ম. কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, নেত্রকোনা    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
সুলঙ্গি বিলে নামলেই গ্রেফতার
নেত্রকোনায় নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা * কৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে বাদী করার অভিযোগ

সদর উপজেলার সুলঙ্গি বিলে মাছ ধরা নিয়ে চল্লিশা, কাইলাটি ও দক্ষিণ বিশিউড়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হয়রানিমূলক মামলায় আতঙ্কে তিন ইউনিয়নের ৭-৮টি গ্রামের মানুষ। বাদীকে না জানিয়ে মামলায় সাংবাদিকসহ ৬-৭শ’ গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে শত শত গ্রামবাসী। এমন অবস্থায় গ্রাম বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পলো বাওয়া উৎসব হুমকির মুখে পড়েছে। মাছ ধরতে গেলেই তাদের গ্রেফতার করে মামলায় ঢুকিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সনুরা গ্রামের সফিকুল ও নয়নের নেতৃত্বে একটি চক্র মামলায় ঢোকানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বিল সুলঙ্গি বিলে ২৩ নভেম্বর মাছ ধরতে যায় কয়েকশ’ গ্রামবাসী। সনুরা গ্রামের কতিপয় সন্ত্রাসী তাদের মারধর করে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়। পরে রাতে সবিকুল ও নয়নের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে বিশিউড়া বাজারে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানের মালামালও লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে নেত্রকোনা সদর থানায়। এদিকে মাছ ধরতে যাওয়ায় সনুরা গ্রামের রুবেল মিয়াকে না জানিয়ে তাকে বাদী করে উল্টো মামলা করা হয় নয়ন ও সবিকুলের পরামর্শে। যাতে চল্লিশা, কাইলাটি ও বিশিউড়া ইউনিয়নের ৬ থেকে ৭শ’ গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর। বাদী রুবেল মিয়ার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে ২২ নভেম্বর। মাছ ধরা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে ২৩ ডিসেম্বর। ওই দিন মাছ ধরতে যারা ঘটনাস্থলে যাননি তাদেরও ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রুবেল মিয়া বলেন, বিলে মাছ ধরা নিয়ে যে মামলা করা হয়েছে, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। মামলা দায়েরের পরে থানার দুলাল দারোগা আমার বাড়িতে এসে জানিয়ে যান আমি ওই মামলার বাদী। তিনি আরও বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। আমরা কয়েকজন মিলে বিলের পাশে কিছু কুয়া (ডোবা) সনুড়া গ্রামের সবিকুলসহ অন্যদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকায় ক্রয় করেছিলাম। সবাই বিলে মাছ ধরতে আসবে শুনে কুয়ায় পুলিশি নিরাপত্তার কথা বলে আমাকে ডেকে নেয়া হয়। সত্যি ওই ঘটনার আগের দিনেই সনুড়া গ্রামের সবিকুল আমাকে এসপি অফিসে নিয়ে গিয়ে আমার কাছ থেকে কাগজে সই নেয়। যা পরে ব্যবহার করে আমাকে ওই মামলার বাদী করা হয়েছে। যে মামলায় ৩ ইউনিয়নের মানুষ ছাড়াও আমার অনেক কাছের আত্মীয় স্বজনকেও আসামি করা হয়েছে। এমনকি মাসুদ মিয়া নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। যাকে আমি চিনি না।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ইতিমধ্যে ২৮ জন আসামি গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আমীর তৈমুর ইলী যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার পর নয়ন মিয়াসহ ৩ জন থানায় এসে বাদীর টাইপকৃত অভিযোগ জমা দিয়ে যায়। সরেজমিন প্রাথমিক তদন্তক্রমে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চল্লিশা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার ফকির বলেন, নয়ন ও শাহজাহান দু’জন মিলে বাদী রুবেলকে ফাঁসাচ্ছে। ১৯ একর ৯০ শতাংশ খাস জমিতে মূল বিলটি রয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহল বিলটিতে মাছ ধরতে দিচ্ছে না। দক্ষিণ বিশিউড়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিলটিতে গত কয়েক বছর ধরে মাছ ধরতে না দেয়ায় এলাকার লোকজন এবার মাছ ধরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। শুনেছি নিরীহ লোকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কাইলাটী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিল চুলঙ্গির বিলে নেত্রকোনাসহ ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু অংশের লোকজন মাছ ধরতে আসে। নিরীহ লোকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত সপ্তাহে অন্য একটি বিলে আমার ইউনিয়ন ও বাংলা ইউনিয়নের কিছু লোক মাছ ধরতে গেলে খবর পেয়ে রাস্তা থেকে আমার ইউনিয়নের ২৮ জন ও সিংহের বাংলার ১৫ জন নিরীহ লোককে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং পূর্বের বিল চুলঙ্গির ঘটনায় জড়িত করে কোর্টে সোপর্দ করে। তবে বিচারক এফআইআরভুক্ত আসামি না হওয়ায় তাদের জামিনে মুক্তি দেন।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত