যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পার্বত্য ভূমি কমিশন চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমিয়ে অধ্যাদেশ জারি
কমিশন বাতিল দাবিতে আজও হরতাল
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা কমানো হয়েছে। বিদ্যমান আইন সংশোধন করে মঙ্গলবার তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করেছে সরকার। সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতির প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ জারি করেন লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক। এদিকে সংশোধিত এ আইন বাতিলের দাবিতে বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদসহ বাঙালিদের ৫টি সংগঠন। আজও সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে তারা।
মন্ত্রিসভা ১ আগস্ট ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়। আইনটির সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের কোরাম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। আগে কমিশন চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হতো। আইন সংশোধন হলে চেয়ারম্যানসহ উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সিদ্ধান্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে। চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তে আর কোনো বিষয় চূড়ান্ত হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের নয় সদস্যের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ দু’জন উপস্থিত থাকলেই এতদিন কোরাম হতো। অধ্যাদেশ জারির ফলে কোরামের জন্য চেয়ারম্যানসহ অন্তত তিন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তির মধ্যদিয়ে পাহাড়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটে। সেই চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ের ভূমির অধিকার নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এ কমিশন গঠন করা হয়। তবে কমিশনের চেয়ারম্যানের হাতে একক সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা থাকায় ওই কমিশন কার্যকর হচ্ছিল না বলে অভিযোগ করে আসছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), যিনি জনসংহতি সমিতির সভাপতি।
রাঙ্গামাটি থেকে প্রতিনিধি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬ বাতিলের দাবিতে বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে স্থানীয় বাঙালিদের পাঁচ সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য গণপরিষদ, চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্যপরিষদ। আজও তারা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে।
হরতালের সমর্থনে রাঙ্গামাটি শহরে বুধবার সকাল থেকে শহরের বনরূপা, কাঁঠালতলী, পৌরসভা, রিজার্ভবাজার, তবলছড়ি, ডিসি অফিস এলাকা, কলেজগেট, ভেদভেদী ও মানিকছড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিকেটিংয়ে অংশ নেন হরতালকারীরা। এছাড়া হরতালের সমর্থনে শহরে বিক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন তারা। হরতালের কারণে শহরসহ জেলার কোথাও কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। হরতাল চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান থেকে প্রতিনিধি জানান, সংশোধিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিলের দবিতে বুধবার বান্দরবান জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকরা জেলা সদরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নেয়। শহরের দোকানপাট বন্ধ ছিল। জেলা সদর থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
খাগড়াছড়ি থেকে প্রতিনিধি জানান, বুধবার খাগড়াছড়িতে পাঁচ বাঙালি সংগঠনের ডাকে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়। ভোর থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করেনি। জেলা ও উপজেলার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। জেলার কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আজও এ জেলায় হরতাল পালন করবে পাঁচ সংগঠন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত