আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
চট্টগ্রামে দুই ভাই খুন
নেপথ্যে চোরাই মালের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ
পরিবারের মামলা ধরা পড়েনি আসামিরা
চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় দুই ভাইয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এখনও খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, চোরাই মালের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করেই এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় নিহত খোকনের ভাই ফারুক বাদী হয়ে শুক্রবার নগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হল : নিয়ামত আলী (৩৬), তার ভাই ছালামত আলী (২৬) ও আবুল কাশেম (৩৭)। আসামিরা সবাই নিহতদের প্রতিবেশী। আসামিরা ঘটনার পরপরই অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পর পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকার একটি বন্ধ কারখানার ভেতর থেকে রাশেদ (২৭) ও খোকন (২৫) নামে দু’জনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। তারা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। তাদের বাড়ি নগরীর হামিদচর এলাকায়। খোকনের ভাই ফারুক জানান, খোকন রাজমিস্ত্রির হেলপার আর রাশেদ চায়ের দোকানে কাজ করত।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিবেশী ছালামত আলী, আবুল কাশেম ও নিয়ামত আলীর সঙ্গে নিহত খোকন ও রাশেদের সখ্য ছিল। ছালামত, কাশেম ও নিয়ামত কালুরঘাট শিল্প এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতি করত। খোকন ও রাশেদও তাদের সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। ২৬ সেপ্টেম্বর চোরাই মালের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কাশেম, ছালামত ও নিয়ামতের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় দুই ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। দু’দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাশেদ ও খোকন নিখোঁজ হয়। তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে নিহতদের পরিবারের সন্দেহ- হয়তো তাদের খুন করা হয়েছে। কিন্তু সন্দেহভাজনরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা এ নিয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি। আবুল কাশেম, নিয়ামত আলী ও ছালামত আলী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এলাকায় তারা ডাকাত হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
শুক্রবার সকালে ৫২/৫৩ ন্যাশনাল আয়রন অ্যান্ড স্টিল কারখানায় দেখা যায়, ওই কারখানার যে স্থানে লাশ দুটি পাওয়া গেছে সেখানে বাইরের মানুষের তেমন যাতায়াত নেই। এর সামনের অংশে দারোয়ান থাকলেও পেছনের দিকে বাউন্ডারি ওয়াল টপকে অনায়াসে মানুষ ভেতরে ঢুকতে পারে। কারখানাটির পেছনের অংশে একটি নিরাপত্তা পোস্ট থাকলেও কারখানা বন্ধ থাকায় কোনো নিরাপত্তা কর্মী দায়িত্ব পালন করেন না। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার খোকন ও রাশেদ ঘাতকদের সঙ্গে বাউন্ডারি ওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। সেখানেই বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাদের খুন করে লাশ ফেলে যায় ঘাতকরা। ন্যাশনাল আয়রন কারখানার দারোয়ান মহিউদ্দিন যুগান্তরকে জানান, কারখানাটি ছয় মাস ধরে বন্ধ। সামনের প্রধান ফটকে নিরাপত্তা কর্মীরা তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সামনের গেট দিয়ে কোনো লোক ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ নেই। চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার যুগান্তরকে জানান, দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত