নেত্রকোনা প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
নেত্রকোনায় বিদ্যুৎ সংযোগে প্রতারণার অভিযোগ
লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় চক্র

নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় জেলার পূর্বধলা ও কলমাকান্দায় কয়েকটি গ্রামে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নাম করে স্থানীয় একটি মহল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই সব গ্রামের ৭৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর পক্ষে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নের বিষমপুর আন্দোয়ারা গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে স্থানীয় সিধলী বাজারের ধান ব্যবসায়ী আবদুল হেকিমের সেচ লাইন আছে। ওই লাইন থেকে পল্লীবিদ্যুতের লাইনম্যানের সহযোগিতায় অবৈধভাবে গ্রামের কয়েকজনের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। আরও লাইন দেয়া হবে বলে গ্রামের ১৮ পরিবারের কাছ থেকে গত বছরের ১০ নভেম্বর ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা নেয়া হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুৎ না দেয়ায় গ্রামের লোকজন টাকা ফেরত চান। বিদ্যুৎ সংযোগ আনতে হলে জিএমকে আরও ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান আবদুল হেকিম। এ ব্যাপারে মহর আলী নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে জেলার পূর্বধলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাশিদের ছেলে, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা নূরুল আমীন গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে গত ৪ বছর আগে ৫৯ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেন। এ ব্যাপারে ধলা গ্রামের মৃত আবদুল আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন, আবদুর রউফ, নূর মোহাম্মদ, আবদুল গনিসহ ৫৯ জন গ্রামবাসী সোমবার নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মজিবুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে ফরম বাবদ ৫০ টাকা ও সংযোগ ফি বাবদ ৬০০ টাকা লাগে। একটি প্রতারক চক্র গ্রামের মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়ার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা উচিত। তাহলে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। কিন্তু কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করে না। ফলে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায় না। বিষমপুর আন্দোয়ারা গ্রামের আবদুল হেকিম টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ করতেই পারে। তবে আমি টাকা নেইনি। বিদ্যুতের লাইনম্যান মইসাউড়া গ্রামের আউয়ালের কাছে টাকা দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে, তবে একটু সময় লাগবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত