আনু মোস্তফা, রাজশাহী থেকে    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কলেজ জাতীয়করণের নামে কোটি টাকার তহবিল
তানোরে একে সরকার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ

কলেজ জাতীয়করণে টাকা-পয়সা না দেয়ার জন্য সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নোটিশের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে। শিক্ষামন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা-পয়সা কাউকে না দেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদরে অবস্থিত একে সরকার ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণে কোটি টাকার তহবিল গড়ার নাম করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে পদের গুরুত্ব অনুসারে ঊর্ধ্বে ২ লাখ থেকে নিুে ৪০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে কলেজটির শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না। কিছুদিন আগে জাতীয়করণের তহবিলে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীকে মারধর করে স্থানীয় এমপির কয়েকজন ক্যাডার।

জানা যায়, কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস-প্রিন্সিপালসহ ক্ষমতাসীন দল সমর্থক কয়েকজন শিক্ষক চাপ ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা তুলছেন। টাকা না দিলে চাকরি চলে যাবে বলে ভয় দেখাচ্ছেন। কলেজের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে যুগান্তরকে বলেন, জাতীয়করণের খরচ হিসেবে তারা যে টাকা দিবে, সেটা কাকে দেয়া হবে, এটা কলেজ কর্তৃপক্ষ কাউকেই বলছে না। আর এ কারণে তারা নির্ধারিত চাঁদা দিতে চান না। কিন্তু তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে সোমবার তানোর একে সরকার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় পেয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কলেজ জাতীয়করণের কোটি টাকার

তহবিল প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া মাত্রই তিনি অতিরিক্ত ব্যস্ততা দেখিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে এখন কথা বলার তার একটুও সময় নেই। পরে ফোন করে কথা বলবেন।

কলেজটির শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ কলেজের অধ্যক্ষ জাতীয়করণ ইস্যুতে একটি সভা ডাকেন। সেখানে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক জাতীয়করণ তহবিলে প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাঁদা নির্ধারণ করেন। সভায় কয়েকজন শিক্ষক এই ধরনের তহবিলে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বহিরাগত ক্যাডাররা ওই শিক্ষকদের ওপর হামলা করে। এ কারণে সভাটি পণ্ড হয়ে যায়।

শিক্ষকদের কয়েকজন জানান, এই ঘটনার পরপরই কলেজের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষর দেয়া বন্ধ করে দেন। এভাবে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বেতন বিল আটকে রাখেন এমপি। গত ঈদেও এই কলেজের কেউ বেতন-ভাতা পাননি। ঈদুল ফিতরের পর কলেজের শিক্ষকরা এমপির রাজশাহীর বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলোচনার পর তাদের বেতন-ভাতা ছেড়ে দেয়া হয়। ওইসময় কলেজের শিক্ষকরা জাতীয়করণে খরচ বাবদ নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধের অঙ্গীকার করেন।

শিক্ষকরা আরও জানান, একে সরকার কলেজটি উপজেলা সদরে অবস্থিত একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ। এখানে ৮৪ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। কলেজটি জাতীয়করণ হবে এমন কোনো কাগজপত্রও তারা দেখেননি। তবে জুলাই মাসের শেষের দিকে চাঁদা তোলা নিয়ে ফের সভা করেন অধ্যক্ষ। এ সভায় চাঁদার হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনার্স পর্যায়ের ২০ শিক্ষকের প্রত্যেকের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, এমপিওভুক্তদের ১ লাখ, যেসব শিক্ষকের ৬ থেকে ১০ বছর চাকরি আছে তাদের ৮০ হাজার থেকে ৬০ হাজার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা চাঁদা ধরা হয়। এরই মধ্যে ৪৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে জাতীয়করণ তহবিলে। বাকিদের ১৪ আগস্টের মধ্যে চাঁদা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাতীয়করণের নামে কোটি টাকা কে নেবে- এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষকদের মাঝে। নাম প্রকাশ না করে একজন জুনিয়র শিক্ষক বলেন, টাকাটা কলেজের সভাপতি নেবেন নাকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেউ নেবেন তা স্পষ্ট নয়।

বিষয়টি জানতে কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

এই প্রসঙ্গে শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. শেখ ওয়াহিদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, কলেজ জাতীয়করণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকারি নিয়মেই জাতীয়করণ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই ধরনের চাঁদা তুলে জাতীয়করণ তহবিল করা বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এই ব্যাপারে আগেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কলেজ কর্তৃপক্ষই দায়ী হবে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত