যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
অর্থনীতি সমিতির সম্মেলনে ডেপুটি স্পিকারের প্রশ্ন
‘পাশের লোকগুলো সৎ না হলে শেখ হাসিনা কতক্ষণ টিকবেন’
জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা সন্দেহ * আইনজীবী, ডাক্তার এবং সাংবাদিকদের নৈতিকতা খুবই জরুরি
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে বিশ্বের তৃতীয় সৎ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তার ডানে-বামে যে মানুষগুলো থাকেন তারা সৎ না হলে তিনি কতক্ষণ টিকবেন? শনিবার রাজধানীর কাকরাইলের ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ অর্থনীতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়াও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা সন্দেহ করেন তিনি। সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত এবং অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, অর্থনীতি সমিতির এবারের সম্মেলনে প্রতিপাদ্য বিষয় নৈতিকতা। বিষয়টি খুবই প্রাসঙ্গিক। কারণ সমাজ পরিবর্তনে পেশাদারদের সৎ ও নৈতিক হতে হয়। তিনি বলেন, সততার দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশ্বের তৃতীয় সৎ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বের চতুর্থ কর্মঠ প্রধানমন্ত্রীও তিনি। কিন্তু তার ডানে-বামে যারা আছেন, তারা সৎ না হলে তিনি কতক্ষণ টিকবেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশে দুই নেত্রীর মধ্যে একজন (শেখ হাসিনা) সততায় শীর্ষে থাকেন, আর অন্যজনকে (খালেদা জিয়া) এতিমদের সম্পদ লুটের জন্য আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। ফলে আপনারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্ধারণ (সিলেক্ট) করবেন তা সিদ্ধান্ত নেন।
ফজলে রাব্বী আরও বলেন, ৪৬ বছর পর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্কোর ঐতিহাসিক সনদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর এ ভাষণই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তার মতে, যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিষিদ্ধ করতে পারে, সেই জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা সন্দেহ আছে। তিনি আরও বলেন- জিয়াউর রহমান কবে, কোথায়, কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন তার সহকর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা কি জবাব দেবেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা আছে, সব এখানে বলা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমি অশালীন ও অশোভন কথা বলে ফেলি। পরে চিন্তা করি লোকে খারাপ বলে। কিন্তু এ ভেবে সান্ত্বনা পাই, যে সত্য কথা বলেছি। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী যখন বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে শিক্ষকরা জড়িত। তখন অনেক কষ্ট লাগে। এরাই জাতি গড়ার কারিগর। কোথায় এ শিক্ষকদের নৈতিকতা। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যখন বলেন, সবাই এ প্লাস পেলেও মাত্র একজন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে পাস করেছে, তখন মনে হয় শিক্ষার মান কোথায় গেছে। তিনি বলেন, আমি তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। অমুকের ছেলে তমুক এভাবে আসিনি। ফলে দেশ সম্পর্কে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার মতে, সমাজে তিনটি পেশার মানুষের নৈতিকতা খুবই জরুরি। এরা হলেন- আইনজীবী, ডাক্তার এবং সাংবাদিক। পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরা নৈতিক না হলে অর্থনীতি সামনে এগোবে না। তাদের এক হয়ে মানবকল্যাণের অর্থনৈতিক নীতি তৈরির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
ড. আবুল বারকাত বলেন, এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় অর্থশাস্ত্রে নৈতিকতা। বিশ্বের কোনো দেশের অর্থনীতি সমিতি এ ধরনের একটি শিরোনাম করার সাহস পায়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে। কারণ হল, অর্থনীতি হল নৈতিক বিজ্ঞান। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনের মূল কয়েকটি বিষয়ে বেরিয়ে এসেছে। আর তা হল- দীর্ঘদিন থেকে দেশের অর্থশাস্ত্রের সঙ্গে নৈতিক বিষয়টি উপেক্ষিত। কেউ কেউ মনে করেন এটি অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু এবারের সম্মেলনে বার্তা হল, এটি একেবারে ভ্রান্ত ধারণা। কারণ অর্থনীতি সমাজের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মঙ্গলের জন্য হলে নৈতিকতা থাকতেই হবে।
আবুল বারকাত বলেন, অর্থনীতিতে মৌলিক ৪টি বিষয় হল- উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন এবং ভোগ। এ চারটি বিষয়ের সঙ্গে নৈতিকতা না থাকলে সমাজে বৈষম্য এবং অসমতা বাড়বেই। ব্যবহারিক অর্থনীতিতে নীতি ও কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের একটি বিষয় গুরুত্ব দিতে হবে। যা হল এমন পলিসি নিতে হবে, সমাজে যার স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব থাকে। অর্থনীতি সমিতির এ সাবেক সভাপতি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা একজন শিক্ষার্থীকে বিছিন্ন যন্ত্রতে পরিণত করে। ফলে শিক্ষার্থী হয়ে পড়ে অসার। এ কারণে অর্থনীতির শিক্ষা ব্যবস্থায়ও নৈতিকতা আনতে হবে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত