খুলনা ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
খুলনায় বাড়িভাড়া লাগামহীন নাজেহাল ভাড়াটিয়ারা

খুলনা নগরীতে প্রতি বছর লাগামহীনভাবে বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে নাজেহাল হয়ে পড়ছেন ভাড়াটিয়ারা। বছরের শেষে এসে ভাড়া বাড়ানোর নোটিশ দিচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। ঘরপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা হারে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। যারা বাড়তি ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না তাদের ঘর ছেড়ে দিতে নোটিশ দিচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধিতে ভাড়াটিয়াদের নাভিশ্বাস উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মধ্যে বিরোধও তৈরি হচ্ছে। বাড়িভাড়া নিয়ে আইন থাকলেও সেটির কোনো বাস্তবায়ন নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১০ বছরে খুলনা মহানগরীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে দুই থেকে আড়াই গুণ। নানা অজুহাতে বছরে কয়েক দফা বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। বাড়তি ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে ভাড়াটেদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভাড়াটিয়ারা। নতুন বছরে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভাড়াটিয়ারা। নতুন বাড়ি খুঁজতে গিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নগরীর ছোট মির্জাপুর এলাকার ভাড়াটিয়া মুসাফির ইসলাম। তিনি জানান, তিন বছর আগে বাড়িওয়ালার সঙ্গে সাড়ে ছয় হাজার টাকা চুক্তিতে তিনি ঘর ভাড়া নেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িওয়ালা তিন হাজার টাকা ভাড়া বাড়িয়েছেন। এ কারণে তাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হচ্ছে। তবে বাড়িওয়ালারা যেভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করছে তাতে বাসা পেতে তাকে বেগ পেতে হবে বলে তিনি জানান।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, খুলনা শহরের প্রায় ১৭ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষের নিজস্ব বাড়িঘর নেই। এতে আরও দেখা যায়, প্রায় ৯৫ শতাংশ ভাড়াটে এবং ৭০ শতাংশ মালিক বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে জানেন না। বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত ১৯৬৪ সালের ভাড়াটে আইন অকেজো হয়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোন বাড়ির ভাড়া কেমন হবে তা নির্ধারণ করবে আইন। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৫ ধারা অনুসারে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়ার বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী বাড়ির বাজার মূল্যের ১৫ শতাংশের সমান হবে বাড়িভাড়া। অর্থাৎ বাড়ির মোট মূল্যের ১৫ ভাগ এক বছরের জন্য ভাড়া দেয়ার বিধান রয়েছে। এর ১২ ভাগের এক ভাগ মাসিক ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে। বাড়িভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে বাড়ির মালিকের সঙ্গে এক বছরের একটি লিখিত চুক্তি করতে হবে। সেখানে ভাড়া ও অন্য সুবিধাসহ সব বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকবে। তবে বাড়িভাড়া দেয়া ও নেয়ার ক্ষেত্রে এ আইনের কোনোটি মানা হয় না।

নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডের এক বাড়িওয়ালা জানান, প্রায় প্রতি বছর সরকার বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাম বাড়াচ্ছে। ফলে আমরা বাড়িভাড়া না বাড়িয়ে পারছি না। এছাড়া প্রতিটি জিনিসের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। বাড়িভাড়া আইন সম্বন্ধে শুনেছি। তবে আইন মানা হয় না। জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী নগরীতে ৬৯ হাজার ২৭৯টি হোল্ডিং (বাড়ি) রয়েছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত