মো. আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে গুঞ্জন
আ’লীগ ও বিএনপি থেকে কে হচ্ছেন মেয়র প্রার্থী

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে ভাবনা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। আগামী নির্বাচনে বড় দুটি দলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। কে কোন দলের প্রার্থী হবেন- এ প্রশ্ন সবার মুখে। নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন, তারাও এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে, কেউ ঘরোয়া পরিবেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেউ অপেক্ষা করছেন দলীয় মনোনয়নের জন্য। অনেকে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঙ্গা হতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শিগগিরই গাজীপুর মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। তারপরই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে পুরোদমে মাঠে নামবে বিএনপি। রয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও।

২০১৩ সালের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে পরাজিত করেন। দেশের আলোচিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান নির্বাচিত হলেও মামলা-মোকদ্দমার কারণে প্রায় আড়াই বছর তিনি থেকেছেন দায়িত্বের বাইরে। আদালতের নির্দেশে গত ১০ জুলাই মান্নান ফের মেয়রের চেয়ারে বসেছেন। বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অধ্যাপক এমএ মান্নান দলীয় সমর্থন পেলেও তার সঙ্গে জোরালো প্রার্থী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। এবারও মেয়র পদে তার নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। বিএনপির একটি বড় অংশ মেয়র হিসেবে দক্ষ রাজনীতিবিদ এবং স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ হাসান উদ্দিন সরকারকেই চাচ্ছে। টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য গাজীপুরের শিক্ষাবন্ধু, সিংহ পুরুষখ্যাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার মেয়র পদে মনোনয়ন লাভের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে জেলা বিএনপির সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ও অধুনালুপ্ত কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত হোসেন সরকারও মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে সম্ভাব্য এ তিন প্রার্থীই বলছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন, আমরা এবারও ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে নামব। হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘যতই হামলা-মামলা-জেল-জুলুম চলুক না কেন, আওয়ামী লীগকে খালি মাঠ ছেড়ে দেয়া হবে না। নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। জনগণের প্রতি রয়েছে আমাদের পূর্ণ আস্থা। এখন আমরা নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে দল গোছানোর কাজ করছি।’

গত ১০ জুলাই সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান জানিয়েছিলেন আগামী সিটি নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। দল চাইলে তিনি নির্বাচন করবেন। বয়স ও অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তিনি প্রার্থী না হলে তার ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রনিকে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মান্নান সমর্থকরা দাবি জানিয়ে আসছেন। অপরদিকে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য দুই শক্তিশালী প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। টঙ্গী পৌরসভার বারবার নির্বাচিত মেয়র এবং স্থানীয় সরকার বিষয়ে অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান গত সিটি নির্বাচনে পরাজিত হন। তবে এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকরা দাবি করে আসছেন। আর গত সিটি নির্বাচনে আলোচিত বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। তিনি মনোনয়ন লাভের জন্য জোর চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আসাদুর রহমান কিরণ, যুগ্ম সম্পাদক শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল। অন্যদিকে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি থেকে মেয়র পদে এখন পর্যন্ত কারও নাম শোনা না গেলেও মহানগর জাসদ নেতা রাশেদুল হাসান রানা প্রার্থী হবেন। এ ছাড়া প্রার্থী হিসেবে হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা ফজলুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, প্রার্থী যারাই হোক, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তীব্র লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত