• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
জিয়াউল গনি সেলিম, রাজশাহী ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রাজশাহীতে সক্রিয় হচ্ছেন শয্যাশায়ী কবির হোসেন
ফেরার পথ খুঁজছেন রিজভী

রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট কবীর হোসেন ফের নড়েচড়ে বসেছেন। বিএনপি উপদেষ্টার তালিকায় এবার তার নাম উঠেছে। এরইমধ্যে তার বাসায় সারাক্ষণ নেতাকর্মীদের ভিড় শুরু হয়ে গেছে। তবে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। কারণ ৭-৮ বছর ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায়। বাড়ির বাইরে বের হতেও পারেন না।

এখানে মূলত দাবার ঘুঁটি চালছেন কবির হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহচর বলে পরিচিত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। রাজশাহীর রাজনীতিতে ফিরতে রিজভী নানা কৌশলে এগোচ্ছেন বলে দলের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে সদ্য ঘোষিত কমিটি থেকে বিএনপির ডাকসাইটের দুই নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফাকে কাটছাঁট করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় জানা গেছে।

দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজশাহীতে বিএনপির দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য রয়েছে। কিন্তু মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফাকে মাইনাস করে এ আধিপত্য ধরে রাখা সহজ হবে না। পাশাপাশি মিনু ও নাদিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ করে আসছিলেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল- এ দুই নেতাকে সংশোধন করা। হাইকমান্ডের নির্দেশমতো চলা। কিন্তু মিনু-নাদিমকে একেবারেই মাইনাস করে দেয়া হবে তা নেতাকর্মীরা ভাবতেও পারেননি।

প্রভাবশালী এ দুই নেতাকে কৌশলে আউট করে দেয়ার পেছনে রিজভীর হাত রয়েছে বলে মনে করছেন মিনু ও নাদিমের অনুসারীরা। সম্প্রতি বিএনপির যে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে তাতে মিনুকে উপদেষ্টা ও নাদিমকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একাধিক পদে থাকতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে তারা দু’জনই রাজশাহীতে আর কোনো পদ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা যুগান্তরকে জানান, এরশাদের আমলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলেন রিজভী। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই রিজভী কবির হোসেন অনুসারী। বিএনপির রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার ছত্রছায়াতেই। ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে রিজভী যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তখন কবির হোসেন রাজশাহীতে বিএনপির দাপুটে নেতা। ’৮৮-৮৯ সালে তার সমর্থন নিয়েই রিজভীকে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি করা হয়। রিজভী রাকসুর ভিপি এমনকি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন এ নেতার আশীর্বাদেই।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে- মিজানুর রহমান মিনুরও রাজনীতিতে উত্থান প্রবীণ নেতা কবীর হোসেনের হাত ধরেই। কিন্তু মিনু বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কবির হোসেনকে টপকে রাজশাহী সদরের নিয়ন্ত্রণ নেন। ফলে কবির হোসেনকে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে সরে যেতে হয়। এরপর আর ফিরতে পারেননি কবির হোসেন। তবে ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে কবির হোসেন রাজশাহী-২ (পবা-মোহনপুর) থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে সরে যান। বয়সের কারণে তিনি বাইরে চলাফেরাও করতে পারেন না। অনেকেই আবার বলছেন, বহু বছর পর কবির হোসেন রিজভীকে দিয়ে মিনুর ওপর প্রতিশোধ নিলেন। রাজশাহীতে রিজভীপন্থী বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন, সাবেক ছাত্রনেতা রিজভী আগামীতে (রাজশাহী-২) সদর আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। রিজভীর গুরু প্রবীণ নেতা কবির হোসেন অংশ নিতে পারেন পবা-মোহনপুর আসন থেকে। আর রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন রিজভী-কবির হোসেন গ্রুপের আরেক নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল মনির। নাদিম মোস্তফার (রাজশাহী-৫) আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক। শেষ পর্যন্ত এমনটি ঘটলে মিজানুর রহমান মিনু ও তার সবচেয়ে বেশি আশীর্বাদপুষ্ট নেতা হিসেবে পরিচিত মহানগর বিএনপির সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এবং নাদিম মোস্তফার দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তি অনেকটাই অনিশ্চিত হতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য মিজানুর রহমান মিনু এবং নাদিম মোস্তফার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিনুর আস্থাভাজন এক বিএনপি নেতা জানান, কবির হোসেন একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তাকে সবাই সম্মান করেন। কিন্তু তাকে দিয়ে আর রাজনীতির নেতৃত্ব হবে না। কারণ তিনি মারাত্মক অসুস্থ। এমন কাউকে আবার কমিটিতে এনে প্রকারান্তরে বিএনপিরই ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখার নেতারা এখনই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। সবাই পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টায় রয়েছেন। তবে রাজশাহী জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাইনুল আহসান পান্না বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে নাদিম মোস্তফার কোনো বিকল্প নেই। রাজশাহীতে বিএনপিকে ধ্বংস করতেই পরিকল্পিতভাবে নাদিমকে মাইনাস করা হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজশাহী জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন যুগান্তরকে বলেন, দলকে গোছাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এতে আগামীতে দল আরও শক্তিশালী হবে। নিষ্ক্রিয়রা দলে ফিরবে। রিজভীর রাজশাহীর রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, দেখা যাক। এ বিষয়ে এখনও কথা বলার সময় হয়নি।

রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, দলের চেয়ারপারসন নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কমিটিতে কে থাকল আর কে থাকল না এ নিয়ে কারও কিছু বলার থাকতে পারে না।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত