• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
রাশেদ রাব্বি    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
দুই সপ্তাহ নষ্ট ডিএমসিএইচ’র সিটি স্ক্যান মেশিন
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিকল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসিএইচ) একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি। জটিল ও মারাত্মক সব রোগ নির্ণয়ের অন্যতম প্রধান এই যন্ত্র বিকল হওয়ায় রোগীদের একদিকে যেমন মারাÍক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তেমনি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে তাদের চিকিৎসা ব্যয়।
সোমবার সরেজমিন ডিএমসিএইচে গিয়ে দেখা যায়, সিটি স্ক্যান মেশিনের কক্ষে তালা ঝুলছে। তালার নিচে একটি কাগজে লেখা- ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বন্ধ থাকায় দুঃখিত’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে। তারপর থেকে বন্ধ রয়েছে রোগীদের সিটি স্ক্যান। এতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মুমূর্ষু রোগী থেকে শুরু করে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে যাদের সিটি স্ক্যান প্রয়োজন তাদের সিটি স্ক্যান করার জন্য অন্যত্র যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সিটি স্ক্যান সাধারণত জটিল রোগীদের করা হয়ে থাকে, যাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা প্রয়োজন। এছাড়া নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি এবং ট্রমাটাইজ রোগীদের চিকিৎসায় সিটি স্ক্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনটি ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দিয়ে থাকে। ভর্তি ও বহির্বিভাগের রোগী মিলিয়ে দিনে গড়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০টি সিটি স্ক্যান করা হয় এই মেশিনে। মেশিনটি নষ্ট হওয়ায় এসব রোগী জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাধ্য হয়ে ধানমণ্ডির ল্যাবএইড, মেডিনোভা, ইবনে সিনা, মডার্ন ইত্যাদি ডায়াগনস্টিকে ছুটছেন। ফলে একদিকে রোগীরা শারীরিক ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়েছে কয়েকগুণ।
জানা যায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাথা ও বুকের সিটি স্ক্যান করাতে ২ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। কিন্তু বাইরের যে কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে বা ক্লিনিকে এই পরীক্ষা করাতে মাথার জন্য ৪ হাজার এবং বুকের জন্য ৭ হাজার টাকা গুনতে হয়। কোনো রোগীর ‘হোল এবডোমিন’ সিটি স্ক্যান করাতে যেখানে ঢামেক হাসপাতালে লাগে ৪ হাজার টাকা, সেখানে অন্যত্র লাগে ১২ হাজার টাকা। সাধারণ গরিব রোগীদের পক্ষে যা একেবারেই অসম্ভব। এছাড়া মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের শুধু সিটি স্ক্যান করতে ডিএমসিএইচ থেকে ধানমণ্ডি যেতে অ্যাম্বুলেন্স বা সিএনজি খরচ হয় আরও ৫শ’ থেকে হাজার টাকা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার কথা ৬৪ স্লাইডের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটি। তবে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড না যেতেই সেটি এর আগে বহুবার নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে সেবা প্রদানের জন্য মেশিনটি পুরোপুরি অক্ষম। এই মেশিনটি চালু থাকলে দিনে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জামা হতো। কিন্তু মেশিন নষ্ট হওয়ায় হাসপাতালের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস বন্ধ।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি এবং ইমেজিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মেশিনটি নষ্ট হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের সেবা প্রদান করা যাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালের একটি যন্ত্র নষ্ট হলে তা ঠিক করতে নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়। এসব করতেই অনেকটা সময় চলে যায়। তিনি বলেন, কেনার সময় মেশিনটির ৫ বছরের ওয়ারেন্টি ছিল। তাই এর আগে যতবার নষ্ট হয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানি ঠিক করে দিয়েছে। এখন ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ। তাই এটি সরকারকেই ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে মেশিনটি সচল হতে ঠিক কতদিন লাগতে পারে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি এই চিকিৎসক।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত