• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মিরন শেখকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়ার নির্দেশ
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকারদের গুলিতে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যদাতা মিরন শেখকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। যশোরের কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের জোবেদ আলী শেখের ছেলে যুদ্ধাহত মিরন শেখ বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বুধবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল যশোরের রাজাকার সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়ে ঘোষিত রায়ে মিরন শেখকে স্বীকৃতির নির্দেশ দেয়া হয়। একাত্তরে এ সাখাওয়াতের হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মিরন। এতদিনেও তাকে মৃক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল বিস্ময়ও প্রকাশ করেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে, একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। জীবনধারণের জন্য তাকে এখন ভিক্ষা করতে হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের পবিত্র আকাঙ্ক্ষা এই যে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যশোরের কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের জোবেদ আলী শেখে ছেলে মিরন শেখের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় যুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ প্রসিকিউশনের বিভিন্ন সাক্ষীকে উদ্ধৃত করে রায়ে বলা হয়, মিরন শেখ একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন ‘সোর্স’ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আশ্বিন মাসের প্রথমদিকে একদিন সকাল ৬টায় চিংড়াবাজার রাজাকার ক্যাম্পের ৩০-৪০ জন রাজাকার তার বাড়ি ও গ্রাম আক্রমণ করে। তারা মিরন শেখ, স্বাধীনতাকামী গ্রামবাসী ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঘরে আগুন দেয়। মিরন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক ও হত্যার জন্য রাজাকার ও তাদের সহযোগীরা পিছু ধাওয়া করে। অভিযুক্ত রাজাকার আবদুল খালেক রাইফেল দিয়ে গুলি করে। তাতে বাঁ হাতের আঙুল থেকে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। এরপর তাকে অপহরণ করে চিংড়াবাজার রাজাকার ক্যাম্পে আটকে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য পেতে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। রাজাকার কমান্ডার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার বাঁ পা ভেঙে দেয়। রায়ের পর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল মিরন শেখের কথা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ মিরন শেখ ? যিনি যুদ্ধে এতখানি অবদান রেখেছেন, সেই লোক যদি আজ ভিক্ষা করে বেড়ায়, সেক্ষেত্রে সরকার ও জাতি তার জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করল? ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত দুঃখপ্রকাশ করে প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দিয়েছেন, এ ধরনের মুক্তিযোদ্ধা যারা রয়েছেন, বিশেষ করে মিরন শেখের জন্য যা করবার তা করতে হবে। তার কাজের স্বীকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতি যাতে আমরা দিতে পারি।’




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত