আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম    |    
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
৫ বছর বিদেশে থেকেও বেতনের আবদার!
বিনা অনুমতিতে পাঁচ বছর বিদেশে কাটানোর পর এখন বিদ্যালয় থেকে বেতন উত্তোলনের চেষ্টা করছেন এক শিক্ষক। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোহাগাড়ার গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন মো. রফিকুল ইসলাম। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে তিনি বিদেশে চলে যান। পাঁচ বছর পর দেশে ফিরে তিনি এখন চাকরি ও বেতন চেয়ে আবেদন করেছেন।
২০১২ সালের ৪ অক্টোবর থেকে একটানা পাঁচ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও গণিতের শিক্ষক রফিকুল চাকরি ফিরে পেতে ও বেতনের জন্য বিভিন্ন স্থানে আবেদন করেন। ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জনতা ব্যাংকের লোহাগাড়া শাখার ব্যবস্থাপক বরাবরে আবেদন করেন তিনি। আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ‘জটিল রোগে’ আক্রান্ত। অথচ তিনি ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে ছিলেন এবং সেখানে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেছেন। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটিতে মামলা চলছে।
এদিকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি একাধিকবার রফিকুলকে কারণ দর্শানো নোটিশ ও চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো উত্তর দেননি রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। পুটিবিলা ইউনিয়নের গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজম খান জানান, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাজালিয়া দিয়ারকুল এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে রফিকুল ছুটি না নিয়ে ২০১২ সাল থেকে স্কুলে একটানা অনুপস্থিত রয়েছেন। সেই সময় জানা যায় তিনি সৌদি আরবে গেছেন। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চেয়ে তার বাড়ির ঠিকানায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তিনটি চিঠি পাঠায়। এর মধ্যে তার পরিবার একটি চিঠি গ্রহণ করে। ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় চূড়ান্ত কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়। এর দু’দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় সংশোধনী দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে উপস্থিত হতে বলা হয়। এতে সাড়া দেননি রফিকুল।
প্রধান শিক্ষক আজম খান আরও বলেন, ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর পরিচালনা কমিটির কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ গিয়ে রফিকুল চাকরি করছেন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।
অনুসন্ধানে রফিকুলের ভিসা ও পাসপোর্টের কিছু কাগজপত্র বেরিয়ে এসেছে। তার ভিসা আবেদন নং-ই-২৩৬৭৫২৬৯৫। পেশা- শ্রমিক এবং তার পাসপোর্ট নম্বর বিপি ০৫২৫১১৩। দেশে এসে চাকরিতে যোগদান এবং বেতন উত্তোলনের দরখাস্ত জমা দিয়ে ২৬ অক্টোবর আবারও রফিকুল সৌদি আরব চলে যান। রফিকুল বিদেশে থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভাপতি শাহেদা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে রোববার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। কাগজপত্র দেখে কমিটির সদস্যরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত