টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রাজৈরে লিটন মুন্সীর পরিবারে শোক কাটেনি
যেখানেই আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিল- সেখানেই লিটন মুন্সীর অবস্থান। সে ছিল আওয়ামী লীগের নিবেদিতকর্মী। আর তার টানেই লিটন সেদিন সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকা গিয়েছিল এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সী নির্মমভাবে নিহত হন। নিহত লিটন মুন্সীর পরিবারে শোকের ছায়া এখনও কাটেনি। বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার কেমন আছেন জানার জন্য রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামের যুবলীগ নেতা নিহত লিটন মুন্সির বাড়ি গেলে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। এ সময় লিটন মুন্সির মা আছিয়া বেগম, বাবা আইয়ুব আলী মুন্সি, বোন ইসমতআরা, কান্নায় ভেঙে পড়েন। মা আছিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে লিটন মুন্সি বলেছিল, মা তোমার পেটের পাথর অপারেশন করে আনবো। মাত্র ১০ দিন অপেক্ষা করো। ৯ দিনের মাথায় ছেলে লাশ হয়ে ফিরেছে। লিটনের বাবা আইয়ুব আলী মুন্সী গ্রেনেড হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, লিটন মুন্সীর কবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি একটিবারের মতো জিয়ারত করে যেত তাহলে আমি মরেও শান্তি পেতাম।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত দুই বছর পূর্বে তার নিজ হাতে আমাকে ৫ লাখ ও আমার ছেলের একমাত্র মেয়ে মিথিলাকে ৫ লাখ টাকার চেক দেন এবং আমাকে প্রতিমাসে ২ হাজার টাকা ও মিথিলার ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেন। একমাত্র বোন ইসমতআরা জানান, আমার ভাই-বাবা-মার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল তার মৃত্যুর পর আমার বাবা কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করছে। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে তিনি। তাই এখন আর কৃষিকাজ করতে পারে না। আমার বাবা যে ভাতা পায় তাতে আমাদের সংসার চলে না।
লিটন মুন্সীর মা আছিয়া বেগম জানান, লিটন মুন্সীর একমাত্র মেয়ে মিথিলার আগামী ১ সেপ্টেম্বরে বয়স ১৩ বছর পূর্ণ হবে। ২০০৪ সালে মিথিলার প্রথম জন্মদিন উপলক্ষে তার বাবার জামা-কাপড় নিয়ে বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মিথিলার জন্মদিনের পোশাক আর তার আনা হয়নি। এখন মিথিলা নানা বাড়ী মাদারীপুরে থাকে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত