যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সুজনের গোলটেবিল
দ্রুত সমাধান না হলে অস্থিতিশীলতা ছড়াবে
রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি মানবিক বিপর্যয়। ১৯৭১ সালের পর এমন বিপর্যয় আর আসেনি। দ্রুততম সময়ে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে এ সমস্যার সমাধান করতে না পারলে শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুজন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘রোহিঙ্গা সমস্যা : বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এ সময় সুজন নির্বাহী সদস্য ড. হামিদা হোসেন ও সৈয়দ আবুল মকসুদ, আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ, এম আনোয়ারুল হক, ড. সিআর আবরার, সাবেক এমপি এসএম আকরাম, রেহেনা সিদ্দীকী এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে লিখিত বক্তব্য
উপস্থাপন করেন সবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সুজন নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার। এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় জীবনে এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। ১৯৭৮ সালে থেকে এ সমস্যার শুরু। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের সরকারের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই। শরণার্থীদের তারা তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যাক।’
গোলটেবিল বৈঠকে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ইস্যু ভয়াবহ নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এ বিরাট উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ করে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। ফলে তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, এমনকি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে। উপরন্তু বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে যুক্ত হতে পারে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হল, চরম নিগৃহীত ও ক্ষুব্ধ এ জনগোষ্ঠীকে স্বার্থান্বেষী মহল উগ্রবাদের পথে প্ররোচিত করতে পারে, যা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো রিজিয়নকেই অস্থিতিশীল করে তুলবে।’
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত, নিগৃহীত। এ সংকটের আশু সমাধান প্রয়োজন। ১৯৭১-এর পরে বাংলাদেশে এ ধরনের জাতীয় দুর্যোগ আর আসেনি। এ সংকটের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, এটি মিয়ানমার সরকারের এক ধরনের ষড়যন্ত্র, যা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নয়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ড. হামিদা হোসেন বলেন, ‘আমাদের উচিত কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনটি নিয়ে কাজ শুরু করা। তিনি বলেন, সরকারকে বেসরকারি সংগঠন, সাধারণ জনগণ- সবাইকে নিয়ে এ সংকট সমাধানে কাজ করতে হবে। ’
মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, এ সংকটের ২টি দিক রয়েছে, একটি দিক হল, এত লোক আশ্রয়হীন হয়ে আমাদের দেশে এসে পড়েছে, তাদের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। অপরদিকটি হল এসব মানুষকে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, যা অকল্পনীয় ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এ ব্যর্থতা শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের।’ তিনি বলেন, অনেকে অভিযোগ করছে সরকার কাজ করছে না। এ কথা ঠিক নয়। ওরা সীমান্তে দুই ডিভিশন সৈন্য হাজির করেছে, সেজন্য তো আর আমরা সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করতি পারি না। তিনি বলেন, সরকার কাজ করছে। তবে সব কাজের ফল সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে অবশ্যই ফেরত পাঠাতে হবে এবং এজন্য আমাদের চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।’ আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবহিনী কর্তৃক রাখাইনে যে সহিংসতা ও সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, তা ভিন্ন মাত্রার। গণমাধ্যমের কারণে আজ এ ঘটনা সবাই অবগত। এ ঘটনা হিটলারের নাৎসী বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। মিয়ানমার পূর্বপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন চিন্তা করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ভারত ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভারত শুধু নিয়েই যাবে কিছু দেবে না, তা হতে পারে না। তিনি বলেন, সচিব পর্যায়ের কূটনীতি চালালে হবে না, মন্ত্রী পর্যায়ে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে। লিখিত বক্তব্যে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন নেত্রী অং সান সু চি বলেছিলেন, তার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। কেন তারা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু তার এ ভাষণের পরও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত যখন কক্সবাজার থেকে অন্য কূটনীতিকদের সঙ্গে সফর করে এসে বলেন, এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাঁবু ও কম্বল, তখন আমরা সত্যিই ব্যথিত হই।
প্রকৃতপক্ষে তাদের সর্বাগ্রে প্রয়োজন মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নিরাপদ ও সম্মানজনক ব্যবস্থা।’ যারা মিয়ানমারকে এ নিধনযজ্ঞে সক্রিয় বা নীরবে সমর্থন করছে, আমাদের প্রতিও তাদের দায়বদ্ধতা আছে। এটি কূটনৈতিক চ্যানেলে তুলে ধরতে হবে বারংবার। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।’



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত