যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
বাড়ি ফিরেছে মুক্তামনি
হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছে বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামনি। শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরার দক্ষিণ কামারবাইশার বাড়িতে পৌঁছে সে। তার বাড়ি ফেরার খবরে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। এর আগে সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে আশা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের একটি গাড়িতে চড়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা হয় মুক্তামনি ও তার বাবা-মা।
হাসপাতাল ছাড়ার আগে শিশু মুক্তামনি বলে, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার খোঁজখবর ও দায়িত্ব নেয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানায় সে।

সকাল ৬টার দিকে মুক্তামনির মা আসমা খাতুন বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাগ গোছানো শুরু করেন। মুক্তামনির ছোট ভাইয়ের রাত থেকে জ্বর। তাই সে ছিল ভীষণ অস্থির। মুক্তামনির মা আসমা খাতুন বলেন, ‘যেদিন মুক্তামনিকে নিয়ে হাসপাতালে আসি, সেদিনও ছেলের গায়ে জ্বর ছিল। বাড়ি যাচ্ছি, আজও ছেলের গায়ে জ্বর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি ওর জন্য ডাক্তারদের আর কিছু করার নেই, থাকলে তারা করতেন। তাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি দেখিনি।’ মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আপনারা সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’
সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ৬০৯ নম্বর কেবিন থেকে ট্রুলিতে করে বের করে আনা হয় মুক্তামনিকে। এর আগে তাকে বিদায় জানান দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. সোনিয়া।
মুক্তামনি যখন হাসপাতালে ভর্তি হয়, তখন ওর ইচ্ছা ছিল চিকিৎসা শেষ করেই বাড়ি ফিরে আবারও স্কুলে ভর্তি হবে। টানা ছয় মাসের চিকিৎসা ও অপারেশন শেষে মুক্তামনির হাত স্বাভাবিক হয়নি। তাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্নও আপাতত পূরণ হচ্ছে না শিশুটির।
মুক্তামনির বাড়ি ফেরার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘মুক্তামনি বাড়ি যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিল। তাই বাড়ি যেতে বলেছি। কিছুদিন বাড়িতে ঘুরে আসুক।’
হাসপাতাল সূত্রে জানায়, মুক্তামনি চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার মা-বাবা মেয়েকে সুস্থ করার জন্য স্থানীয় এবং ঢাকার অনেক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করান। কিন্তু কোনো চিকিৎসকই তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এরপর বেশ কিছুদিন বাড়িতেই ছিল সে। তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট মুক্তামনির চিকিৎসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে সেখানে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ হয়। এ সময় তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ঢামেকের চিকিৎসকরা। সব রিপোর্ট দেখার পর সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা মুক্তামনির চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ঢামেকের চিকিৎসকরাই তার অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই মধ্যে মুক্তামনির চিকিৎসার সব ধরনের খরচের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত