যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রোহিঙ্গা সমস্যা বিহারিদের মতো হতে পারে
-ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী
বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে রোহিঙ্গা সমস্যা বিহারিদের মতো হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা
বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ডা. একিউএম
বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। আজ যেভাবে চলছে, সেভাবে চললে বিহারিদের মতো সমস্যা হতে পারে। রোহিঙ্গারা কতদিন, কত যুগ আমাদের দেশে থাকবে তা আমরা জানি না। এটি
সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হবে। অর্থনৈতিক সমস্য তো বটেই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণসংস্কৃতি দল আয়োজিত ‘দেশ বাঁচাতে ঐকমত্য’ শীর্ষক গণবৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বদরুদ্দোজা চৌধুরী এসব কথা বলেন। গণবৈঠকে ‘দেশে চলমান রাজনৈতিক ও রোহিঙ্গা সংকট’ শিরোনামে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস আল মামুনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে কোনো দলের সঙ্গেই ঐক্য হতে পারে বলে জানান বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে কোনো দলের সঙ্গে ঐক্যের ক্ষেত্রে আর কোনো অন্যায় হবে না- এমন প্রতিশ্রুতি চেয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় আছে। যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে হয়, তাহলে যে কোনো দলের সঙ্গে ঐক্য করতে রাজি আছি। কিন্তু যদি রাজনৈতিক সমস্যার কথা বলেন, তাহলে কিছু বক্তব্য আছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের কথা যদি বলি, তাহলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। সবাইকে সভা-সমাবেশ, মিছিল করতে দিতে হবে, পোস্টার লাগাতে দিতে হবে। সবাইকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দেশের পররাষ্ট্র নীতির সাফল্য নির্ভর করে সেই রাষ্ট্র কতটুকু গণতান্ত্রিক, গণতন্ত্র কতটা বিশ্বাস করে, সেই দেশে সত্যিকার অর্থে ভালো বিরোধী দল আছে কিনা- এসবের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের পররাষ্ট্র নীতির ব্যর্থতা, এটাই বড় কথা।
বি. চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে জুলুম করা হচ্ছে তা পূর্বপরিকল্পিত। এটা হঠাৎ করে হয়নি। এ ব্যাপারে দূরদর্শী হওয়া উচিত। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে রাষ্ট্রের যিনি প্রধান, তাকেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, মিয়ানমারের কাছে আমাদের যেতে হবে। আমরা জানি, তাদের চালায় চীন, রাশিয়া ও ভারত। এসব দেশে আগে লোক পাঠান, নিজে যান। এটি এক নম্বর ও ইমিডিয়েট সমাধান। রাষ্ট্রের প্রধান নিজের হাতে দায়িত্ব না নিলে এর সমাধান হবে না। দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে হলে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। না হলে বারবার এ সমস্যা হবে। এটা বোঝার মতো মনোবৃত্তি থাকতে হবে।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার ভালো আমি তা বলিনি। গত সরকারের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই- গত সরকার যারা চালিয়েছিলেন, তারা কি কোরআন শরিফে হাত দিয়ে বলতে পারেন, সন্ত্রাস, হত্যা খুন, ধর্ষণ এগুলো আর হবে না? গ্যারান্টি দিতে পারবেন? বলতে পারবেন বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন, সভা-সামাবেশ ও মতামত সব করতে দেবেন? গ্যারান্টি দিতে পারবেন, সরকারের ক্ষমতা সরকারের কাছে থাকবে, অন্য কারও কাছে থাকবে না? ওইখানেও একটি সরকার চালাবেন, এখানেও একটি সরকার চালাবেন- এটা করবেন না, বলতে পারবেন? একটা অফিস গুলশানে, আরেকটা অফিস লন্ডনে, হয় না, এভাবে হয় না। মন খুলে স্বীকার করতে হবে ভুল করেছি। কখনও স্বীকার করেছেন? এগুলো করেন, আমরা একসঙ্গে, এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা ঐক্য করব।
ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টি করেছে ভারত। এর মদদদাতাও ভারত। বাংলাদেশকে যদি বিরক্ত করা যায়, তাহলে তাদের সুবিধা। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে চিনতে পারছেন না।
আ স ম রব বলেন, আমরা জেনেছি যুদ্ধের উসকানি ছিল। যদি সেটাই হয়, আমরা জনগণ কেন সেটা জানতে পারলাম না। প্রধানমন্ত্রী এ অবস্থার মধ্যে বাইরে গেলেন কিভাবে। আমাদের পররাষ্ট্র নীতির চরম ব্যর্থতা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে আন্তরিক হলে আরেকটি সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতির অবস্থা এমন কেন?



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত