আসাদুল ইসলাম বাবুল, ভূঞাপুর    |    
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
‘আপাকে পানি খাওয়াতে পারিনি’

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জীবন্ত সাক্ষী আবদুল বারেক ওরফে বাবু। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার টেপিবাড়ি গ্রামের মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক মিয়ার ছেলে। ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার পর আইভী রহমানকে উদ্ধারকারী এই বাবু।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতাকালে প্রথম গ্রেনেড বিস্ফোরণের পরপরই মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বাবু নিজের গায়ের জামা দিয়ে নেত্রীর শরীর ডেকে যখন নিয়ে আসছিলেন তখনই দ্বিতীয় গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় চারদিকে আর্তনাদ, আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। পার্টি অফিসের সামনে রমনা মসজিদের কাছে আইভী রহমানকে নিয়ে এলে নেত্রীর চাচাতো ভাই লিটন মোল্লা ও ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে আসেন। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সংবাদ পেয়ে আইভী রহমানের ছেলে বর্তমান এমপি নাজমুল হাসান পাপন ঢাকা মেডিকেলে এসে মাকে দেখে অজ্ঞান হয়ে যান। বাবু জানান, ১৮ আগস্ট আইভী রহমান ভৈরব মডেল স্কুলে ত্রাণ দেয়ার সময় তাকে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে যাওয়ার জন্য বলেছিলেন। তার কথা রাখতে এবং দলীয় টানে বাবু ২০ আগস্ট ঢাকায় আসেন। বাবুর বাবা পুলিশে চাকরির সুবাদে ভৈরবে ছিলেন এবং জিল্লুর রহমানের পাশের বাসায় থাকত বাবুদের পরিবার। সেই সম্পর্কের টানে বাবু নিজের জীবন বাজি রেখে নেত্রীকে উদ্ধার করতে যান। বাবু বলেন, অনেকে টকশোতে-সাক্ষাৎকারে নিজেদের কৃতিত্বটুকুই তুলে ধরেন, নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করেন। প্রকৃত ঘটনা বলেন না। বাবু বলেন, আমি সভা চলাকালীন নেত্রীর পাশেই ছিলাম। তিনি ঠাণ্ডা পানি খেতে চেয়েছিলেন। আমি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ফ্রিজ থেকে বোতল বের করেছি মাত্র, তখনই গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। চারদিকে কান্নার রোল আর ছোটাছুটি। আমি তাকিয়ে দেখি হইচই আর রক্তাক্ত মানুষের ছোটাছুটি। দেখি আইভী আপা রক্তাক্ত অবস্থায় এক পা বিহীন মাটিতে পড়ে আছেন। দৌড়ে তাকে কোলে তুলে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। তখন আমি আপাকে নিয়ে বাইরের দিকে বের হয়ে আসি, তার পর আপাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল চলে যাই। আমার দুঃখ, আমি তাকে সেই ঠাণ্ডা পানি খাওয়াতে পারিনি, পারিনি তাকে বাঁচাতে। আপা বেঁচে থাকলে আমাকে আজ দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হতো না। কেউ কোনোদিন জানতেও চায়নি বাবু এত সাহস দেখিয়ে গ্রেনেডের ভেতরে কিভাবে গেলি, কেন গেলি? ২১ আগস্টের গ্রেনেড বিস্ফোরণের ভয়াবহ শব্দ যেন আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তার কানে এখনও বারবার ভেসে আসে আইভী রহমানের শেষকথা, বাবু আমি ঠাণ্ডা পানি খাব।

বাবুর নিজের থাকার কোনো জায়গা নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে ভূঞাপুর পৌর এলাকার বাহাদিপুর লেভেল ক্রসিং থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে রেল সড়কের ঢালে রেলওয়ের জায়গায় ছোট একটি খুপরি ঘরে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন। সড়কের দু’পাশে রেলওয়ের জায়গায় সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নিজের চাওয়ার কিছু নেই। তিনি চান আইভি স্মৃতি পরিচর্যা পরিষদ থেকে মানুষ যেন সেবা পায়, চিকিৎসা পায়। আইভী রহমানের মৃত্যুর পর নিজ গ্রাম টেপিবাড়িতে আইভী রহমান স্মৃতি সংসদ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন বাবু। স্মৃতি সংসদের নামে ব্যক্তিগত অনুদানে একটি ঘর উত্তোলন করেছেন তিনি।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত