যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সুপ্রিমকোর্টের
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেছেন, যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য পূর্বশর্ত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিচার বিভাগের প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের ওপর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। তিনি শনিবার দুপুরে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে নবীন আইনজীবীদের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বার কাউন্সিল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২০১২ সালের ২২ এপ্রিল অন্তর্ভুক্তি পাওয়া আইনজীবীদের সনদ বিতরণের এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতিন খসরু ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও সাংবিধানিক অধিকার পূরণে আইনজীবী সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ, আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রাখেন। তিনি বলেন, আইন পেশায় দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। প্রশিক্ষণ ছাড়া পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জন করা দুরূহ। তাই বার কাউন্সিলকে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের ওপর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে বারের ভূমিকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী ও সহযোগিতামূলক বার নিঃসন্দেহে বেঞ্চের কার্যকর বন্ধু। তিনি বলেন, একটি প্রচলিত প্রবাদ হল- ‘যেখানে আইনের শাসনের পতন হয়, সেখানেই স্বৈরাচারের উত্থান হয়।’
আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৩০ লাখের বেশি মোকদ্দমা শুনানি ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এটা সুস্পষ্ট, বিচারাধীন মামলার অনুপাতে বিচারকের সংখ্যা অনেক কম। তা সত্ত্বেও ঝুলে থাকা মামলাগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কারণ বিচার প্রার্থীরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী পেশাজীবী শ্রেণী হলেন বিচারক ও আইনজীবীরা। তিনি বলেন, এখনও সব শ্রেণীর নাগরিক বিবাদ নিষ্পত্তি, তাদের অধিকার সুরক্ষায় যে কোনো কর্তৃপক্ষ, এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার জন্যও আদালতের শরণাপন্ন হন।
‘প্রবীণ আইনজীবীরা নবীন আইনজীবীদের শিক্ষাগুরুতুল্য’ মন্তব্য করে আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, প্রবীণ আইনজীবীদের নবীনদের আইনের ব্যবহারিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি প্রফেশনাল কনডাক্ট অ্যান্ড এটিকেট সম্পর্কে শিক্ষাদান করতে হবে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা হচ্ছেন সামাজিক প্রকৌশলী, আর বিচারকরা হচ্ছেন ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের মাধ্যমে বিচারক এবং আইনজীবীদের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনজীবী ও বিচারকদের সম্পর্ক একটি পাখির দুটি পালকের মতো, একটি গাড়ির দুটি চাকার মতো, ডান হাত বাম হাতের মতো, ডান চোখ বাম চোখের মতো, বাম পা ডান পায়ের মতো। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য দু’পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে বিচার প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং মামলা নিষ্পত্তির চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করা সম্ভব হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত