যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করছে উদ্যমী তরুণরা
আলমগীর হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ, চুনারুঘাট
মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের আলোকচিত্র ও স্মৃতি সংরক্ষণে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার একদল উদ্যমী তরুণ। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গত ২০ দিনে জীবিত ও শহীদ প্রায় আড়াইশ’ মুক্তিযোদ্ধার ছবি সংগ্রহ করেছে। বিজয় দিবসে এসব মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার স্মৃতির প্রদর্শনীও করা হয়েছে। তরুণ দলের এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর থেকে নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জীবিত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছবি ও স্মৃতি সংগ্রহ শুরু করেন তারা। চুনারুঘাট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (সিপিএস) ব্যানারে গত ২০ দিন কাজ করার পর প্রায় আড়াইশ’ জীবিত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ছবি সংগ্রহ করতে পেরেছেন। আর তাদের সংগৃহীত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের স্মৃতি নিয়ে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর চুনারুঘাট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দু’দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বেশ কয়েকজন বীরাঙ্গনার ছবিও। এ কাজে সহযোগিতা করে স্থানীয় সংগঠন পদক্ষেপ গণপাঠাগার ও উপজেলা প্রশাসন। প্রদর্শনী দেখতে আসা চা শ্রমিক মুক্তিযোদ্ধা দুর্গেশ মুন্ডা (৭০) যুগান্তরকে বলেন, নালুয়া বাগান এলাকায় তার বাড়িতে গিয়ে এই তরুণের দল তার ছবি তুলেছেন। সেই ছবিগুলো প্রদর্শনীতে দেয়া হয়েছে। এজন্য তিনি নিজেকে খুবই ধন্য মনে করছেন। মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পর এমন উদ্যোগ সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন দুগেশ মুন্ডা। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চুনারুঘাট পৌর এলাকার আবদুল গফফার, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সামাদ, মুক্তিযোদ্ধা ছোট বারেক, রানীগাঁও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হান্নান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি উৎপল সিংহ জানান, মুক্তিযুদ্ধে অনেকেই শহীদ হয়েছেন, অনেকেই যুদ্ধাহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের ফসল আজ স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পরও সেই মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়নি। তাই তাদের এমন উদ্যোগ। সাধারণ সম্পাদক আফজাল রহমান বলেন, পরে বড় আকারে এ কাজ করা হবে। বের করা হবে বই।
সদস্য রাসেল দেব বলেন, উপজেলায় জীবিত-মৃত ৫৫৭ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন আলাদা করে তালিকা করে ছবি সংগ্রহ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণে ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও পেজ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সিপিএসের উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম জার্নাল যুগান্তরকে বলেন, ’মুক্তিসৈনিকদের চলমান চিত্র তুলে ধরতে চাই। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে চাই। তাদের রয়েল নেভি ট্রেনিং ছিল না, ট্যাংকে চড়ে বা হেলিকপ্টারে উড়ে যুদ্ধ করেননি। তারা খুবই সাধারণ মানুষ ছিলেন। তারা বেঁচে থাকবেন যতদিন বাংলাদেশ আছে।’ তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন ইত্যাদি তথ্য তারা ছবির সঙ্গে সংরক্ষণ করবেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত