বগুড়া ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ব্যারিস্টার তাকি আহলে হাদিসের অনুসারী
বগুড়ার ব্যারিস্টার একেএম তাকিউর রহমান তাকি অন্য জঙ্গিদের মতো আহলে হাদিসের অনুসারী ছিলেন। প্রায় দু’বছর আগে শহরে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আহলে হাদিস যুব সংঘের সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন তিনি। তার বাবা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল খালেক এর সত্যতা নিশ্চিত করলেও দাবি করেছেন, তাকি ওই সংগঠনের কোনো পদেই নেই। তাকে এমনিতে বিশেষ অতিথি করা হয়েছিল।
জানা গেছে, বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল খালেকের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে তাকি সবার বড়। তিনি ২০০৪ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে ‘ও লেভেল’ পাস করেন। ২০০৬ সালে ঢাকার লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ থেকে ‘এ লেভেল’ পাস করেন। এরপর তাকে লন্ডনের ক্যানটারবেরি ক্যান্ট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন ২০০৯ সালে। পরের বছর লন্ডন থেকেই বার অ্যাট ল (ব্যারিস্টার) শেষ করেন। বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ শেষে ২০১১ সালের প্রথমদিকে দেশে ফেরেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান তাকি ছোটবেলায় বাবা ও মার বিচ্ছেদ দেখেন। এ কারণে তিনি পরিবারের প্রতি বিরাগ ছিলেন। ছোটবেলায় কানে দুল পরে আধুনিক জীবনযাপন করতেন। আধুনিক সঙ্গীতের প্রতি আসক্ত ছিলেন। কিন্তু লন্ডনে যাওয়ার পর তার আমূল পরিবর্তন ঘটে। দাড়ি রাখেন ও ধার্মিক হন। নিজে নামাজ-রোজা করতেন এবং অন্যদের পরামর্শ দিতেন।
২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিজের পছন্দে চট্টগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোহাম্মদ ইকবালের মেয়ে রিদিতা রাহেলাকে বিয়ে করেন। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার কলাবাগানের বসির উদ্দিন রোডের ১৪, লেক সার্কাসে একটি ফ্ল্যাটে (৮/বি) বসবাস করতে থাকেন। তাদের একমাত্র সন্তান দেড় বছরের রুমাইশা। গত বছরের ৪ এপ্রিল তিনি তার বাবা ও অন্যদের জানিয়ে ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান। ২২ এপ্রিল ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরেননি। বাবা আবদুল খালেক ৯ জুন ঢাকার কলাবাগান থানায় ডিজি করেন। এর ৩-৪ মাস পর অজ্ঞাত ও ফোন নম্বর থেকে জানান, তারা একটি ভালো দেশে ও ভালো অবস্থায় আছেন। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি বাবা আবদুল খালেক তার ছেলে তাকি সপরিবারে নিখোঁজের বিষয়টি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইকে জানিয়েছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়ার এক শিক্ষক ও মাওলানা জানান, পরিবারের সদস্যরা অন্য মতের হলেও ব্যারিস্টার একেএম তাকিউর রহমান তাকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসাদুল্লাহ আল গালিবের নেতৃত্বাধীন আহলে হাদিসের অনুসারী। প্রায় দু’বছর আগে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আহলে হাদিস যুব সংঘের সমাবেশ হয়েছিল। সেখানে তাকিকে বিশেষ অতিথি করা হয়। এ ব্যাপারে শহরে পোস্টারিং করা হয়েছিল। ওই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেই তাকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছিল। তার বিশ্বাস- তাকি ঢাকায় শিক্ষকতা বা ওকালতি করতেন না। তিনি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিনিময়ে তাকে মোটা অংকের টাকা দেয়া হতো। ওই মাওলানা ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও কানাডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ হাসিবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বর্তমানে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা না বুঝে ধর্মকে গ্রহণ করে বিপথে যাচ্ছে।
এদিকে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস ঘটনায় জড়িত বগুড়ার শাজাহানপুরের বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধন এবং ধুনটের বানিয়াজান চল্লিশপাড়ার শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বলও আহলে হাদিসের অনুসারী হয়ে যান। এ ছাড়া বগুড়ার শেরপুরে একটি বাড়িতে গ্রেনেড বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুল ইসলাম জুয়েলও আহলে হাদিসের অনুসারী ছিলেন। ওই মাওলানা দাবি করেন, বর্তমানে দেশে ধর্ম নিয়ে যেসব ফেতনা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে আহলে হাদিস মতাবলম্বীরা। বিদেশ থেকে তাদের কাছে মোটা অংকের টাকা আসে। বগুড়া ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিরুল ইসলাম জানান, নিহত জঙ্গি পায়েল, উজ্জ্বল, জুয়েল আহলে হাদিসের অনুসারী ছিলেন। তার বিশ্বাস- শেরপুরে গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত অপর জঙ্গি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের ছাত্র রাইসুল ইসলাম ওরফে ফারদিনও আহলে হাদিদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ব্যারিস্টার একেএম তাকিউর রহমানের বাবা আবদুল খালেক জানান, বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আহলে হাদিস যুব সংগঠনের সমাবেশে তার ছেলেকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছিল। তবে তিনি ওই সংগঠনের কোনো পদে ছিলেন না। কোনো অনুষ্ঠানে যে কাউকে অতিথি করা যায়। ওই সংগঠন থেকে তাকেও সদস্য করার জন্য অনুরোধ এসেছিল।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত