মিজান চৌধুরী    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আট হাজার নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত

মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে কুতুপালং, টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ৫ হাজার স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও ৩ হাজার নলকূপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত সভায় নেয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। এ কাজের সার্বিক মনিটরিং করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সার্বিক ব্যয় মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে ১৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্রমতে, ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মানবিক দিক বিবেচনায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য নলকূপ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন এ কাজ বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করার জন্য।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আড়াই হাজার নলকূপ ও ৩ হাজারের বেশি স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২৭টি বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে আরও নলকূপ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন করার কাজ চলছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর যে স্থানে নলকূপ কার্যকর হবে না সেখানে ওয়াটার ট্যাঙ্কের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে ওয়াটার পিউরিফাইং ট্যাবলেট ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়।সূত্রমতে, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের জন্য সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান হচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পাস)। সদস্যের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (পাস), অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ত এবং পরিকল্পনা), উপসচিব (পাস), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, (ভাণ্ডার এবং চট্টগ্রাম সার্কেল), উপপরিচালক (জিওবি, ইউনিসেফ প্রকল্প), উপসচিব (পাস-১)।

এ কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নলকূপ স্থাপন ও পানি সরবরাহের কারিগরি বিষয় সমন্বয় ও তদারকি করার দায়িত্ব দেয়া হয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরকে। এ কাজ বাস্তবায়নের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে চলতি বাজেট থেকে বিশেষ বরাদ্দের কয়েকটি প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দেয়া বরাদ্দ থেকে ব্যয়ের নির্দেশ দেয়া আছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু পয়োনিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়স্থল সংকটে অধিকাংশ রোহিঙ্গার মধ্যে রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। উখিয়ার কুতুপালং টিঅ্যান্ডটি, বালুখালী টিভি রিলে কেন্দ্র, হাতিরঢেরা, থাইংখালী, আঞ্জুমানপাড়া, থাইংখালী হাইস্কুল মাঠসহ সাতটি স্পটে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। সচ্ছল রোহিঙ্গারা বনভূমির পাহাড়ে পলিথিনের ঝুপরি বেঁধে আশ্রয় নিলেও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছে। তারা যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করছে। সুপেয় পানি ও শিশুখাদ্যের অভাবে বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে, অপরিচ্ছন্ন স্থানে বসবাস ও ময়লাযুক্ত পানি পান করার কারণে বিভিন্ন সংক্রামক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের আকুতি তাদের খাবার পানি ও ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করার। সূত্রেমতে, মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন নিয়ে এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২০০ স্যানিটারি ল্যাট্রিন ও ১২০০ নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৪টি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ৬টি ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ক্যারিয়ারের মাধ্যমে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কুতুপালং ও টেকনাফের রাস্তার পাশে ১ হাজার লিটারের ৮টি ওয়াটার রির্জাভ ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়। পানি বিশুদ্ধ করতে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়। এখনও ১৬ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় রাখতে ক্যাম্পগুলোতে ২৭ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে। আরও ১৩ ড্রাম রাখা হয়েছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত