বরগুনা প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বিষখালী নদীর ছোবল
বরগুনায় বসতবাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি বিলীন
বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা বিষখালী নীল বিষের ছোবলে ক্রমশ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে নদীর দু’পাড়ের মানুষ। দুই তীরের জনপদ কোথাও ভাঙছে আবার কোথায় গড়ে উঠেছে নতুন নতুন চর। নদীরগর্ভে চলে গেছে ফসলি ক্ষেত, বসতবাড়ি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণ করা বেড়িবাঁধ। ইউনিয়ন পরিষদের নির্মিত রাস্তা, স্লুুইস গেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছোট-বড় বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিষখালী দু’পাড়ের ভাঙন কবলিত হয়েছে বরগুনার সদর ডালভাঙ্গা, মোল্লারহোরা, নিশান বাড়িয়া, রায়ভোগ, গুলিশাখালী, গুলবুনিয়া, আয়লা, জাঙ্গালিয়া। বেতাগী উপজেলার চরখালী, কালিকা বাড়ি, বলইবুনিয়া, তালবাড়ি, বিবিচিনি, বেতাগী বন্দর। পাথরঘাটার উপজেলার বাদুরতলা, জিনতলা, চরদোয়ানী, কালমেঘা, কাকচিড়ার বাজার। বামনা উপজেলার চলাভাঙ্গা, রামনা, বমনার পুরতান বাজার ও লঞ্চঘাট। আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকা ভাঙনের মুখে রয়েছে।
এমনিই একটি জনপথের নাম বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙ্গা, মোল্লারহোরা লতাবাড়িয়া, মাছখালী, এলাকার বিষখালী করাল গ্রাসে নিঃস্ব হয়েছে ৫ শতাধিক পরিবার। সম্প্রতি মানুষ ভাঙন এলাকার রোধে ব্লক স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। ওই সময় বক্তব্য রাখেন ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক স্বপন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম, লাভলু মোল্লা, আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক মো. ফারুকসহ আরও অনেকে। ভাঙন এলাকার আফজাল হোসেন বলেন, কিশোর বয়সেই এই এলাকার ভাঙন দেখতে শুরু করেছি কবে শেষ হবে জানি না। এই ভাঙনে বিলীন হয়েছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমি। এলাকার রাস্তাঘাট বসতিবাড়ি ঘর, নির্মিত তিন বার পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকার তাছলিমা বেগম বলেন, এই ভাঙনে মোগো সব শেষ অইয়া গেছে। এহন একটা ছোট্ট ঘর বানাইছি আবার ভাঙলে কোম্মে যামু আল্লায় জানে। এমন কথা জানালেন এলাকার খলিল, ফারুকসহ আরও অনেকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ডালভাঙ্গা বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ডালভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার রফেজ হাওলাদারের পুরাতন মসজিদ ভাঙন মুখে রয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে ফসলি জমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। ডালভাঙ্গা বিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম যুগান্তরকে জানান, এই বিদ্যালয়টি স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে এবং ডালভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৪২ সালে নির্মিত হয়েছে। এই ভাঙনের কারণে এলাকার অভিভাবক, সুশিল সমাজ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থীরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, ভাঙনের ফলে এলাকার প্রায় দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তা। এছাড়া ডালভাঙার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে কদমতলা মোল্লারহোরা, রায়ভোগ, বান্দর গাছিয়াসহ কয়েকটি এলাকার ফসলহানি হবে। জনস্বার্থে জরুরিভিত্তিতে এ ভাঙন এলাকায় ব্লক স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত