আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মহাসচিবের স্পষ্ট ইঙ্গিত
মহানগর সভাপতির পদ কি ছাড়তেই হচ্ছে সরোয়ারকে
শেষ পর্যন্ত বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ হয়তো ছাড়তেই হচ্ছে দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারকে। তেমনই ইঙ্গিতই দিলেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বরিশালে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই ইঙ্গিত দেন।
নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আগাগোড়াই ছিল অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সমর্থক নেতাকর্মীদের প্রাধান্য। তার পক্ষে স্লোগানও দিচ্ছিল তারা। অবশ্য এভাবে প্রাধান্য প্রমাণের নেপথ্যে ভিন্ন কারণ ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই। কেননা মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের থাকতে পারা না পারা নিয়ে প্রায় এক বছর ধরেই চলছিল গুঞ্জন। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় এক নেতা এক পদের সিদ্ধান্ত। সেই থেকেই আলোচনায় আসে বিষয়টি। একাধিক পদে থাকা নেতাদের যে কোনো একটি পদ রেখে বাকি পদ ছেড়ে দিতে বলা হয় কেন্দ্র থেকে। নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপির বহু নেতাই ছেড়ে দেন তাদের একের অধিক পদগুলো। যদিও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে বরিশালে। এখানে বহু পদে থাকা নেতাদের কেউই এখন পর্যন্ত ছাড়েননি তাদের একের অধিক পদ। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া কেন্দ্রের সহ-সভাপতির পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সভাপতি পদে থাকা শাহজাহান ওমর ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন জেলা সভাপতির পদ থেকে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পরও এসব প্রভাবশালী নেতার স্থানীয় পর্যায়ের পদ না ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বহুদিন ধরেই চলছে তোলপাড়। এরই মধ্যে আলতাফ চৌধুরী এবং মজিবর রহমান সরোয়ার বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে লিখিতভাবে জানান তাদের সর্বশেষ অবস্থান। বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, দলের স্বার্থে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকা প্রয়োজন তাদের। আরও নানাভাবে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন দু’জনই।
এ ক্ষেত্রে সরোয়ার কিছুটা সফল হলেও পুরোপুরি ব্যর্থ হন আলতাফ। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে পটুয়াখালীতে বড় ধরনের শোডাউন করতে গিয়ে নিজ দলেরই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত আর করতে পারেননি সেই শোডাউন। কেন্দ্রের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব ধরে রাখার এই নেপথ্য চেষ্টার বিষয়টি অবশ্য কখনই প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি মজিবর রহমান সরোয়ার। বরঞ্চ তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন, পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত তিনি। তবে তা হোক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায়। আনুষ্ঠানিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন তিনি। এক নেতার একাধিক পদ দখল করে রাখা প্রশ্নে চলমান এই আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার হাটে হাঁড়ি ভাঙেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের বক্তব্যই কেবল নয় বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসই প্রমাণ করে যে মজিবর রহমান সরোয়ার কতটা যোগ্য এবং দক্ষ একজন নেতা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে এসে বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তিনি আজ তার এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। তাকে সারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিন। তার জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব নেয়া উচিত।’ মহাসচিবের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে এটা হয়তো মীর্জা ফখরুলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিলেন যে বরিশাল মহানগরের পদ ছাড়তে হবে সরোয়ারকে। কেবল সরোয়ারই নন, এই অঞ্চলে যারা দলের একাধিক পদ দখল করে আছেন তাদের সবাইকেই হয়তো শেষ পর্যন্ত ছাড়তে হবে বাড়তি পদগুলো।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত