সিলেট ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রাগীব আলীর অবৈধ স্থাপনা পাহারায় শাসক নেতারা
ইসকনের পিটিশনের রায় সোমবার
সিলেটে দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর দখল করে কথিত দানবীর রাগীব আলীর স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা পাহারায় নেমেছেন শাসক দলের কতিপয় নেতা। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তারাপুরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ হলে সেখানেও তৎপর হয়ে ওঠেন এই ভূমিখেকোরা। তারা নিজেদের পদ-পদবি, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে তিন শতাধিক বাসা-বাড়ি নিয়ে স্থাপিত রাগীব আলীর অবৈধ আবাসন প্রকল্প রক্ষা করতে মরিয়া। এ লক্ষ্য অর্জনে তারা কয়েক মুক্তিযোদ্ধাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। রাগীব আলীর সুবিধাভোগী সর্বদলীয়দের আড়ালে রাখা হয়েছে। তারাপুর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ২ আগস্ট জেলা প্রশাসন দ্বিতীয় দফার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এরপর থেকে রাজনৈতিক প্রভাবশালী এই চক্র সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে তৎপর হয়ে উঠেছে। তাদের সঙ্গে রাগীব আলীর ভাড়াটে বাহিনীও রয়েছে। বিশাল অংকের তহবিল নিয়ে মাঠে থাকা এই চক্র এরই মধ্যে একাধিক মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়েছে।
সোমবার তারাপুরবাসীর ব্যানারে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়- হঠাৎ করে বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিলে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। তারা বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানান। দুপুর ১২টায় তারাপুর থেকে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক খান রাজা, মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেট জেলা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা, মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সাবেক সিটি কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, ৮নং ওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক শাহরিয়ার কবির সেলিম, ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস শহিদ, শেওলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ শামসুদ্দিন খান, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম আহমদ সেলিম, ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নজু, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সাব্বির খান, মহিলা কাউন্সিলর রেবেকা বেগম রেনু, ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নের মেম্বার শফিকুর রহমান শফিক।
এদিকে ইসকনের দাখিল করা পিটিশনের শুনানি সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষ হলেও এ ব্যাপারে কোনো রায় দেননি আদালত। আগামী সোমবার এ সংক্রান্ত রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পিটিশনার ও ইসকনের আইনবিষয়ক মুখপাত্র নিধি কৃষ্ণ দাস ও তারাপুরের সেবায়েত পংকজ গুপ্ত এমন তথ্য দিয়েছেন। ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের এক রায়ে প্রতারণার মাধ্যমে দখল করা তারাপুর চা বাগান থেকে রায়ের ৬ মাসের মধ্যে রাগীব আলীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ১৫ মে বাগানটির মূল ও আদি সেবায়েত ডা. পংকজ কুমার গুপ্তকে বাগানের খোলা জায়গা ও মন্দির বুঝিয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে রাগীব আলীর অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা ও তিন শতাধিক আবাসিক স্থাপনা এখনও বর্তমান। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসন দ্বিতীয় দফায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে দখল না ছাড়লে সিলেটের তারাপুর চা-বাগানে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যথায় আগামী ১৪ আগস্ট থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
এদিকে উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুরের স্থাপনার ব্যাপারে পর্যালোচনা করতে ৪ আগস্ট ঢাকাস্থ অর্থমন্ত্রীর বাসায় বৈঠক করেন সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা। দখলদার রাগীব আলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে যখন তৎপরতা চলছে এমন সময়ে তারাপুরের দেবতা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর ও তার দেবোত্তর সম্পত্তির দাবি তুলে উচ্চ আদালতে পিটিশন দাখিল করা হয়। এতে সেবায়েত পংকজ ও ইসকন মুখোমুখি হয়ে পড়ে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত