• বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯
সিরাজুল ইসলাম    |    
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
পিলার পাচারকারী চক্রের সদস্য ইমাম!
কোটি টাকার ম্যাগনেটিক পিলারসহ (ব্রিটিশ আমলের সীমানা নির্ধারক খুঁটি) গ্রেফতার এক মসজিদের ইমামসহ দু’জন এখন পুলিশের রিমান্ডে। তারা হল- যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ কাঁচাবাজার মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমান এবং পিলার পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা টিপু সুলতান।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, টিপু সুলতান দীর্ঘদিন ধরে পিলার পাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। মিজানুর রহমান হল তার সহযোগী। কেউ যাতে টিপু সুলতানকে সন্দেহ করতে না পারে, সেজন্য সে তার সহযোগী হিসেবে মসজিদের ইমাকে বেছে নিয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, এসআই বিলাল আল আজাদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে টিপু ও মিজানকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালত হাজির করা হলে আদালত তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিরা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির হওয়ায় রিমান্ডে মুখ খুলতে চাচ্ছে না। আজ তাদের আদালতে হাজির করে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। মামলার বাদী বিলাল আল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার তিনি তার টিমের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল হাসেম রোডের মাথায় বিশেষ ডিউটি পালন করছিলেন। রাত ১১টার দিকে তাদের কাছে খবর আসে, মাতুয়াইল পূর্ব কেরানিপাড়ায় জি বক্স ওষুধ কোম্পানির পাশে অবস্থিত টিপু সুলতানের বাড়িতে দু’জন চোরাকারবারি অবস্থান করছে। তাদের কাছে একটি সীমানা নির্ধারক পিলার আছে। ওই পিলারটি তারা বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। বিষয়টি থানার ওসিকে অবগত করে বিলাল ও তার টিমের সদস্যরা ওই বাড়িতে অভিযান চালান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে টিপু ও মিজান পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাদের আটক করে টিপুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পরে টিপুর বাসার খাটের নিচ থেকে ওই পিলারটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা পুলিশকে জানায়, তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুরনো সীমানা নির্ধারক বা ম্যাগনেটিক পিলার সংগ্রহ করে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে থাকে। উদ্ধার পিলারটিও একই উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। উদ্ধার পিলারের গায়ে ইংরেজি বড় অক্ষরে ‘বিইউআরএন৮সি’ এবং পিলারের মাথায় ‘বিআরএস’ লেখা আছে। পিরোজপুরে তাদের একটি চক্র সক্রিয় আছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক জানান, পুলিশের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার দু’জনই পিলার চোরাচালান চক্রের সদস্য। এদের মধ্যে টিপু হল অন্যতম হোতা। অত্যন্ত পেশাদার হওয়ায় তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যেসব বিষয় স্বীকার করেছে রিমান্ডে আসার পর সেসবও অস্বীকার করছে। শনিবার টিপু সুলতান পুলিশকে জানায়, সেকান্দার নামে এক ব্যক্তির কাছে সে আড়াই লাখ টাকা পেত। সেকান্দার তার বাড়িতে তিন মাস আগে পিলারটি রেখে যায়। পাওনা টাকা পরিশোধের পর পিলারটি সেকান্দার নিয়ে যাবে বলেও তাকে বলেছিল। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সেকান্দারের নাম-ঠিকানা, এমনকি মোবাইল ফোন নম্বর জানাতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে টিপু। টিপু জমির দালালির সঙ্গেও জড়িত বলে পুলিশকে জানিয়েছে। এসআই ওমর ফারুক জানান, উদ্ধারকৃত পিলারের মূল্য এক কোটি টাকার বেশি।
রিমান্ডে থাকা মিজানুর রহমান পুলিশকে জানায়, টিপু সুলতান তার পূর্বপরিচিত। এ সুবাদে টিপু তাকে জানিয়েছে, তার (টিপু) কাছে একটি পিলার আছে। ওই পিলারটি সে বিক্রি করতে চায়। এ কারণে সে ওই পিলারটি দেখতে টিপুর বাসায় যায়। ওই সময় পুলিশ অভিযান চালায়।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত