নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চট্টগ্রামে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ
ভাড়াটের তথ্য সংগ্রহে ১০ লাখ ফরম বিতরণ সিএমপির
জঙ্গি তৎপরতা রুখতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৫ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ভাড়াটিয়াদের তথ্যব্যাংক তৈরি ও সন্দেহজনক বাসিন্দাদের নজরদারির আওতায় আনতে তথ্য সংগ্রহের এ কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ভাড়াটিয়াদের মাঝে ১০ লাখ ফরম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দু’এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ৫ লাখ ফরম বিতরণ সম্পন্ন হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এর আগেও বেশ কয়েকবার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয় সিএমপি। সম্প্রতি অপরাধীরা ভাড়াটিয়া সেজে গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। এ হামলার পর ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যর্থতা পরিচয় দিতে চায় না সিএমপি। এরই মধ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ১০ লাখ ফরম বিতরণ করেছে পুলিশ। ভাড়াটিয়াদের কাছে মোবাইল নম্বর এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানাসহ চাওয়া হচ্ছে ১৬টি তথ্য। প্রাপ্ত এসব তথ্য নিয়ে গড়ে তোলা হবে নগরীর বাসিন্দা তথা ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, ‘মহানগরীতে পনেরো লাখের মতো ফরম বিতরণ করা হবে। সব ভাড়াটিয়ার তথ্য একসঙ্গে করে, তৈরি হবে ডাটাবেজ। এ জন্য হাতে ফরম নিয়ে নগরবাসীর দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। বাড়ির মালিকের হাতে তুলে দিচ্ছেন ‘নাগরিক পরিচিতি ফরম’। ১০ লাখ ফরম এরই মধ্যে বিতরণ করা হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে এর আগে বেশ কয়েকবার
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও তা গতি পায়নি। মাঝপথে থমকে গেছে এ কার্যক্রম। সিএমপি সূত্র জানায়, এবার মহানগরীর ১৬ থানা এলাকায় ১৪৫টি পুলিশ বিটের মাধ্যমে নগরীর সব বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিএমপির এডিসি (মিডিয়া) আনোয়ার হোসেন জানান, কাঁচা-পাকা মিলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাড়ির সংখ্যা ৪ লাখের কাছাকাছি। তাতে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তথ্য সংগ্রহের এ কাজ করছে।
খুলশী থানাধীন অয়্যারলেস মোড়, সেগুনবাগান, ওয়ার্কশপ গেটসহ বিভিন্ন এলাকার বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বরত এসআই মো. আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, ভাড়াটিয়ার তথ্য দেয়ার ব্যাপারে এক সময়ে বাড়ির মালিকরা অনীহা প্রকাশ করতেন। থাকতেন উদাসীন। গুলশান ও শোলাকিয়াতে জঙ্গি হামলার পর মালিকরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পেয়েছেন। ভাড়াটিয়া সেজে কোনো অপরাধী কারও ভবনে উঠলে এবং কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করলে সেক্ষেত্রে দায়ভার ওই মালিকের ওপরে বর্তাবে। মূলত এ কারণে এখন ভাড়াটিয়ার তথ্য দিতে উল্টো ভবন মালিকরা উৎসাহী হয়ে উঠেছে। তার আওতাধীন ৮০ শতাংশ এলাকায় ভাড়াটিয়াদের কাছে ফরম পৌঁছানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ইকবাল রোড, ব্রিক ফিল্ড, সতিশ বাবু লেইনসহ কয়েকটি এলাকার বিট পুলিশিং এ দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই গোলাম ফারুক ভূঁইয়া যুগান্তরকে জানান, ‘সিএমপিতে নতুন পুলিশ কমিশনার যোগদানের পর থেকে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। তবে গুলশানে এবং শোলাকিয়াতে জঙ্গি হামলার পর তথ্য সংগ্রহে গতি বেড়েছে। আগে বাসার মালিকের কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি বুঝাতে হত। এখন মালিকরা নিজ থেকে ফরম নিয়ে ভাড়াটিয়াদের তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।’ তার এলাকায় ৭০ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারাও। নগরীর জামালখান এলাকার বাড়ির মালিক নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ‘পুলিশ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানতে পারবে আমার বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়া কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না। যদি জড়িত থাকে সেক্ষেত্রে পুলিশই ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত