবে নেই। তিনি যুগান্তরকে আরও বলেন, রতনের স্ত্রী রোজিনা আক্তার এক ছেলে এক মেয়ে সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে থাকেন। তার বাবার বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো। সরকার তাদের আর্থিক সহযোগিতা করেছে। দলীয় লোকজনও খোঁজখবর রাখেন। রতনের ছেলে আনন্দ শিকদার মেয়ে অপূর্ব তারা দু’জনেই যাত্রাবাড়ীতে লেখাপড়া করছে। রতন শিকদারে ছোট ভাই কবিরউদ্দিন সিকদার ওরফে টুটুল সিকদার যুগান্তরকে জানান, বড় ভাই রতন শিকদার বিভিন্ন টেক্সটাইল মিল হতে কাপড় কিনে দোকানে বিক্রি করত। আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা রতন শিখেছিল পরিবার থেকে। বাবা মৃত আবদুল হক শিকদারও ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। রতন মৃত্যুর পর প্রথমে এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়। ২০১৩ সালে রতনের দুই ছেলে মেয়েকে ২ লাখ টাকা করে ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা খবর না নিলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান খোঁজখবর নেন। কোনো সমস্যায় তার কাছে গেলে সহায়তা করে। এছাড়া দলীয় আর কোনো নেতাকর্মী খোঁজখবর নেয় না। প্রতিবছর এ দিনটি এলে ঢাকা দলীয় কার্যালয় থেকে একটি চিঠি আসে সেখানে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেই। টুটুল সিকদার আরও জানান, এবার স্থানীয় মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদে দোয়া পড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। এতিমদের এক বেলা দু’মুঠো খাবার খাওয়াব। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার গাবতলী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্বাস উদ্দিন সিকদার ওরফে রতন সিকদার। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের একনিষ্ট অন্ধভক্ত। আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং বা সমাবেশ হলে তাকে কেউ বেঁধে রাখতে পারত না। মিছিল-মিটিংয়ের আগে থাকতেন, স্লোগান দিতেন। ক্ষুদ্র ব্যবসার স্বল্প উপার্জনে সংসার চালানো দায় হলেও শেখ হাসিনার কোনো সমাবেশ হলেই নিজের টাকা খরচ করে সেখানে ছুটে যেতেন তিনি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত