জাহিদ সুলতান লিখন, জাবি প্রতিনিধি    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হলের ডাইনিং ব্যবস্থা বন্ধের পথে
বটতলার নিম্নমানের খাবার খেতে হয় চড়া দামে
জাহাঙ্গীরনগর ২
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর বাস এখানে। তাদের থাকার জন্য আছে ৭টি ছাত্র ও ৬টি ছাত্রী হল। নির্মাণাধীন আরও তিনটি হল। শুরু থেকেই হলগুলোর ডাইনিংয়ে স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু খাবারের অতি নিুমানের কারণে হলের ডাইনিং ব্যবস্থা প্রায় বন্ধের পথে। ফলে শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মেস পদ্ধতিতে অথবা ক্যান্টিন ও বটতলার নিুমানের পচা-বাসি খাবার খেতে হয় চড়া দামে।
বছর দুয়েক আগে খাবারের মান বৃদ্ধির জন্য ডাইনিংয়ের কুপনের দাম ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়। এরপর কিছুদিন খাবারের মান ভালো থাকলেও হল প্রশাসনের তদারকির অভাবে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। ফলে ডাইনিংয়ে খাওয়া বাদ দিয়েছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় কিছুটা কম মূল্যে সকাল আর দুপুরের খাবার পাওয়া গেলেও তা খুবই নিুমানের। হলের বাইরের দোকানগুলোতে খাবারের দাম নেয়া হয় ইচ্ছামতো। ক্যান্টিন ও বটতলার দোকানগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর খাবারের মধ্যে ইট-পাথরের টুকরা, মাছি এমনকি পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনাও স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা, কামাল উদ্দিন হল ও বঙ্গবন্ধু হলের সামনের দোকানগুলোতে একই খাবার ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করা হয়। তবে ছুটির দিন অথবা বিশেষ দিনগুলোতে ভিড় বেশি হওয়ায় তা আরও বেড়ে যায়। বটতলার দোকানগুলোর পেছনেই নোংরা পরিবেশেই চলে রান্না। রান্নার পর ময়লা-আবর্জনা ও তরকারির ধোয়া পানি দোকানের পেছনেই ফেলা হয়। ফলে সব দোকানের পেছনেই তৈরি হয়েছে নর্দমা। প্রতিদিনের থেকে যাওয়া খাবার পরদিনের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করা হয়।
কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ তার হল সংলগ্ন বটতলায় অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের জন্য বেশ কয়েকটি দোকানে জরিমানা করেছিলেন। কিন্তু নিয়মিত তদারকি না থাকায় দোকান মালিকরা আবার আগের রূপে ফিরে আসে।
অন্যদিকে হলের ডাইনিংয়ের খাবারের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি আবাসিক হলে ডাইনিং কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী স্টাফ নন। অন্য কর্মচারীদের মতো তারা ছেলেমেয়েদের কোটা বা অন্য কোনো সুবিধা পান না। শুধু দুই হাজার টাকা বেতন আর দুই বেলা খাবারের বিনিময়ে পুরো মাস শ্রম দিতে হয় তাদের। প্রায় ৩০ বছর ধরে চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে আন্দোলন করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ফলে খাবার রান্না ও পরিবেশনের ব্যাপারে খুব বেশি যত্নশীল হন না তারা। এছাড়া তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের আন্দোলনের জন্য কিছুদিন পরপরই ডাইনিং বন্ধ হয়ে যায়। দর্শন বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্র আবু নঈম সৈকত যুগান্তরকে বলেন, একটা ডিম দোকানে খুচরা ৭ টাকায় কিনতে পাওয়া যায়, সেই ডিমটা পেঁয়াজ-মরিচ দিয়ে ভাজতেই দাম ১৫ টাকা। তাছাড়া লাভ কম হয় বলে এখানে কেউ সবজি রান্নাই করে না। তাই বাধ্য হয়েই অনেক দাম দিয়ে মাছ বা মাংস খেতে হয়। ফলে প্রত্যেক মাসে খাওয়ার পেছনেই আমাদের ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে দোকানদাররা বলেন অন্য কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী ফাও খায়। অনেকে বছরের পর বছর বাকি খেয়ে হাজার হাজার টাকা খাতায় লিখে রেখেছেন। টাকা চাইলেই মারধর করাসহ দোকান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দাম একটু বেশি নিতে হয়। না হলে আমরা ব্যবসা করতে পারব না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, বটতলা বা ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ নিজ নিজ হল করে থাকে। যে হলের সামনে যে দোকান ওই হল ওই দোকানের ভাড়া তোলে এবং অন্যান্য বিষয়গুলো খেয়াল রাখে। দোকানের খাবারের মান ও দামের ব্যাপারে তিনি বলেন, যেসব হলের সামনে দোকান আছে তাদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব একটি মূল্য তালিকা তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত তদারকি করার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত