পঞ্চগড় প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর
তেঁতুলিয়ায় বিপাকে সেকায়েপ প্রকল্পের শিক্ষকরা
বিপাকে পড়েছেন ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহ্যাসমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শিক্ষকরা। চলতি মাসেই প্রকল্প শেষ হতে যাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এসে নিজেরাই এখন মুখোমুখি হয়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ীকরণের কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এ উপজেলার ৮৪ জন শিক্ষক। গভীর অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর হতাশাগ্রস্ত এ শিক্ষকরা দাবি করছেন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোসহ এমপিওভুক্ত করার। তেঁতুলিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো সেই সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে শুরু হয় ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহ্যাসমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ)। পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের আওতায় এসিটি (অতিরিক্ত ক্লাস শিক্ষক) কম্পোনেন্টের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ২০১৫ সালে ৩ বছর মেয়াদে সারা দেশের ৬৪টি জেলার একটি করে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ২ হাজার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, মাদ্রাসা) ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ৫ হাজার ২০০ জন অতিরিক্ত ক্লাস শিক্ষক (এসিটি) নিয়োগ দেয়া হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং এর মান উন্নয়নে আগ্রহীদের জন্য সৃষ্টি হয় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। অনেক মেধাবী শিক্ষিত জড়িয়ে পড়েন এ প্রকল্পে। এমন ৮৪ জন শিক্ষক আছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। কিন্তু চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে এ প্রকল্পের মেয়াদ। শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হয়ে ঝরে পড়া রোধ করতে আসা শিক্ষকরাই এখন অস্তিত্ব সংকটে। অনেকেরই সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সম্মুখীন। হতাশাগ্রস্ত এসব শিক্ষক তাদের এমপিওভুক্তির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলার সেকায়েপ প্রকল্পের শিক্ষকরা। জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানসহ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লে চাকরির মেয়াদও বাড়তে পারে এমনকি করা হতে পারে এমপিওভুক্ত, এমনটাই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল বলে তারা জানান। দেশের সর্বউত্তরের এ প্রত্যন্ত উপজেলার এমনিতেই শিক্ষক সংকট থাকায় সেকায়েপ প্রকল্প শেষ হলে শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক হুমকিতে পড়বে এবং পাঠদান ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষক নেতারা। পঞ্চগড় জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তেঁতুলিয়া উপজেলা যে ৮৪ জন অতিরিক্ত ক্লাস শিক্ষক সেকায়েপ প্রকল্প থেকে দেয়া হয়েছে তাদের পাঠদানের মান অত্যন্ত ভালো। ওই শিক্ষকরা আসার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অনেকটা এগিয়ে গেছে। এমনিতেই নানা জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ প্রত্যন্ত উপজেলায় শিক্ষক সংকট রয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন আকতার বানু বলেন, ‘সেকায়েপ প্রকল্পের এসিটি শিক্ষকদের ব্যাপারে আমি মাঝে মাঝেই প্রকল্প পরিচালকসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এ মেধাবী শিক্ষকদের দক্ষতা ও পাঠদানের কৌশল বিবেচনায় তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করলে অবহেলিত প্রত্যন্ত এ উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থা অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত