• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কূটনৈতিক জোনে চালু হল বিশেষ বাস ও রিকশা
ধর্মীয় বিষয়ে সন্তানকে নজরে রাখার পরামর্শ
কূটনৈতিক জোন গুলশান-বনানী-বারিধারা ও নিকেতন এলাকার জন্য বুধবার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ বাস এবং ভিন্ন রঙের রিকশা সার্ভিস চালু হয়েছে। অধিকতর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে এসব এলাকার জন্য স্বতন্ত্র পরিবহন ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। পর্যায়ক্রমে এর পরিমাণ বাড়ানো হবে। বাস সার্ভিসের নাম দেয়া হয়েছে নগর সার্কুলার বাস ‘ঢাকা চাকা’।
হাতিরঝিলসংলগ্ন গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে এক অনুষ্ঠানে এ পরিবহন সেবার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তার কড়াকড়িতে থাকা গুলশান এলাকার জন্য বিশেষ বাস ও রিকশা নামানোর কথা কয়েক দিন আগে ঘোষণা করেছিলেন ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএনসিসির উদ্যোগে নিটল- নিলয় গ্র“প ২০টি বাস চালু করেছে। শিগগিরই আরও ২০টি বাস চালু হবে। গুলশান-বনানী-বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটির উদ্যোগে বিশেষ রঙের ৫০০টি রিকশাও চালু করা হয়েছে। এসব রিকশা শুধু নির্দিষ্ট এলাকায় চলাচল করবে।
বাসের রুট সম্পর্কে জানানো হয়েছে, হাতিরঝিলসংলগ্ন পুলিশ প্লাজা থেকে গুলশান-২ নম্বর এবং কাকলি থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কে চলবে এসব বাস। যাত্রীরা যেখানেই নামুক, ভাড়া পরিশোধ করতে হবে ১৫ টাকা। অন্যদিকে ৫০০ রিকশার মধ্যে গুলশানে ২০০, বনানীতে ২০০, নিকেতন ও বারিধারায় ৫০টি করে রিকশা চলাচল করবে। চারটি আবাসিক এলাকার রিকশার ভিন্ন ভিন্ন রঙ থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, কূটনৈতিক জোনের জন্য স্বতন্ত্র বাস সার্ভিস চালু ডিএনসিসির অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে রিকশা একবার উঠিয়ে দেয়ার পর নতুন করে চালু করায় আবার যানজট তৈরি হবে কিনা তাতে সতর্ক নজর রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজধানীর আয়তন অনুপাতে ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি লোকের বসবাস করার কথা। সেখানে সোয়া দুই কোটি লোক বসবাস করছে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এ শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম রহমত উল্লাহ বলেন, গুলশানের ঘটনায় আমরা সতর্ক হয়েছি। গুলশানসহ আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, হলি আর্টিজানের ঘটনা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ব্যবসাসহ অন্য যেসব ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা ছিল দেশের, সেটা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন বিদেশীদের মাঝ থেকে শংকা দূর করতে হবে। এ সময় তিনি হঠাৎ ধর্মের প্রতি বিশেষ ঝোঁক এবং ইসলামের প্রচলিত নিয়ম নিয়ে কারও সন্তান সমালোচনা করলে তাকে নজরে রাখার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে তার ব্যাপারে পুলিশকে খবর দিতেও বলেন।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ও নগর সার্কুলার বাস ঢাকা চাকার পরিচালক আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এসব বাস ভারতে তৈরি। জ্যামে বাস আটকা থাকলেও এসি চলবে ভিন্ন ইঞ্জিনে। থাকবে ওয়াইফাই, টেলিভিশন সুবিধা। বাইরের শব্দ ঢুকবে না বাসের ভেতর। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান। সে কারণে আমি লাভ-ক্ষতির কোনো হিসাব ছাড়াই এ বাস সার্ভিস চালু করেছি। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও গুলশান সোসাইটির সভাপতি এটিএম শামসুল হুদা বলেন, জনবহুল শহরের বাসিন্দাদের চাহিদা থাকে পরস্পরবিরোধী। একটি কাজ শুরু করলে একপক্ষের সুবিধা হয় তো অন্যপক্ষের হয় অসুবিধা। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের রিকশা তুলে দিলে যানজট কমে। তবে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হলি আর্টিজানের হামলার ঘটনায় গুলশানসহ রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। এতে নগরবাসীর মাঝ থেকে আতঙ্ক কমেছে, আস্থা ফিরে এসেছে। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আনিসুল হক বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা চাকা বাস সার্ভিস তার বড় দৃষ্টান্ত। এ কাজ সম্পাদনের ৮০ ভাগ কৃতিত্ব গুলশান-বনানী-বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটি এবং এফবিসিসিআই সভাপতির। বাকি ২০ ভাগ কাজ শুধু আমরা করেছি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম, কাউন্সিলর ও সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত